• ই-পেপার

হরমুজ ও বাবেল মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুথিদের, বাড়তে পারে তেলের দাম

ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ পাহাড়ে কী আছে, যা ধ্বংস করতে চান ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ পাহাড়ে কী আছে, যা ধ্বংস করতে চান ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

ইরানের অন্যতম সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৩ জুলাই) এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে কঠোর আঘাত হানা অব্যাহত রাখবে এবং খুব শীঘ্রই এই স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে।

‘হিউ হিউইট শো’ নামক এক রেডিও অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি এই হুমকি দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পিক্যাক্স মাউন্টেন নিশ্চিহ্ন করে দেব। ইরানীদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।’ তিনি আরো জানান যে, মার্কিন প্রশাসন এই পাহাড়টিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইরানের পারমাণবিক পরিস্থিতি ভালো নয় দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যখনই আমরা তাদের পারমাণবিক তৎপরতার কথা শুনি, তখনই তা উড়িয়ে দিই। তাই তারা এখন এ নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে না।’ ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতেও আমরা তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হানব এবং আগামীকালও তা অব্যাহত থাকবে। আর এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার থাকবে না।’

পিক্যাক্স মাউন্টেন হলো ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল স্থান। পাহাড়ের মাটির গভীরে তৈরি এই সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সটি এতটাই সুরক্ষিত যে, সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে—মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমা দিয়েও এটি ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্প এখন সেই অসম্ভব স্থাপনাটিই গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করছেন।

দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিনিময়ের পর পারস্য উপসাগরে ইরানের ওপর আবারও কড়াকড়ি আরোপ করছে মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর পুনরায় অবরোধ জারি করছে। একই সাথে ট্যাক্সের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সচল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে কৃত্রিম দুধ!

অনলাইন ডেস্ক
ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে কৃত্রিম দুধ!
সংগৃহীত ছবি

মানুষ পুষ্টির জন্য দুধ পান করে। কিন্তু সেই দুধে যদি ভেজাল থাকে, তবে তা হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি প্রাণঘাতীও। নিম্নমানের গুঁড়া দুধ, ডিটারজেন্ট পাউডার, পাম তেল, নিম্নমানের রাসায়নিক দিয়ে কৃত্রিম দুধ বানানোর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে ভারতের মহারাষ্ট্রে। রাজ্যের ধারাশিব জেলার ভূম তালুকে পুলিশ এবং খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এ ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে জব্দ করা বিক্রয় রেজিস্টার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, গত ছয় মাসে কৃত্রিম দুধ বানানোর জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ কেজি নিম্নমানের গুঁড়া দুধ ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ গুঁড়া দুধ ব্যবহার করে আনুমানিক ২৩ লাখ ৪ হাজার ৭০ লিটার কৃত্রিম দুধ তৈরি করা হয়েছিল, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৯ কোটি ২১ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ রুপি।

কৃত্রিম দুধকে আসল দেখাতে এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটের মাত্রা বজায় রাখতে অভিযুক্তরা তাতে নিমা ডিটারজেন্ট পাউডার, পাম তেল এবং অত্যন্ত নিম্নমানের রাসায়নিক পাউডার ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা প্রতি ১০০ লিটার খাঁটি দুধে ১০ লিটার কৃত্রিম দুধ মেশাতো। এই অনুপাতের ওপর ভিত্তি করে কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ভূম এলাকার দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রগুলো থেকে গত ৬ মাসে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ২ কোটি ৩০ লাখ লিটারেরও বেশি ভেজাল দুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃত্রিম দুধ বানানো এবং ভেজাল দিয়ে সরবরাহ করা চক্রটিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তবে এখনো কাউকে ধরতে পারেনি। পলাতক ভেজালকারীদের খুঁজে বের করতে একজন পুলিশ পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে ক্রমাগত অভিযান চালানো হচ্ছে।

খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে, দুধের এমন প্রাণঘাতী ভেজালের জন্য দোষী ব্যক্তিদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ডিটারজেন্ট ও পাম তেলযুক্ত এই রাসায়নিক মিশ্রিত দুধ নিয়মিত পান করলে তা মানুষের লিভার, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশু, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের জন্য এই ভেজাল দুধ প্রাণঘাতীও হতে পারে।

ভূমের পুলিশ পরিদর্শক শ্রীগণেশ কানাগুড়ে বলেন, অভিযানের সময় কর্মকর্তারা ৬১ বস্তা ভেজাল দুধের গুঁড়া জব্দ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, বালসাহেব গডগে নামে এক ব্যক্তি ভেজাল দুধ তৈরির জন্য ভূমের বেশ কয়েকটি ডেইরি ইউনিটে এই ভেজাল দুধের গুঁড়া সরবরাহ করছিলেন।

এই চক্রের সঙ্গে একাধিক দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রের জড়িত থাকার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তবে, এই গুঁড়ো ব্যবহার করে তৈরি করা হাজার হাজার লিটার ভেজাল দুধ যারা কিনেছেন বলে অভিযোগ, তাদের এখনো শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা যায়নি।

গবাদি পশুর খাদ্য বিক্রির আড়ালে এই চক্রটি চালানো হচ্ছিল। ভূম তালুকা প্রতিদিন লাখ লাখ লিটার দুধ রপ্তানি করে এবং প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টন ক্ষীর তৈরি করে।

৬ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা, আইসিই গুলিতে অভিবাসী চালক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
৬ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা, আইসিই গুলিতে অভিবাসী চালক নিহত
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) অভিযানের সময় এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার এক সপ্তাহও পার হয়নি। এর মধ্যেই সোমবার মেইন অঙ্গরাজ্যের একটি উপকূলীয় শহরে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে আরো এক চালক নিহত হয়েছেন।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি এজেন্টদের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় জননিরাপত্তার স্বার্থে আইসিই-এর এক কর্মকর্তা তার ওপর গুলি চালান।

তবে ডিএইচএস-এর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি, চালক কীভাবে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন। সোমবার সকাল প্রায় ৭টা (ইডিটি) দিকে মেইনের বিডেফোর্ড শহরে এ ঘটনা ঘটে। শহরটি মেইনের বৃহত্তম নগরী পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ১৫ মাইল (২৪ কিলোমিটার) দক্ষিণে অবস্থিত।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ঘটনাটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। সংস্থাটি জানায়, আইসিই কর্মকর্তারা এমন এক ব্যক্তির সর্বশেষ পরিচিত ঠিকানায় নজরদারি চালাচ্ছিলেন, যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল।

ডিএইচএসের দাবি, নজরদারির সময় একজন অভিবাসী ওই বাসা থেকে একটি গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যান এবং তাকে অনুসরণ করার সময় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেনি, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিই কি সেই ব্যক্তি ছিলেন, যার ঠিকানা নজরদারির আওতায় ছিল। ডিএইচএস আরো জানিয়েছে, ঘটনার পর বিডেফোর্ড পুলিশ বিভাগ ও এফবিআই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তে অংশ নেয়।

অন্যদিকে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলেছেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান নাগরিক। তাদের দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন এবং তার একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরও ছিল। তবে কর্মীরা তার নাম প্রকাশ করেননি। এ ছাড়া কীভাবে তারা ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি।

 মেইন ইমিগ্র্যান্টস রাইটস কোয়ালিশন এবং প্রেজেন্টে! মেইন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক, ক্ষোভজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ মেইনে সোমবারের গুলির ঘটনা এবং গত সপ্তাহে টেক্সাসে ঘটে যাওয়া একই ধরনের ঘটনার পর, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ অভিযানের সময় গুলিতে নিহত মানুষের সংখ্যা অন্তত সাতজনে পৌঁছেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং নির্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশজুড়ে আইসিই-এর অভিযান আরো বেড়েছে। রয়টার্সের হাতে আসা আইসিই-এর অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরু থেকে মেইনে সংস্থাটির গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে মেইনে আইসিই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করছিল, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সোমবার মেইনে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সরকারি তথ্য খুবই সীমিত ছিল। ফলে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া পরোক্ষ তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই ঘটনার কিছু বিবরণ প্রকাশ করেন। মেইনের মার্কিন সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক কর্মকর্তা তাকে বলেছেন, গুলিতে নিহত ব্যক্তি বিশোর্ধ্ব এক যুবক ছিলেন। তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তার গাড়িকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে কিংকে জানানো হয়েছিল, ওই ব্যক্তি তার অভিবাসন অবস্থার কারণে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় ছিলেন। তবে পরে নতুন তথ্য দিয়ে জানানো হয়, নিহত ব্যক্তি আসলে সেই পরোয়ানার লক্ষ্য ছিলেন না। সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং বলেন, তদন্তের মূল বিষয় হওয়া উচিত নিহত ব্যক্তি আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য সত্যিই কোনো গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিলেন কি না, যার কারণে গুলি চালানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির অভিবাসন অবস্থার চেয়ে গুলি চালানোর কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই তদন্তের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

বিডেফোর্ড শহরের বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল বুশার জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি তার অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। এ সময় তিনি পটকা ফাটার মতো কয়েকটি শব্দ শুনতে পান।
জানালার কাছে গিয়ে তিনি দেখেন, একটি সাদা এসইউভি একটি ছোট সাদা গাড়িকে ধাক্কা দিয়েছে। পরে রাস্তায় নেমে এসে তিনি কাছ থেকে দেখেন, এসইউভি থেকে বেরিয়ে আসা একজন আইসিই কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খুলে চালককে টেনে বের করছেন। তখন চালকের মুখ ও মাথা রক্তাক্ত ছিল।

বুশারের দাবি, তিনি আহত ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, ‘আমি তো গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেছিলাম।’ এর কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বলে তার মনে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের একজনকে খুবই বিচলিত ও হতবাক মনে হচ্ছিল।

এদিকে রয়টার্স যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছিল এবং ভেস্ট পরা দুজন ব্যক্তি পায়ে হেঁটে সেটি থামানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে ভিডিওটি গুলি চালানোর আগে নাকি পরে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রয়টার্সের তোলা একটি ছবিতে দেখা গেছে, ঘটনায় জড়িত সাদা গাড়িটির চালকের পাশের উইন্ডশিল্ডে চারটি গুলির ছিদ্রের মতো চিহ্ন রয়েছে। গাড়িটি পরে একটি টো ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর বিডেফোর্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে একটি পার্ক থেকে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল করেন। তিনি এ বছর পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এক পর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ভবনের প্রবেশপথে ঢুকে ‘আইসিই বের হয়ে যাও’ এবং ‘তাকে ভোট দিয়ে সরাও’ স্লোগান দেন। তবে কোনো সহিংসতা বা গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেনি। সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী শহরে মিছিল করেন। তারা ‘মেইন থেকে আইসিই দূর হও’ স্লোগান দেন এবং পরে একটি পার্কে মোমবাতি প্রজ্বলন করে অভিবাসীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

এই ঘটনা ঘটে টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিই অভিযানে ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো নিহত হওয়ার ছয় দিন পর। আইসিই জানিয়েছিল, সেটিও ছিল একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিবাসন অভিযান। সংস্থাটির দাবি, সালগাদো তার ভ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং এক কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান।

তবে আইসিই তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি। সমালোচকরা বলছেন, অতীতেও আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কিছু প্রাথমিক বিবৃতি পরে ভিডিও ফুটেজ বা অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আদালতেও তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইয়াজিদি দুই কিশোরীকে দাসত্বে বাধ্য, জার্মানিতে ইরাকি দম্পতির দণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
ইয়াজিদি দুই কিশোরীকে দাসত্বে বাধ্য, জার্মানিতে ইরাকি দম্পতির দণ্ড
ছবি : রয়টার্স

জার্মানির একটি আদালত ইরাকে দুই ইয়াজিদি কিশোরীকে দাসত্বে বাধ্য করার অপরাধে এক ইরাকি দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মিউনিখের উচ্চ আঞ্চলিক আদালত তাদের ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবেও দোষী ঘোষণা করেছেন।

জার্মানির গোপনীয়তা আইনের কারণে টোয়ানা এইচ.এস. নামে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং শিশুদের ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতনসহ একাধিক অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী, এশিয়া আর. এ.-কে সাড়ে নয় বছরের কিশোর-কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই দম্পতিকে ২০২৪ সালে বাভারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

আদালত জানান, এই দম্পতি আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দুই ইয়াজিদি মেয়েকে বন্দি করে দাসত্বে রেখেছিলেন এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন। মামলাটি আইএসের হাতে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কুর্দিভাষী সংখ্যালঘু ইয়াজিদিরা ২০১৪ সালে আইএসের ব্যাপক হামলার শিকার হয়। সে সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে। উত্তর ইরাকে ইয়াজিদিদের আবাসভূমিতে হামলা চালিয়ে আইএস হাজার হাজার পুরুষকে হত্যা করে এবং নারী ও শিশুদের দাসত্বে বাধ্য করে। অনেক নারী ও শিশুকে যৌন নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়। জার্মানি এসব কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। 

ফেডারেল পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানায়, অভিযুক্ত দুজন ইয়াজিদি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত আইএসের পরিকল্পিত অভিযানের অংশ ছিল। টোয়ানা এইচ.এস. ২০০০-এর দশকের শুরুতে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসেন। তিনি মিউনিখে একজন হেয়ারড্রেসার হিসেবে কাজ করতেন এবং তার একটি সন্তান ছিল। 

জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডের স্পিগেল-এর তথ্য অনুযায়ী, তার আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও একজন জার্মান সন্তানের বাবা হওয়ায় তাকে দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ডের স্পিগেল জানায়, সে ২০১৫ সালে ইরাকে ফিরে যায়।

অভিযোগকারীরা বলেন, টোয়ানা এইচ. এস. এবং এশিয়া আর. এ. সেখানে ইসলামী আইন অনুযায়ী বিয়ে করেন এবং ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইসলামিক স্টেটের সদস্য হন।

তারা বলেন, ২০১৫ সালের শরৎকালে, টোয়ানা এইচ. এস. তার স্ত্রীর অনুরোধে মসুলের একটি বাজার থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক ইয়াজিদি মেয়েকে দাসী হিসেবে কেনেন।

২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে এই দম্পতি বারো বছর বয়সী এক ইয়াজিদি মেয়েকে কেনেন। অভিযোগকারীরা বলেন, টোয়ানা এইচ. এস. উভয় শিশুকে বারবার ধর্ষণ করেছেন। তাদের বাড়ির কাজ ও শিশু পরিচর্যায় বাধ্য করতেন এবং তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে নিষেধ করতেন। শিশুদের মারধরও করা হতো। 

প্রসিকিউটররা বলেছেন, এশিয়া আর. এ. ছোট মেয়েটির হাতে গরম পানি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছিলেন। বিআর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার চলাকালীন আদালত ইয়াজিদি মেয়েটির সাক্ষ্য শুনেছেন। সে মারধর, জোরপূর্বক শ্রম এবং বারবার ধর্ষণের বর্ণনা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ইয়াজিদি কিশোরীটির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

জার্মানিতে এই মামলার বিচার হয়েছে ‘সার্বজনীন বিচারব্যবস্থা’ নীতির আওতায়। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও জার্মান আদালতে করা যায়।

বিচার চলাকালে এশিয়া আর. এ. বর্তমানে টোয়ানা এইচ. এস.-এর থেকে আলাদা হয়ে গেছেন, আদালতের কাছে ক্ষমা চান। চূড়ান্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত।’ অন্যদিকে, টোয়ানা এইচ. এস. আদালতে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।