• ই-পেপার

দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল : কল্লোল সংঘকে হারিয়ে চমক বিজি প্রেসের

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে রেফারির সব সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল—স্প্যানিশ কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে রেফারির সব সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল—স্প্যানিশ কোচ
ছবি : গ্যারি স্মিথ

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মিসরের নাটকীয় ৩-২ ব্যবধানে হারের পর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তা নিয়ে সরব গোটা ফুটবলবিশ্ব। রেফারিং বিতর্ক নিয়ে এবার মুখ খুললেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। রেফারির সিদ্ধান্তগুলোকে সম্পূর্ণ সঠিক ও ন্যায়সংগত বলে সমর্থন করেছেন এই স্প্যানিশ কোচ।

ডিএজেডএন স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন তিনি। ফুয়েন্তে বলেন, আমি সত্যি বুঝতে পারছি না, আর্জেন্টিনা বনাম মিসর ম্যাচের রেফারিকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আপনি আমাকে কেন জিজ্ঞাসা করছেন। এই প্রসঙ্গটা কোথা থেকে এলো? 

 

আমি পুরো ম্যাচটি দেখেছি এবং আমার মনে হয়েছে রেফারি প্রতিটি সিদ্ধান্তই সঠিক নিয়েছেন। আমি বরং রেফারিকে অভিনন্দন জানাতে চাই, কারণ তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত একদম নিখুঁত ছিল বলে যোগ করেন।

নাটকীয় এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা শুরুতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়

ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মিসরের মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) মিসরের একটি গোল বাতিল করেন।

প্রথমার্ধে মিসরের বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টি দেওয়া হয় এবং শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ সালাহ বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলেও পেনাল্টি পায়নি মিসর।

মিসরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে অভিযোগ করেন, অফিশিয়ালরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। মিসরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এই রেফারিংকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা দিয়েছে।

ফিফা রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কোলিনা রেফারির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক ছিল বলে সমর্থন জানান এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দেন। এরই মধ্যে স্প্যানিশ কোচও রেফারির পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং পক্ষপাতিত্বের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

ইংল্যান্ডকে নিয়ে বিনয়ী নরওয়ের গোলমেশিন

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডকে নিয়ে বিনয়ী নরওয়ের গোলমেশিন
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-নরওয়ে। শেষ মুহূর্তে অনুশীলনে ব্যস্ত উভয় দলই। সেই সাথে সাজাচ্ছে নিজেদের কৌশল। এ সময় ইংল্যান্ডকে নিয়ে সাবধানী উচ্চারণ নরওয়ের গোলমেশিন হালান্ডের। তার দাবি, বিশ্বকাপে নরওয়ে দুর্দান্ত ফর্ম সত্ত্বেও কোয়ার্টারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডই ‘ফেভারিট’।

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে সাত গোল করে সর্ব্বোচ্চ গোলের তালিকায় চতুর্থ নম্বরে আছেন হালান্ড। এর মধ্যে দুই করেছেন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয় ব্রাজিলের বিপক্ষে। খবর ইয়াহু নিউজ

নরওয়ে এর আগে কখনো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছায়নি। প্রথমবার কোয়ার্টারে উঠে ইংল্যান্ডকে হারানোর সম্ভাবনা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে হলান্ড বলেন, ‘এখনো খুবই কম। আমার মনে হয় টুর্নামেন্টে কিছু স্পষ্ট ফেভারিট দল আছে, ইংল্যান্ড তাদের অন্যতম।’

আমি মনে করি, সবারই বিনম্র থাকা উচিত। তবে হ্যাঁ, পরের রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের (ইংল্যান্ডের) আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত। কারণ এটা ইংল্যান্ড বলে যোগ করে হালান্ড।

ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার ইংল্যান্ডের লিডসে জন্মগ্রহণ করলেও আন্তর্জাতিক স্তরে নরওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। ব্যক্তিগতভাবে এই ম্যাচটি তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি বিশেষ ম্যাচ। আমার জন্য এটি অত্যন্ত স্পেশাল, কারণ আমি ইংল্যান্ডে খেলি, ইংল্যান্ডে জন্মেছি এবং এখানে নিজের (ক্লাব) সতীর্থদের বিপক্ষে খেলতে হবে।’

আগামী রবিবার মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় সাদিও মানের

ক্রীড়া ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় সাদিও মানের
সেনেগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না সাদিও মানেকে। ছবি : রয়টার্স

ঘোষণাটা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন সাদিও মানে। বিশ্বকাপ শেষেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের পাট চুকাবেন তিনি। সেই কথা রাখলেন সেনেগালের কিংবদন্তি।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে সেনেগালের বিদায় নিশ্চিত হতেই অবসরের ঘোষণা দিলেন মানে। তাতে একটা যুগেরই যেন সমাপ্তি ঘটল। ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ারের পথচলা থামিয়ে দিলেন তিনি।

বিদায়ি বার্তায় সেনেগালের মানুষদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে মানে বলেছেন, ‘এই পতাকার জন্য আমি সব কিছু উৎসর্গ করেছি। নিজের সবটুকু নিংড়ে দিয়েছি এবং মাতৃভূমির জন্য সব সময় প্রাণপণ লড়েছি। আপনাদের অবিচল সমর্থনই ছিল আমার সফলতার মূল চালিকাশক্তি।’

 

খেলোয়াড় হিসেবে সম্পর্কের ছেদ ঘটলেও আগামীতে দেশের ফুটবলে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চান মানে। তিনি বলেছেন, ‘আগামীতে নিজের অভিজ্ঞতাকে দেশের সেবায় কাজে লাগাতে পারলে অত্যন্ত আনন্দিত হবো—কোচিং স্টাফের অংশ, কোচ হিসেবে ডাগআউটে বসেই হোক, কিংবা প্রশাসনিক কোনো ভূমিকায়।’

২০১২ সালে সেনেগালের হয়ে অভিষেক হয় মানের। এ সময় দেশের হয়ে ১৩০ ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ৫৪ গোল করেছেন তিনি। সেনেগালের হয়ে জিতেছেন ২০২১ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স। সর্বশেষ টুর্নামেন্টেও মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। কিন্তু ফাইনালে রেফারির পেনাল্টি দেওয়ার প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাদের শিরোপা কেড়ে নিয়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল। পরে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

আন্তজার্তিক ছাড়লেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন মানে। বর্তমানে আল-নাসরের হয়ে সৌদি প্রো-লিগ মাতাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। এ ছাড়া লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো দলের হয়েও খেলেছেন তিনি।

যে কারণে মেসিকে ফাইনালে চান ইয়ামাল

ক্রীড়া ডেস্ক
যে কারণে মেসিকে ফাইনালে চান ইয়ামাল
মেসির সঙ্গে জার্সি বদল করতে চান ইয়ামাল। ছবি : রয়টার্স

খেলোয়াড়দের জার্সিসহ অন্যান্য কিট পাওয়ার আশায় তীর্থের কাকের মতো থাকেন ভক্ত-সমর্থকরা। সুযোগ পাওয়া মাত্রই প্রিয় খেলোয়াড়ের কাছ থেকে পছন্দের কিটটি চেয়ে বসেন। খেলোয়াড়রাও সেই চাওয়া পূর্ণ করেন। 

তবে শুধু কি ভক্ত-সমর্থকরাই তীর্থের কাক হয়ে থাকেন? এমনটা অবশ্য না। কখনো কখনো খেলোয়াড়রাও প্রতিপক্ষ কিংবা সতীর্থর কিট পাওয়ার আশায় থাকেন। খেলার মাঠে এমন মুহূর্ত অনেকবারই দেখা গেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ার খায়েশ লামিনে ইয়ামালের।

ইয়ামালের চাওয়া, মেসির সঙ্গে জার্সি বদল করবেন তিনি। আর সেই মুহূর্তটি বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে করতে চান তিনি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন ইচ্ছের কথাই জানিয়েছেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড।

সংবাদমাধ্যমটির ‘র‌্যাপিড ফায়ার’ অনুষ্ঠানে ইয়ামালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—কোন খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সি বদল করতে চান? ১৮ বছর বয়সী লামিনের উত্তর, ‘মেসি।’ আরেক প্রশ্নে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, স্পেন যদি ফাইনালের টিকিট পায় তাহলে প্রতিপক্ষ হিসেবে কাকে দেখতে চান? স্পেন তারকার উত্তর, ‘আর্জেন্টিনা।’

আরেক প্রশ্নে স্পেনের সাবেক কোন ফুটবলারকে বিশ্বকাপের এই দলে নিতে চান, এমনটা জানতে চাওয়া হলে ইয়ামাল বলেন, ‘আন্দ্রে ইনিয়েস্তা।’

ইয়ামালের চাওয়া পূরণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য অবশ্য আর্জেন্টিনা-স্পেন দুই দলকে নিজ নিজ ম্যাচে জিততে হবে। তবেই আগামী ১৯ জুলাই রাতে নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে মেসি-ইয়ামালের দেখা হবে। এ জন্য আরো দুই ধাপ পেরোতে হবে তাদের। আজ রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। অন্যদিকে শেষ আটে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা।