রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় জমির দখলসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে।
রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার বসিলা গার্ডেন সিটি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন— মাওলানা জাহিদ, মো. ফাহিম, আবু জাফর, হুজাইফা ও তাফরিম। অন্য পক্ষে রাসেল, রুবেল, তন্ময় ও সাগর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বসিলা গার্ডেন সিটির ৪০ ফিট সড়কের দক্ষিণ পাশে নদীসংলগ্ন একটি জমির দাগ ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা রয়েছে। কয়েক বছর আগে মুফতি নুরুল আমিন শেখসহ কয়েকজন ইমাম ওই এলাকায় জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওয়াকওয়ে ও বিআইডব্লিউটিএর নদীসীমানা নির্ধারণ এবং গার্ডেন সিটি হাউজিংয়ের উন্নয়নকাজের কারণে তাদের জমির একটি বড় অংশ কর্তন করা হয়। এ নিয়ে একাধিক বৈঠকের পর তাদের চার কাঠা জমি বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সমঝোতা হলেও একটি ‘তৃতীয় পক্ষ’ নিজেদের স্বার্থে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে এবং জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়। হামলার শিকার পক্ষের দাবি, হামলাকারীরা জমি দখলের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি একটি টাইলস কারখানা থেকে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে তাদের মুঠোফোনে এবং প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ আলী বলেন, ‘বসিলা গার্ডেন সিটি এলাকার এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা রয়েছে। আবু জাফর নামের এক ব্যক্তি গত সাত-আট বছর ধরে ওই জমি বাউন্ডারি দিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। ইমামদের জমি কেনা সঠিক হলেও সেটি তাদের দখলে ছিল না। এভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও কুপিয়ে আহত করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জমিসংক্রান্ত বিরোধ হাউজিং কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করা উচিত ছিল।
হামলায় আহত জমির মালিক আবু জাফর অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবার জমিতে একটি কারখানা ভাড়া দেওয়া আছে। ঘটনার দিন জানতে পারি কয়েকজন জমি দখলের চেষ্টা করছে। সেখানে গিয়ে দেখি একটি দল লুটপাট চালাচ্ছে এবং কেয়ারটেকারকে মারধর করছে। আমরা প্রতিবাদ করলে তারা চলে যায়। পরে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করে। আমরা মামলা করলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুফতি নুরুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘বসিলায় জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় পৃথক মামলা করেছে। একটি মামলার নম্বর ২২। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




