হাঙ্গেরির সংসদ দেশটির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিয়ককে পদ থেকে অপসারণের পথ তৈরি করে একটি সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করেছে। সুলিয়ককে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এপ্রিলে নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন সরকার সংসদে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী পাস করে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট সুলিয়ক ও সাংবিধানিক আদালতের প্রধান পেতের পোল্টের মেয়াদ শেষ হবে।
এখন সুলিয়কের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। তিনি পাঁচ দিনের মধ্যে সংশোধনীতে স্বাক্ষর করতে পারেন, অথবা বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতে পাঠাতে পারেন। তবে আদালতে পাঠালে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মাগিয়ার। সেক্ষেত্রে সুলিয়ক সাময়িকভাবে পদ থেকে বরখাস্ত হবেন। সরকার তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার আহ্বানও জানিয়েছে।
সোমবারের ভোটের আগে বিরোধী দল ফিদেজের সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তাদের অভিযোগ, নতুন সংশোধনী সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেবে এবং যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে দ্রুত পদচ্যুত করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সাবেক বিরোধীদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পেতের রোনা বলেন, ফিদেজ এখন তাদের নিজেদের তৈরি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফল ভোগ করছে। তার মতে, অরবানের সরকার ২০১১ সালের সংবিধানের মাধ্যমে বিজয়ী দলের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল। ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে ফিদেজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ৭০ বছরের বেশি বয়সী সাংবিধানিক আদালতের বিচারকদের পদ ছাড়তে হবে। এ ছাড়া টানা তিন মেয়াদ সংসদ সদস্য থাকা ব্যক্তিরা আর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এই নিয়ম বর্তমান ফিদেজের অর্ধেকের বেশি সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান আন্দ্রেস বাকা এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তার দাবি, ফিদেজ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তবে তিনি টানা তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালনকারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন। তার মতে, এতে ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার অধিকার সীমিত হবে।
১৭তম সংশোধনীটি কয়েকটি আইনের সমন্বয়ে তৈরি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা, যা নতুন সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আগামী দুই থেকে তিন বছর কার্যকর থাকবে।
এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফিদেজ দলে অস্থিরতা বেড়েছে। অরবানকে জনসমক্ষে খুব কম দেখা যাচ্ছে এবং তিনি সংসদে নিজের আসনও গ্রহণ করেননি। দলের ভেতরে তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। পরিস্থিতি জটিল হয়েছে, কারণ ফিদেজের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা গেরগেলি গুলিয়াস সংসদীয় গোষ্ঠীর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।