• ই-পেপার

পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে ৩ দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে ৩ দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

তিন দাবিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে এইচএসসির শতাধিক পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই)  বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর থেকে কর্মসূচি নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অভিমুখে যাবার পথে পুলিশি বাধার মুখের পড়ে শিক্ষার্থীরা। পরে বাধা উপেক্ষা করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের অবস্থান করে তিন দাবিতে বিক্ষোভ করে। এসময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। 

বিক্ষোভে অংশ নেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ, রূপসী বাংলা কলেজ, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনার বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি উত্থাপন করে বলেন, দেশের সব কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাবিগুলো হলো দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষায় স্থগিত রাখতে হবে। যারা বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিন, কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার এসময় শিক্ষা বোর্ড ফটকের সামনে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাদের কথা শোনেন।

পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার্থীদের কথা শুনেছি। যেগুলো আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব সেগুলোর দায়িত্ব আমরা নেব। আর যেগুলো আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয় সেগুলো আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে সেখানে কোতোয়ালি থানার ওসি পুলিশের সদস্যদের মোতায়ন করেন। পরে শিক্ষা বোর্ডের সচিব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরীক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দুপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আহবান করা হয়েছে। আমরা সেখান থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।

ঠাকুরগাঁওয়ে লক্ষাধিক টাকার রিং ও কারেন্ট জাল জব্দ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে লক্ষাধিক টাকার রিং ও কারেন্ট জাল জব্দ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার নিষিদ্ধ রিং জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে প্রায় ২৫টি রিং জাল এবং ২০টি কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ জালগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে অভিযানে সহযোগিতা করেন। 

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সিরাজাম মনিরা সুমি বলেন, ‘রিং জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব জালের মাধ্যমে ছোট মাছ ও মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ায় মৎস্যসম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাছের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ জালের ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাঁচতে চায় শিশু জুঁই, সাহায্যের আবেদন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
বাঁচতে চায় শিশু জুঁই, সাহায্যের আবেদন
অসুস্থ শিশু জুঁই। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আমার সোনার ধনরে কিবায় বাচাইয়াম? আপনেরা সকলেই একটু হাত বাড়িয়ে দিন’, চোখের পানি মুছতে মুছতে এভাবেই নিজের ১৯ মাস বয়সী অবুঝ সন্তান জুঁইকে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছিলেন এক অসহায় মা আছমা বেগম।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের মধ্যমপাড়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে নেমে এসেছে চরম অন্ধকার। মাত্র ১৯ মাস বয়সী নিষ্পাপ এক শিশুর হার্টে (হৃদযন্ত্রে) ধরা পড়েছে ছিদ্র। দিন দিন শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, আর অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে চোখের সামনে সন্তানকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখছেন তার অসহায় বাবা-মা।

দিনমজুরের ঘরে অসুস্থতার কালো ছায়াশিশুটির মা অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন এবং বাবা আব্দুল লতিফ একজন সাধারণ দিনমজুর। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে নূন্যতম পুষ্টিকর খাবার জোটানোই যেখানে কষ্টকর, সেখানে হার্টের অপারেশনের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো এই পরিবারের পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব। চিকিৎসকরা দ্রুত অপারেশনের কথা বললেও, টাকার অভাবে থমকে গেছে শিশুটির চিকিৎসা। তবে কি টাকার অভাবে একটি ফুটফুটে শিশুর জীবনের প্রদীপ এভাবেই নিভে যাবে?

সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী এবং মানবিক সংগঠনগুলোর সামান্য একটু সহানুভূতি ও আর্থিক সাহায্যই পারে এই অবুঝ শিশুটিকে একটি নতুন জীবন দিতে। ফিরিয়ে দিতে পারে এক মায়ের কোলের হাসি।

সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নম্বর- ০১৯৫৬০৬৪৮২৮ আব্দুল লতিফ (শিশুর বাবা)

‘বন্য প্রাণীর বন্ধু’ সিতেশ রঞ্জন আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
‘বন্য প্রাণীর বন্ধু’ সিতেশ রঞ্জন আর নেই

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাসা থেকে সিতেশ রঞ্জনের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য উপজেলার নোয়াগাঁওয়ে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানেই শেষকৃত্য হবে।

১৯৬২ সাল থেকে শখের বশে বন্য প্রাণী নিয়ে কাজ শুরু করেন সিতেশ রঞ্জন দেবের বাবা শ্রীশ দেব। বিভিন্ন প্রাণী ধরে এনে বাড়িতে সেবা করতেন তিনি। প্রাণী ধরার কৌশল এবং তাদের প্রতি বাবার এমন মমত্ববোধ দেখে সিতেশ দেবও তা শেখেন। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন পশু-পাখি সেবাশ্রম।

১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গড়ে তোলা হয় সিতেশ রঞ্জন দেবের পশু-পাখি সেবাশ্রম। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় গড়ে ওঠে বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। আর ১৯৯১ সালে ভালুকের আক্রমণে এক চোখ, মুখ ও নাকে মারাত্মক আঘাত পান সিতেশ রঞ্জন দেব।

সিতেশ রঞ্জন দেশে প্রথম ব্যক্তি উদ্যোগে বন্য প্রাণী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন। যেখানে তিনি আহত প্রাণীদের সেবা দিতেন। পর্যটকদের কাছে যা সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা নামে পরিচিত। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি পান।