• ই-পেপার

সোলায়মানি হত্যায় জড়িত সিআইএ এজেন্টকে ফাঁসিতে ঝুলাবে ইরান

২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের, অভিযোগ অস্বীকার করল বেইজিং

অনলাইন ডেস্ক
২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের, অভিযোগ অস্বীকার করল বেইজিং
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থা গুরুতর সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে থাকা গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা তুলে নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউস থেকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২ কোটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও কারচুপির মাধ্যমে প্রভাবিত করা সম্ভব হতে পারে। ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা নিরাপদ নয় এবং এটি হ্যাকিংয়ের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। তার ভাষায়, প্রত্যেক ভোটারের অধিকার রয়েছে এমন একটি ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার, যেখানে ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং কারচুপি বা বাইরের হস্তক্ষেপ প্রায় অসম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তা সেই মান থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। ট্রাম্প আরো জানান, নির্বাচনী অবকাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা দ্রুত তুলে নেওয়া হবে। তার দাবি, ওই তথ্য প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা আগে ধারণা করা তুলনায় অনেক বেশি সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’–এর কিছু সদস্য চীনের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে। চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নতুন নয়।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাইবার–সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর উদ্দেশ্য ছিল জনমতের প্রবণতা বোঝা। তবে ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো কোনো প্রমাণের কথা বলা হয়নি। অন্যদিকে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা ৬০টির বেশি মামলা করেছিলেন। কিন্তু কোনো আদালতেই এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ভোট পুনর্গণনা, বিভিন্ন নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগও এমন কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

২৪ মিনিটের ভাষণের শেষ দিকে ট্রাম্প ‘সেভ অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানান। এই আইনের পূর্ণ নাম ‘সেইফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট’। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। তবে ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, এই আইন কার্যকর হলে লাখ লাখ যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যায় পড়তে পারেন। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের আইনে নাগরিক নন—এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া আগে থেকেই অবৈধ। এছাড়া এমন ঘটনা খুবই বিরল বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে দেওয়া তার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করায় কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব সম্প্রচারমাধ্যম তার ভাষণ দেখায়নি, তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেন, এসব গণমাধ্যম নির্বাচন–সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অংশ। ভাষণে তিনি এবিসি এবং এনবিসি নেটওয়ার্কের নামও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের দূতাবাস। দূতাবাসের মুখপাত্র  লিউ চাং বলেন, চীন সব সময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন দেশটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। চীন কখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

তাপপ্রবাহে চীনা এসির দিকে ঝুঁকছেন ইউরোপের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
তাপপ্রবাহে চীনা এসির দিকে ঝুঁকছেন ইউরোপের মানুষ
ছবি: রয়টার্স

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে চীনের গৃহস্থালি যন্ত্র নির্মাতা ‘মিডিয়া’র বহনযোগ্য এসি ‘পোর্টাস্প্লিট’ এই গ্রীষ্মে ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত পণ্যগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। অনেক দেশে বাজারে আসার পরপরই এটি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এমনকি পুনরায় বিক্রির ওয়েবসাইটগুলোতে এটি স্বাভাবিক দামের দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ বছর পশ্চিম ইউরোপে রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস পার হয়েছে। জার্মানির অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গ্রীষ্ম শেষ হওয়ার আগে আরও কয়েকটি তাপপ্রবাহ হতে পারে। এর ফলে যেসব দেশে আগে এসির ব্যবহার তুলনামূলক কম ছিল, সেখানেও এখন এসব যন্ত্রের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জার্মানির হামেলিন শহরের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী প্রকৌশলী স্টিভেন শোলটিসেক কয়েক মাস আগে একটি চিলেকোঠার ফ্ল্যাটে ওঠেন। এমন ফ্ল্যাট গরমের সময় খুব দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে যায়। তিনি বলেন, গরমের দিনে ছাদের নিচের এসব ফ্ল্যাটে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরপর তিনি মিডিয়ার তৈরি পোর্টাস্প্লিট এসি কেনেন। তার ভাষায়, এই যন্ত্র কেনার পর পুরো পরিস্থিতিই বদলে গেছে। এখন তীব্র গরমেও তিনি স্বস্তিতে থাকতে পারছেন। শুধু জার্মানিতেই নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অনেক ব্যবহারকারী।

মিডিয়া আগে ইউরোপে খুব পরিচিত ব্র্যান্ড ছিল না। তবে পোর্টাস্প্লিট বাজারে আসার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন দোকানে থাকা এসব যন্ত্র দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। পরে অনেক ক্রেতা সেগুলো অনলাইনে পুনরায় বিক্রির জন্য তুলেছেন। সেখানে প্রায় ৭৫০ ইউরো দামের যন্ত্র দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কোথায় এই এসি পাওয়া যাচ্ছে, তা জানাতে ‘মিডিয়াফাইন্ডার’ নামে একটি আলাদা ওয়েবসাইটও চালু হয়েছে।

ইউরোপের অনেক শহরে পুরোনো ও ঐতিহাসিক ভবনের বাইরের দেয়ালে ছিদ্র করে প্রচলিত এসির বাইরের ইউনিট বসানোর ওপর কঠোর নিয়ম রয়েছে। ফলে অনেক বাসিন্দা চাইলে সাধারণ এসি লাগাতে পারেন না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে পোর্টাস্প্লিট। এতে একটি হালকা বাইরের ইউনিট থাকে, যা ব্যবহারকারীরা সহজেই জানালার বাইরে বসাতে পারেন। এজন্য ভবনের দেয়ালে কোনো পরিবর্তন করতে হয় না। মিডিয়ার দাবি, এই যন্ত্র ইউরোপের অধিকাংশ ধরনের জানালার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার বাসিন্দা ডেনিস ইউরচাক বলেন, মিডিয়া এই সমস্যার খুব কার্যকর একটি সমাধান বের করেছে। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে তাপপ্রবাহের সময় এসি খুঁজতে গিয়ে প্রথম পোর্টাস্প্লিট সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে অনলাইনে ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক মতামত দেখে তিনি এটি কেনেন। তার ভাষায়, এখন এই যন্ত্রকে ঘিরে এক ধরনের ব্যবহারকারী সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর প্রতিদিনই অনেক মানুষ তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইছেন। তিনি বলেন, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি দিন-রাত প্রায় সারাক্ষণ এসিটি চালিয়ে রেখেছিলেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’কে মিডিয়া জানিয়েছে, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে তাদের এসি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যদিও বিবিসির কাছে প্রতিষ্ঠানটির ইউরোপ কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেনি। শুধু মিডিয়াই নয়, চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান 'টিসিএল' জানিয়েছে, শুধু ফ্রান্সেই তাদের এসি বিক্রি ৩০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় এসি নির্মাতা চীনের ‘গ্রি’ও বলেছে, এ গ্রীষ্মে তাদের পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের অনেক ক্রেতাই জীবনে প্রথমবারের মতো এসি কিনছেন। কারণ ইউরোপে এখন আগের তুলনায় তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে।

তবে এসির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশগত উদ্বেগও বাড়ছে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের প্রায় সাত শতাংশ খরচ হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে। এ ছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানি ও শিল্প খাত থেকে নির্গত মোট কার্বন ডাই-অক্সাইডের ২ দশমিক ৭ শতাংশের জন্যও এসব যন্ত্র দায়ী। এ কারণে ইউরোপের পরিবেশবাদী এবং অনেক রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরেই এসির অতিরিক্ত ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে, এসি ভবনের ভেতর ঠাণ্ডা করলেও বাইরে গরম বাতাস ছেড়ে দেয়। ফলে জনবহুল এলাকায় বাইরের তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে। আবার অনেকের মতে, বছরে মাত্র কয়েক দিনের গরমের জন্য এসি কেনা অর্থের অপচয়। তবে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের পর অনেক মানুষের এই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। জুনের শেষ দিকে ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড হয়। তীব্র গরমের কারণে সে সময় শত শত স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। এর কয়েক দিন পর দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, স্কুল ও কমিউনিটি কেন্দ্রগুলোতে পাখা, এসি এবং অন্যান্য শীতলীকরণ ব্যবস্থা স্থাপনে তারা ৮ কোটি ইউরো ব্যয় করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপ কার্যালয় বলেছে, এসি ব্যবহার করতে হবে পরিস্থিতি বুঝে এবং ভারসাম্য রেখে। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি তাপপ্রবাহ মোকাবেলার টেকসই সমাধান নয়। তবে চরম গরমে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষায় এটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের সংবাদমাধ্যমগুলো পোর্টাস্প্লিটের জনপ্রিয়তাকে ‘চীনে তৈরি’ পণ্যের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। এত দিন ইউরোপে চীনা পণ্যকে তুলনামূলক কম মানের ও সস্তা বলে মনে করা হতো। তবে অনেক ব্যবহারকারী বলছেন, পোর্টাস্প্লিট ব্যবহারের পর তাদের সেই ধারণা বদলেছে। জার্মানির স্টিভেন শোলটিসেক বলেন, যন্ত্রটির নকশা ও মান তাকে ইতিবাচকভাবে অবাক করেছে। তার মতে, এটি ইউরোপের অন্যান্য ব্র্যান্ডের পণ্যের মতোই ভালো। ২০২৪ সালে জার্মানির বাজারে আসে পোর্টাস্প্লিট। মিডিয়ার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি স্টুটগার্টে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাকেন্দ্রের জার্মান প্রকৌশল এবং ইতালীয় নকশার সমন্বয়ে তৈরি। শোলটিসেকের মতে, ড্রোন নির্মাতা ডিজেআই এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মতো চীনের প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। তিনি শুধু পোর্টাস্প্লিট কেনেননি, পরে মিডিয়ার শেয়ারও কিনেছেন। তার মতে, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।

মিডিয়ার ইউরোপ কার্যক্রমের মহাব্যবস্থাপক রালফ কোবসিক বলেন, ইউরোপের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউরোপের ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। ফ্রান্সের ২৬ বছর বয়সী আদ্রিয়েন ওলার সম্প্রতি জীবনের প্রথম এসি হিসেবে একটি পোর্টাস্প্লিট কিনেছেন। তিনি বলেন, এসি কেনার আগে তীব্র গরমে ঠাণ্ডা থাকার জন্য বারবার মুখে পানি ছিটিয়ে সময় কাটাতে হতো। এখন ঘরে ঢুকলেই মনে হয় যেন ফ্রিজের ভেতরে ঢুকেছেন। তার ভাষায়, আগের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য সত্যিই অনেক বড়।


 

গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট আগে দেখার সেবা বিক্রি করবে ট্রাম্প মিডিয়া

অনলাইন ডেস্ক
গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট আগে দেখার সেবা বিক্রি করবে ট্রাম্প মিডিয়া
ছবি: রয়টার্স

ট্রুথ সোশ্যালের মালিক প্রতিষ্ঠান 'ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ' অর্থের বিনিময়ে নতুন একটি তথ্যসেবা চালু করতে যাচ্ছে। এই সেবার মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলো প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দেখতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী পহেলা আগস্ট থেকে নতুন এই সেবা চালু হবে। এর নাম ‘ট্রুথ এপিআই’। এই সেবায় অর্থ পরিশোধ করা প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পোস্ট 'মিলিসেকেন্ডের মধ্যে' পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ট্রাম্প মিডিয়া। বর্তমানে ট্রুথ সোশ্যালে সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তার বিভিন্ন পোস্ট প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে বাণিজ্য, শুল্ক ও অর্থনীতি নিয়ে তার মন্তব্য অনেক সময় শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। ট্রাম্প মিডিয়া বলছে, নতুন এই সেবা প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিয়মিত আয়ের একটি নতুন উৎস হবে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে লোকসানে রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই সেবার প্রধান গ্রাহক হবে ব্যাংক, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, হেজ ফান্ড এবং শেয়ারবাজারে লেনদেনকারী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন তথ্য যত দ্রুত সম্ভব জানতে চায়। তাদের জন্য কয়েক সেকেন্ডের দেরিও বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানকে নিজেরাই ট্রুথ সোশ্যালে নজর রাখতে হতো। কিন্তু নতুন সেবা চালু হলে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলো সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা গ্রাহকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ফলে আলাদাভাবে প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন কমে যাবে। ট্রাম্প মিডিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কেভিন ম্যাকগার্ন বলেন, ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্টের কারণে অনেক সময় বাজারে দ্রুত পরিবর্তন আসে। তার ভাষায়, এই নতুন সেবা প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ট্রুথ এপিআই সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।

২০২২ সালে চালু হওয়া ট্রুথ সোশ্যালের মালিক প্রতিষ্ঠান আরো দাবি করেছে, গত কয়েক মাস ধরে কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমতি ছাড়াই প্ল্যাটফর্মের তথ্য ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে কেভিন ম্যাকগার্ন বলেন, খুব শিগগিরই অননুমোদিতভাবে তথ্য নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর যেসব প্রতিষ্ঠান ট্রুথ সোশ্যালের তথ্য ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের অনুমোদিত বা সরকারি এই সেবাই কিনতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। কারণ তার পরিবারের কাছে এখনও ট্রাম্প মিডিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার রয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য পোস্ট দ্রুত পাওয়ার সুযোগ বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি আয় করলে, সেখান থেকে ট্রাম্পের পরিবারেরও লাভ হতে পারে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজের পোস্ট এই অর্থের বিনিময়ের সেবার আওতায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে বিবিসি ট্রাম্প মিডিয়া এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ডেটা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে। তবে ট্রাম্প মিডিয়ার এই নতুন উদ্যোগ আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসা এবং তার সরকারি দায়িত্বের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান 'স্ট্যানফিল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের' বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ মার্ক স্পিগেল বলেন, যদি প্রেসিডেন্টের পোস্ট এই সেবার অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে এটি হবে একেবারেই নতুন ধরনের ঘটনা। তার মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান সর্বশেষ খবরের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে লেনদেন করে, তারা দ্রুত তথ্য পাওয়ার জন্য অর্থ না দিলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। কারণ তারা এমন গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট মিস করতে পারে, যা বাজারে তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তবে মার্ক স্পিগেল আরো বলেন, বাজারে প্রভাব ফেলে এমন অনেক বিষয়ের মধ্যে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট একটি অংশ মাত্র। বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে আরো অনেক অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


 

ওয়াশিংটনে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইলামের স্মরণে শোকসভা শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক
ওয়াশিংটনে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইলামের স্মরণে শোকসভা শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রসারে নিবেদিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা রাইট টু ফ্রিডমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের স্মরণে শোকসভার আয়োজন করা হবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এ শোকসভার আয়োজন করবে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ‘রাইট টু ফ্রিডম’।

যারা সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাদের জন্য অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার এবং রেকর্ড করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত মাইলাম এ বছরের শুরুতে ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। সাত দশক ধরে জনসেবা, গবেষণা ও বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। ১৯০৬ সালে অ্যারিজোনার বিসবিতে জন্মগ্রহণকারী তিনি ১৯৫৯ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে একটি বিশিষ্ট কর্মজীবন শুরু করেন।

কর্মজীবনে রাষ্ট্রদূত মাইলাম আফ্রিকা, ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন, যেখানে তিনি ২০০১ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৪ সালের মরুকরণ প্রতিরোধ চুক্তির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং পারমাণবিক অপ্রসারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আফগানিস্তানের জন্য একটি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কর্মসূচি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে তাকে পুনরায় জনসেবায় ডাকা হয়।

অবসর গ্রহণের পর রাষ্ট্রদূত মাইলাম উড্রো উইলসন সেন্টারে সিনিয়র স্কলার হিসেবে লেখালেখি ও গবেষণা চালিয়ে যান এবং ২০১০ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে তার বই ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড পাকিস্তান: ফ্লার্টিং উইথ ফেইলিয়ার ইন সাউথ এশিয়া’ প্রকাশ করেন। তিনি রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর সঙ্গে মিলে ‘রাইট টু ফ্রিডম’ প্রতিষ্ঠা করেন। ‘রাইট টু ফ্রিডম’ এমন একটি সংগঠন, যা নিজ নিজ দেশে যাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য গঠিত হয়েছিল।

রাইট টু ফ্রিডমের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জন ড্যানিলোভিচ বলেন, ‘শোক ও কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ হৃদয় নিয়ে আমরা জনসাধারণকে রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মিলামের অসাধারণ জীবন উদযাপনে আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেকের কাছে তিনি একজন বিশিষ্ট কুটনীতিকের চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন অবিচল বন্ধু একজন উদার পরামর্শদাতা এবং সকল মানুষের জন্য স্বাধীনতা ও মর্যাদার স্থায়ী শক্তিতে বিশ্বাসী একজন মানুষ।

এই স্মরণসভায় বিশ্বজুড়ে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও গুণগ্রাহীরা একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রদূত মাইলামের অসাধারণ জীবন ও উত্তরাধিকার নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন।