• ই-পেপার

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে ৩ দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কুমিল্লা

বেহাল তিন সড়কে লাখো মানুষ ভোগান্তিতে

পাঁচ বছর ধরে বিধ্বস্ত বেশি শিকার রোগীরা দ্রুত সংস্কার দাবি

শাহীন আলম, কুমিল্লা (উত্তর)
বেহাল তিন সড়কে লাখো মানুষ ভোগান্তিতে
কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোডের কাশনাথপুরের দিদার মার্কেট এলাকায়। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

নগরীর তিন ব্যস্ততম সড়ক। সড়কের পাশেই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, সরকারি দপ্তর ও আবাসিক ভবন। রয়েছে বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। অথচ সড়কগুলো দীর্ঘদিন বিপর্যস্ত। 

সড়কগুলো হলো কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ-কোটবাড়ি বিশ্বরোড, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক এবং ধর্মপুর-ঝাঁগুরঝুলি সড়ক। 

সড়ক তিনটি কুমিল্লা শহরের প্রবেশমুখও। অথচ প্রায় পাঁচ  বছর ধরে সেগুলো ভাঙাচোরা, যা যানবাহন চলাচলে ব্যবহারের অনুপযোগী। ফলে যাত্রীদের কাছে সড়কগুলো  এখন আতঙ্কের নাম। 

স্থানীয়রা জানায়, একটু বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে পানি জমে। তখন সড়কের পানি জমা স্থানগুলোকে মনে হয় একেকটি ছোটখাটো ডোবা। সড়কের কোথাও পিচের অস্তিত্ব নেই, কোথাও ইট-পাথরের খোয়া উঠে গেছে। এসব বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগীদের। 

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সড়কগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলোর বিভিন্ন অংশে অসংখ্য খানাখন্দ। অল্প বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে। কোনটি সড়কের অংশ আর কোনটি গর্ত, তা বোঝার উপায় নেই। 

হালিমানগর ও দৌলতপুর মোড় এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়কে পথচারী ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করছে। গত পাঁচ বছর ধরে এভাবেই চলছে। 

সরেজমিন দেখা যায়, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনের সড়কের অবস্থা আরো ভয়াবহ। ফলে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় অ্যাম্বুলেন্সের গতি কমে যাওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। 

সড়কগুলোতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা সেনানিবাস, বিজিবি সেক্টর হেড কোয়ার্টার্স, কুমিল্লা ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজ , বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, র‌্যাব কার্যালয় অবস্থিত।

এ ছাড়া কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ, সার্ভে ইনস্টিটিউট, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আঞ্চলিক কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। 

কুমিল্লার প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটন এলাকা ময়নামতি জাদুঘর, শালবন বৌদ্ধ বিহারসহ কোটবাড়ি এলাকার দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাওয়া-আসার জন্য প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ব্যবহার করে যে সড়কটি সেটিও বিধ্বস্ত।  সড়কটিতে বড় বড় গর্ত যা বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতার মধ্যে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়।

কোটবাড়ি এলাকার সিএনজি চালক গোলাম মোস্তফা ও মো. ইয়াসিন মিয়া বলেন, গাড়িতে যাত্রী উঠলে গালাগালি করে। প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির কোন না কোন যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে সড়কটি এই অবস্থায় আছে। মাঝখানে কিছু ভাঙা ইট-কংক্রিট দেওয়া হয়েছিল। এখন সেগুলোও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আক্তারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, চোখের সামনে দেখছি হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি। কিন্তু করার কিছু নাই। সড়কগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও তা সংস্কার করা হচ্ছে না।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, প্রতিদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বাস শিক্ষার্থীদের নিয়ে টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি সড়কে আসা-যাওয়া করে। বাসগুলো এ সড়কে চলাচল করতেও ভয় পায়, সড়কের অবস্থা দেখলে মনে হয় না এর কোন তদারকি সংস্থা আছে। মানুষের এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে জানিনা।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা কালের কন্ঠকে বলেন, টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কসহ বেহাল সড়কগুলো সংস্কারের জন্য টেন্ডারের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বরাদ্দ এলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। 

পাজেরোতে বিদেশি মদের চালান, আটক ১

বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
পাজেরোতে বিদেশি মদের চালান, আটক ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অভিযান চালিয়ে ১৩৬ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় একটি পাজেরো গাড়িসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ছলিমাবাদ ব্রিজের গোড়ায় অভিযান চালায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ।

আটক ব্যক্তি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার মাঝিরগাঁও এলাকার রাসেল হোসেন (৩৮)। তিনি মাইনুদ্দিন দুলালের ছেলে। আটক হওয়ার পর নিজেকে গাড়ির চালক বলে পরিচয় দেন।

পুলিশ জানায়, জব্দ করা মদের মধ্যে স্পেন ও ফ্রান্সের তৈরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি বিদেশি মদ রয়েছে। এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

মদগুলো কয়েকটি কার্টনে করে একটি কোটি টাকা মূল্যের পাজেরো গাড়িতে বহন করা হচ্ছিল। গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন বলেন, "নিকট অতীতে এত বড় বিদেশি মদের চালান আমরা আটক করতে পারিনি। এ ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।"

থানা জানায়, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার রাসেল হোসেনকে আদালতে পাঠানো হবে।

কাজ শেষ না করেই ২৮ কোটি টাকার বিল তুলে উধাও ঠিকাদার

মাদারীপুর প্রতিনিধি
কাজ শেষ না করেই ২৮ কোটি টাকার বিল তুলে উধাও ঠিকাদার
সংগৃহীত ছবি

দেশে দক্ষ নার্সের সংকট দূর করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই মাদারীপুরে একটি আধুনিক নার্সিং কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পের ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে কাজ শেষ না করেই ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এরপর অসমাপ্ত অবস্থায় নির্মাণকাজ ফেলে রেখে সরে যায় তারা। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে কলেজটির নির্মাণকাজ। যে ক্যাম্পাসে ভবিষ্যতের নার্সদের পদচারণায় মুখরিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণাধীন এই ভবনটি এখন মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ক্যাম্পাস ঘাস আর লতাপাতায় ছেয়ে গেছে। ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে মাদক গ্রহণের বিভিন্ন সরঞ্জাম। চারদিকে ছড়িয়ে আছে মাদকের দুর্গন্ধ। নিরাপত্তাকর্মী বা কোনো কর্মকর্তা না থাকায় ভবনটি মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে, বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মূল্যবান নির্মাণ সামগ্রী চুরির। নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে ভবনটিতে তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার বড় বাহাদুরপুর ও বড়দোয়ালী মৌজায় ২০২১ সালের ১০ মার্চ ৩৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ব্যয়ে মাদারীপুর নার্সিং কলেজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়া ভিত্তিক মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যান। এরই মধ্যে কাজের অগ্রগতি ৮৮ ভাগ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এরই মধ্যে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ করতে বিলম্ব হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বাতিল করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর হাসান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভবনটির নির্মাণ কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কেউ কাজ করতে আসে না, বাকি কাজও শেষ হয়নি। অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় এটি এখন এলাকার বখাটেদের মাদক সেবনের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।’

আরেক বাসিন্দা জানান, এখানে দিনে নির্জন, রাতে ভয়ংকর। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ এই এলাকায় আসতে সাহস পায় না। নিরাপত্তা না থাকায় ভবনটি অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। তাই বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, দ্রুত অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শেষ করে নার্সিং কলেজটি চালু করা হোক।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শিবচর উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল খায়ের খান বলেন, ‘দেশে দক্ষ নার্সের চাহিদা বাড়ছে। তাই দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে নার্সিং কলেজটি চালু করা হলে দক্ষ নার্স তৈরি হবে, স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুফল পাবেন।’

মাদারীপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, ‘বাকি নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে আগের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

এমসি কলেজ ছাত্রবাসে দলবদ্ধ ধষর্ণ

একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত ঘটনার মামলায় একজনের আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে। একইসঙ্গে শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় চার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিসহ আট আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন।’

এর আগে রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আদালতে প্রবেশে তল্লাশি জোরদার করা হয়।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে (২০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভোক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। আসামিরা হলেন– সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম ( তারেক), অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ও মাহফুজুর। তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

গত বছর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর নির্যাতিত তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও এমসি কলেজের এক অধ্যাপকসহ ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন।

এই রায়ের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর নয় মাস ধরে চলা দেশের অন্যতম আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।