• ই-পেপার

ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল মাদরাসাছাত্রীর

ববিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী

ববি প্রতিনিধি
ববিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর-উত্তম) ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ একটি সামাজিক আন্দোলন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশকে সবুজায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন।’ এ উদ্যোগ সফল করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বৃক্ষরোপণসহ পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।

অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্মারক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী ঘোষণা করা হয়। আয়োজকরা জানান, এ কর্মসূচির আওতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের ১০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের ১০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শামরার মাঠ এলাকার বিলে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া সাইম (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রের মরদেহ প্রায় ১০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ডুবুরিদল। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নতুন বাস্তপুর এলাকার শামরার মাঠের বিলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইম নতুন বাস্তপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। সে দামুড়হুদা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে চাচাদের সঙ্গে বিলে মাছ ধরতে যান সাইম। এক পর্যায়ে সে পানিতে নামলে স্রোতের টানে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা স্বজনরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।

পরে স্থানীয়রা কলাগাছসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে দর্শনা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পরে খুলনা থেকে আসা ডুবুরিদল বিকেলে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। টানা অনুসন্ধানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিখোঁজের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর সাইমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সাইমের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

তিনি সবাইকে পানি ও আগুনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগে বন্যার শঙ্কা, প্লাবিত অন্তত ৬০ গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগে বন্যার শঙ্কা, প্লাবিত অন্তত ৬০ গ্রাম
পুরনো ছবি (সংগৃহীত)

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সিলেট বিভাগজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এরই মধ্যে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৬০টি গ্রাম। সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও দ্রুত বাড়ছে। এদিকে মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আশরাফ আলী ওরফে আশই মিয়া (৭০) মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ধারণা, বাড়ির পাশে বন্যার পানির স্রোতে পড়ে তিনি তলিয়ে যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

মৌলভীবাজারে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ৩৫ গ্রাম

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজনগর উপজেলার আকুয়া এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে টেংরা ইউনিয়নের প্রায় ৩৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

প্লাবিত গ্রামের মধ্যে রয়েছে উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল ও পণ্ডিতনগর। এ ছাড়া রামভদ্রপুর, সালন, পাইকপাড়া, ডেফলউড়া, গণেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর ও ভাঙ্গারহাট এলাকাও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিন মিয়া বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

হবিগঞ্জে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হঠাৎ করে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় অর্ধলাখের বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজারসংলগ্ন এলাকায় নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে মাছুলিয়া পয়েন্টের শহররক্ষা বাঁধ। স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন।

হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, পানি আরো বাড়লে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক ডা. জিএম সরফরাজ জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি

পাউবো সূত্র জানায়, সিলেট জেলার ১১টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টেই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাইঘাটে সুরমা নদী, জকিগঞ্জের অমলসিদে কুশিয়ারা এবং ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

পাউবোর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিলেটের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সিলেটে বন্যার বড় কারণ মেঘালয়ের অধিক বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল। আগামী অন্তত তিনদিন মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হবে। সুতরাং সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করছি।’

অন্যদিকে সুনামগঞ্জে এখনো নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও তা দ্রুত বাড়ছে। জেলা প্রশাসন প্রতিটি উপজেলায় তথ্যকেন্দ্র চালু করেছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘সুনামগঞ্জ ও ছাতক পয়েন্টে সুরমার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে আছে। সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার ও লাউড়েরগড় পয়েন্টে ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে যাদুকাটা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে আছে।’

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মেয়র শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মেয়র শাহাদাত
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহযোগিতা করছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রামে ৬ দিনের টানা ভারি বর্ষণে মৌসুমের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এদিন মেয়র শাহাদাত চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচলাইশ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অক্সিজেন কুয়াইশ সংযোগ সড়কের ওয়াজেদিয়া, বোর্ড অফিস, চালিতাতলী বাজার, হাজীপাড়া, বেলতলা, শহীদনগরসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থানরত হাজারো মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এর আগে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পর থেকে সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দশ হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা বসে থাকিনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করেছি। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কোথায় পানি আটকে আছে, কিভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়, এসব বিষয়ে একযোগে কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন, খাল ও নালা সচল রাখা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মাসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের নির্দেশনা গ্রহণ করেন। এ সময় মেয়র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাফর আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক জি এম আইয়ুব খান, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জসিম, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম, পাঁচলাইশ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক শামসুল আলম, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আবু, সদস্য সচিব সোলায়মান বাদশা, বিএনপি নেতা মোরশেদুল আলম, লিয়াকত আলী জসিম, মোহাম্মদ ইসমাইলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।