• ই-পেপার

সৌরভের ফের অসুস্থতার খবরে বিজেপিতে উদ্বেগ

  • অমিত শাহ যোগাযোগ করলেন সৌরভের পরিবারের সঙ্গে

কারামুক্তির পর বন্দিদের অধিকার নিয়ে সরব ইতালির কট্টর ডানপন্থী নেতা

অনলাইন ডেস্ক
কারামুক্তির পর বন্দিদের অধিকার নিয়ে সরব ইতালির কট্টর ডানপন্থী নেতা
ছবি: রয়টার্স

ইতালির কট্টর ডানপন্থী নেতা ও রোমের সাবেক মেয়র জিয়ান্নি আলেমান্নো কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এবার বন্দিদের অধিকার এবং কারাগারের মানবিক পরিবেশ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর আইন-শৃঙ্খলার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই রাজনীতিকের এমন পরিবর্তিত অবস্থান ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

৬৮ বছর বয়সী আলেমান্নো গত ২৪ জুন রোমের রেবিব্বিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পান। এটি ইতালির সবচেয়ে বড় কারাগারগুলোর একটি। অতিরিক্ত বন্দি ও জরাজীর্ণ পরিবেশের কারণে কারাগারটি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত। প্রভাব খাটানো এবং দায়িত্বের অপব্যবহারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি ১৮ মাস কারাভোগ করেন। যদিও শুরু থেকেই তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। তার লেখাগুলো ইতালির কারাগার ব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে নতুন করে জনমত তৈরি করেছে। আলেমান্নো রয়টার্সকে বলেন, ‘যারা কারাগারে থেকেছেন বা যাদের পরিবারের কেউ কারাগারে আছেন, শুধু তারাই এই সমস্যাগুলো বুঝতে পারেন। অন্যরা বিষয়টি বুঝতেই পারেন না।’ তিনি জানান, রেবিব্বিয়া কারাগারে এটিই তার প্রথমবার নয়। ১৯৮২ সালে কট্টর ডানপন্থীদের এক বিক্ষোভে সোভিয়েত দূতাবাসে মলোটভ ককটেল ছোড়ার ঘটনায় তিনি ১০ মাস কারাভোগ করেছিলেন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর আবার একই কারাগারে গিয়ে কাকতালীয়ভাবে সেই একই সেলে থাকার সুযোগ পান। সেই স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সেল থেকেই আমি ১৯৮২ সালে ইতালির ফুটবল বিশ্বকাপ জয় দেখেছিলাম।’

আলেমান্নো দীর্ঘদিন ধরেই ইতালির ডানপন্থী রাজনীতির পরিচিত মুখ। তিনি রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী এমএসআই দলের যুব শাখায়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির সরকারে কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি রোমের মেয়র ছিলেন। কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতার পর আলেমান্নো এখন ইতালির কারাগার ব্যবস্থার নানা সমস্যা তুলে ধরছেন। তার মতে, অতিরিক্ত ভিড়, নোংরা পরিবেশ, বিচার বিভাগে জনবল সংকট, জটিল প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বন্দিদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব পুরো ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলেছে। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে বরং তাদের আবার অপরাধের দিকেই ঠেলে দেয়। আলেমান্নোর ভাষায়, যারা খারাপ কাজ করতে চান, তাদের জন্য সব পথ খোলা। তারা যা ইচ্ছা করতে পারেন। কিন্তু যারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান, তাদের সামনে অসংখ্য বাধা তৈরি করা হয়। কারাগারে থাকার সময় তিনি হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত এক সহবন্দীর সঙ্গে যৌথভাবে ফেসবুকে একটি ডায়েরি লিখতেন। তিনি জানিয়েছেন, সেই লেখাগুলো শিগগিরই বই আকারে প্রকাশ করা হবে।

কারামুক্তির পর আলেমান্নো সাবেক সেনা জেনারেল রোবের্তো ভান্নাচ্চির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে একসঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। ভান্নাচ্চি কট্টর ডানপন্থী অবস্থান এবং বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য পরিচিত। তার নতুন রাজনৈতিক দল ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। তবে কারাগার নিয়ে ভান্নাচ্চির অবস্থান আলেমান্নোর চেয়ে অনেক কঠোর। আলেমান্নো মুক্তি পাওয়ার দিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবেল আর কাইনের মধ্যে আমি আবেলের পক্ষেই আছি। আর কাইনের কারাগারেই পচে থাকা উচিত।’ তিনি আরো বলেন, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর, দীর্ঘমেয়াদি এবং কড়া শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার কারাগারের ধারণক্ষমতা ১৫ হাজার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত বন্দিদের চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়, যাতে কারাগারের অতিরিক্ত ভিড় কমানো যায়। তবে ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো কারাগারের জায়গা তৈরি হয়নি। বন্দিদের স্থানান্তর নিয়ে প্রস্তাবিত আইনও এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৭ সালে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আইনটি পাস না হলে সেটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ইতালির কারাগারগুলো ইউরোপের সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকা কারাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম। ধারণক্ষমতার তুলনায় সেখানে প্রায় ১৪০ শতাংশ বন্দি রয়েছেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন জোট ও মধ্য-বাম বিরোধী জোটের সমর্থন প্রায় সমান। এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কড়া অবস্থানের রাজনৈতিক চাপের কারণে সরকার কারাগার সংস্কারে বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আলেমান্নো আশাবাদী। তার বিশ্বাস, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কারাগার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সব দলের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি লড়াই, যেখানে বাম ও ডান উভয়পক্ষকেই একসঙ্গে আসতে হবে।’

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলার ষড়যন্ত্র, অভিযুক্ত ৮

অনলাইন ডেস্ক
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলার ষড়যন্ত্র, অভিযুক্ত ৮
ছবি : রয়টার্স

হোয়াইট হাউসে ইউএফসি কেজ-ফাইটিং অনুষ্ঠানে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত জুনে অনুষ্ঠিত ওই ইভেন্টে ব্যর্থ হামলার ছক আঁকার দায়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ওহাইওতে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্তের এই অভিযোগ আনা হয়। 

তদন্তকারীরা জানান, হোয়াইট হাউসে ‘ফ্রিডম ২৫০’ নামের একটি ইউএফসি ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চরমপন্থী ও প্রান্তিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী এই চক্রটির লক্ষ্য ছিল ড্রোন ও স্নাইপার ব্যবহার করে সেখানে ভয়াবহ হামলা চালানো। তাদের পরিকল্পনা ছিল অনুষ্ঠান চলাকালীন বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন উড়িয়ে নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো। এরপর আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ মানুষ যখন প্রাণভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করবে, তখন স্নাইপার বা দূরপাল্লার বন্দুক দিয়ে ভিড়ের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো। এই হামলার মাধ্যমে মার্কিন সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশা করেছিল চক্রটি।

অভিযোগপত্র অনুসারে, এই চক্রান্তের সূত্রপাত হয়েছিল গত মে মাসে। তখন থেকেই দলটি টাকা, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বডি আর্মার, বিস্ফোরক, ড্রোন ও যোগাযোগের উন্নত সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে শুরু করে। তবে অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার চার দিন আগে, ১০ জুন মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দারা এই সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি টের পেয়ে যান।

গত মাসে ওহাইও, মিসৌরি, ওয়াশিংটন, নেব্রাস্কা ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ওহাইওর ১৯ বছর বয়সী তরুণ টাইসেন সি. প্রোপার অন্যতম। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এই মামলায় অষ্টম ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত মূল ৮ জনকেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া ২১ বছর বয়সী এই আসামির নাম চ্যান্ডলার ডি. স্ক্যাগস, যিনি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা।

তদন্তের নথিপত্র অনুযায়ী, এই হামলার পরিকল্পনায় স্ক্যাগসকে একজন ‘স্নাইপার’ বা লক্ষ্যভেদীর ভূমিকা দেওয়া হয়েছিল। চক্রের অন্য সদস্য প্রোপার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও, স্ক্যাগস অন্য আরেক সহ-ষড়যন্ত্রকারীর সাথে মিলে সেই ইভেন্টে গিয়ে হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন।

আটক সবার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদান, সরকারি সম্পত্তিতে হত্যাকাণ্ড ঘটানো ও সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর দুইটি পৃথক ফেডারেল অপরাধের চার্জ গঠন করা হয়েছে।

অগ্নিকুণ্ডে মসজিদের প্রতিরূপ স্থাপনে গ্রেপ্তার ১, নিন্দায় মুখর উত্তর আয়ারল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক
অগ্নিকুণ্ডে মসজিদের প্রতিরূপ স্থাপনে গ্রেপ্তার ১, নিন্দায় মুখর উত্তর আয়ারল্যান্ড
ছবি: রয়টার্স

উত্তর আয়ারল্যান্ডের একটি ব্রিটিশপন্থী শহরে বড় একটি অগ্নিকুণ্ডের ওপর মসজিদের আদলে তৈরি একটি প্রতিরূপ বসানোর ঘটনায় বৃহস্পতিবার ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার, স্থানীয় রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন নেতা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন উপকরণ প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা হুমকিমূলক, অপমানজনক বা বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রতি বছর ১২ জুলাইয়ের স্মরণ অনুষ্ঠানের আগের রাতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধানত প্রোটেস্ট্যান্ট ও ব্রিটিশপন্থী এলাকাগুলোতে বড় বড় অগ্নিকুণ্ডে আগুন জ্বালানো হয়। ১৬৯০ সালে বয়েনের যুদ্ধে রোমান ক্যাথলিক রাজা জেমসকে পরাজিত করেছিলেন উইলিয়াম অব অরেঞ্জ। সেই বিজয়ের স্মরণে বহু বছর ধরে এই আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবার কাঠের প্যালেট দিয়ে তৈরি একটি উঁচু অগ্নিকুণ্ডের ওপরে মসজিদের আদলে একটি প্রতিরূপ বসানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার এক মাসের মাথায়। অগ্নিকুণ্ডের নিচে দুটি ব্যানার টাঙানো ছিল। একটিতে লেখা ছিল, 'আমাদের সীমান্ত নিরাপদ করুন।' অন্যটিতে লেখা ছিল, 'উগ্র ইসলামবাদের হুমকি বন্ধ করুন।'

ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডবিষয়ক মন্ত্রী হিলারি বেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, এটি কোনো ঐতিহ্যের অংশ নয় এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষের মতামত বা মূল্যবোধেরও প্রতিনিধিত্ব করে না। তিনি সবাইকে এমন ঘৃণামূলক আচরণের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে তিনি 'ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত ভয় দেখানোর চেষ্টা' বলে মন্তব্য করেন। আইরিশ জাতীয়তাবাদী দল সিন ফেইনের প্রতিনিধি কলম গিল্ডারনিউ ঘটনাটিকে স্পষ্ট ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি পুলিশকে দ্রুত ওই প্রতিরূপটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ব্রিটিশপন্থী প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মসজিদের প্রতিরূপটির একটি জানালায় একজন মানুষের কুশপুত্তলিকাও রাখা হয়েছিল। তার হাতে ছুরির মতো দেখতে একটি বস্তু ছিল। এ বিষয়টিও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের অগ্নিকুণ্ড ঘিরে বিতর্ক বেড়েছে। আগে এসব অগ্নিকুণ্ডে ক্যাথলিক আইরিশ রাজনীতিকদের ছবি, কুশপুত্তলিকা বা ক্যাথলিকবিরোধী স্লোগান দেখা যেত। তবে এখন কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোর পরিবর্তে অভিবাসীবিরোধী ছবি, প্রতীক ও বার্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।\

গত বছর বেলফাস্ট থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ময়গাশেলের একই স্থানে একটি নৌকায় থাকা শরণার্থীদের প্রতিরূপ তৈরি করে তাতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনাটিও অভিবাসীদের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর ঘটেছিল এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এদিকে গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনা দেখা যায়, যেখানে একজন ব্যক্তি একটি চোখ হারান। এরপর উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গাকারীরা জাতিগত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, সুদান বা চাদ থেকে আসা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো উত্তর আয়ারল্যান্ডে অভিবাসন, ধর্মীয় বিভাজন এবং ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
 
 

কঙ্গোয় নতুন এলাকায় ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০

অনলাইন ডেস্ক
কঙ্গোয় নতুন এলাকায় ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০
ছবি : রয়টার্স

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সাথে দেশটিতে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কঙ্গো সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসের মূল কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশের বাইরে এবার নতুন করে তশোপো ও ওত-উয়েলে প্রদেশেও সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তশোপো প্রদেশের কিসাঙ্গানিতে দুইটি নতুন সংক্রমণের ঘটনা সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ওত-উয়েলে প্রদেশে ঠিক কতজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে জানাননি। কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে মোট নিশ্চিত ইবোলা সংক্রমণের সংখ্যা ১,৭৫৯ জনে পৌঁছেছে।

তশোপো প্রদেশে শনাক্ত হওয়া দুই সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে একজন ইতুরি প্রদেশের নিয়া-নিয়া স্বাস্থ্য অঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত, যেখানে প্রথম এই প্রাদুর্ভাবের ঘটনাগুলো সামনে এসেছিল। তবে অন্য রোগীর ক্ষেত্রে পূর্বের কোনো প্রাদুর্ভাব বা আক্রান্ত এলাকার সাথে স্পষ্ট কোনো ভৌগোলিক সংযোগ পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবটি মহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ইবোলা প্রাদুর্ভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের নজরদারির আড়ালে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর, গত ১৫ মে কঙ্গো সরকার নতুন করে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সংক্রমণটি বিরল ‘বান্ডিবুগিও’ ভাইরাসের কারণে ঘটেছে, যার কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ও প্রতিষেধক খোঁজার আশায় গবেষকদের বহু প্রতীক্ষিত একটি গবেষণার পর গত সপ্তাহ থেকে এর চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) শুরু হয়েছে।

তবে কঙ্গোতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের এই প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে তহবিলের তীব্র ঘাটতি, অন্যদিকে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় সংঘাতময় এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বারা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে পুরোপুরি কাজ করতে পারছেন না।

সৌরভের ফের অসুস্থতার খবরে বিজেপিতে উদ্বেগ | কালের কণ্ঠ