ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, ইসরায়েল এমন একটি গোয়েন্দা তথ্য জানিয়েছে আমেরিকাকে। ইরানের এই হত্যা পরিকল্পনাটি একেবারেই নতুন বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএন এ খবর প্রকাশ করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। সাড়ে ৩ মাসেরও বেশি সময় যুদ্ধ চলার পর গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং ৬০ দিনের মধ্যে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। কিন্তু গত ৬ ও ৭ জুলাই ইরান হরমুজ প্রণালিতে ৩টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালালে পরদিন ৮ জুলাই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিল ঘোষণা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালায়।
ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। ইসরায়েলের এই গোয়েন্দা তথ্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের এই গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে আরো ভয়ংকর হামলায় প্ররোচিত করতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান যুদ্ধে টেনে এনেছিল। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসতে চাইলেও ইসরায়েল ছিল অনড়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক কিছুটা শীতলতা আসে।
এমনকি ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে। শান্তি আলোচনা থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত নানা ধাপে ইসরায়েল তা নস্যাতের চেষ্টা করেছে।
এমনকি শান্তি আলোচনা ভণ্ডুল করতে মধ্যস্থতাকারী ইরানের দুই নেতাকে হত্যারও ষড়যন্ত্র করেছিল ইসরায়েল। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও লেবাননে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি বাতিলের চেষ্টা করেছে ইসরায়েল। তবে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাতিল ও ইরানে নতুন করে হামলার পর উল্লসিত ইসরায়েল শিবির।
ট্রাম্পকে হত্যা পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করে ইসরায়েলের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সস্পর্ক পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেলো। গত বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। শিগগিরই তিনি ওয়াশিংটন সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শান্তির পথ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার যুদ্ধের পথে নিতে পারাটা ইসরায়েলের জন্য বিরাট সাফল্য হিসেবেই বিবেচিত হবে।
ইসরায়েল ঠিক কবে গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও, চলতি সপ্তাহেই তারা এটি করেছে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে ক্রমাগত গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিল। তবে ইসরাইলের কাছ থেকে পাওয়া এই সতর্কবার্তাটি একেবারেই নতুন এবং এটি একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ইসরায়েল যে চক্রান্তের বিষয়ে সতর্ক করেছে তার বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত দুটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেরা এই তথ্যটি যাচাই করেনি এবং ইসরায়েলের সতর্কবার্তা পাওয়ার আগে তারা এই ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট চক্রান্তের ওপর নজর রাখছিল না।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের যেকোনো তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কেউ কেউ সন্দেহের চোখে দেখে। মার্কিন সরকার অবশ্য দীর্ঘ দিন ধরেই সতর্ক করে আসছে, ২০২০ সালে ট্রাম্পের আদেশে চালিত একটি ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান তাকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে।
গত বুধবার ট্রাম্পের কথায়ও তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা আছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা মার্কিন নেতাকে, অর্থাৎ আমাকে, সরিয়ে দিতে চায়। আমি তাদের যেকোনো তালিকায় আছি। আজ সকালে আমি দেখলাম যে আমি তাদের প্রতিটি তালিকায় রয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি মনে করি আমি কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম, তবে হয়তো এটি খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। এরা অত্যন্ত দুষ্ট ও অসুস্থ মানুষ এবং আমাদের এই ক্যান্সারকে উপড়ে ফেলতে হবে। সেই ক্যান্সার। আপনারা জানেন এই ক্ষেত্রে কী করতে হয়? ক্যান্সারকে শুরুতেই কেটে বাদ দিতে হয়। এবং আমিও ঠিক তেমনটাই অনুভব করি।’
ইরান সরাসরি কখনো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হৃমকি দেয়নি। তেমন কোনো পরিকল্পনার কথাও স্বীকার করেনি। তবে গত সপ্তাহে ইরানের প্রয়াতের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় ইরানের ক্ষুব্ধ জনগণ ট্রাম্পের মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই খামেনি নিহত হন।