যে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে, সেই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রেই ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ২৭ সপ্তাহের বেশি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
আজ শুক্রবার বিষয়টি সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম বরখাস্তের নিশ্চিত করেছেন। বরখাস্তরা হলেন ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার এবং আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীটি ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সরকারি শিশু পরিবার থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের সময় স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখ (৫৪) গত ৫ জানুয়ারি তাকে চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘটনাটি গোপনই থেকে যায়। গত ৬ জুলাই শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে ওই কিশোরীকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসক জানান সে ২৭ সপ্তাহ ২ দিনের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর গত ৮ জুলাই অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, সরকারি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে থাকা একজন কিশোরী প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হলেও বিষয়টি এত দিন কারও নজরে আসেনি। সরকারি শিশু পরিবারে আবাসিক শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শারীরিক পর্যবেক্ষণ ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু এই ঘটনায় সেই তদারকি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা।
তারা জানান, শুধু একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেই দায় শেষ হয় না। কিভাবে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে থাকা কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন অদৃশ্য থেকে গেল, সেটিও তদন্তের বিষয় হওয়া উচিত।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে কিশোরীকে শিশু পরিবার থেকে সরিয়ে সমাজসেবা বিভাগের অধীন নারী ও শিশু কিশোরী হেফাজতিদের আবাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।’




