• ই-পেপার

এমসি কলেজ ছাত্রবাসে দলবদ্ধ ধষর্ণ

একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে তারা বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অবরোধ করে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১টায় বরিশাল নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বরিশালের অধিকাংশ কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ভিক্ষোভকারীদের দাবি টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ সম্পূর্ণ স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন করা হয়েছে এবং তার সিলেবাসের বাইরে। তাই বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন। অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকে চরম যাত্রী দুর্ভোগ হয়।

সরকারি বিএম কলেজ শিক্ষার্থী সৈয়দ এজাজ বলেন, ‘বৈরি পরিবেশের মধ্যেও সোমবার পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া কঠিন পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত বন্ধ দেওয়া হয়নি। উল্টো অতীতের চেয়ে এবার প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এমনকি সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার পরও এক বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব বোর্ডে তা স্থগিত করা হয়নি। সমস্যাগুলো সমাধান না করেই শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কটুক্তি করেছেন তাই আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।’

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রবেশদ্বারে এসে বিক্ষোভ করে। আমরা তাদেরকে শান্ত থাকতে বলেছি। পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আন্ত শিক্ষা বোর্ডের। এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।’

বিপুল আগ্নেয়াস্ত্রসহ বনদস্যু ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ২৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বিপুল আগ্নেয়াস্ত্রসহ বনদস্যু ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ২৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যু বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এসব অভিযানে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চরপুটিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২৭ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা নিজেদের ব্যবহৃত ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের মধ্যে বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ১৮ জন খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া ৮ জন বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলার এবং একজন পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে কোস্ট গার্ডের অভিযানের মুখে বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সাত সদস্য এবং ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর তিন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, ‘চলমান বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের জিম্মিদশা থেকে ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুন্দরবনে এখনও সক্রিয় থাকা বনদস্যুদের দ্রুত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

লালপুর

১৫৯ বছরের পুরোনো বিদ্যালয়, তবুও হয়নি জাতীয়করণ

আব্দুল জব্বার সুজন, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
১৫৯ বছরের পুরোনো বিদ্যালয়, তবুও হয়নি জাতীয়করণ
সংগৃহীত ছবি

১৮৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দীর্ঘ ১৫৯ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে নাটোরের লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। তবুও আজও হয়নি জাতীয়করণ। এ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ বিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্টদের। দ্রুত জাতীকরণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সরকারি নীতিমালার সব মানদণ্ড পূরণ করায় ২০১৭ সালে জাতীয়করণের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং নাম পরিবর্তন করে তুলনামূলক কম যোগ্য একটি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা তারা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান বলেন, ‘বিদ্যালয়টি সবদিক থেকে জাতীয়করণের সব শর্ত পূরণযোগ্য, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অযৌক্তিকভাবে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে; যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।’

সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার জুথি বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সাফল্যের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয়করণ হওয়া উচিত। এতে শিক্ষার মান আরো উন্নত হবে।’

সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. অমল কুমার চৌধুরী বলেন, ‘এত পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বাইরে থাকা সত্যিই দুঃখজনক।’

সাবেক শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই স্কুলের ছাত্র ছিলাম, এখন আমার সন্তানও এখানে পড়ে। এত পুরনো একটি প্রতিষ্ঠান এখনো জাতীয়করণ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।’

প্রধান শিক্ষক খাজা শামীম মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ হাজার ২৯৩ জন এবং শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে ৪৫ জন। জাতীয়করণের জন্য পুনরায় আবেদন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য-সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু বলেন, ‘জাতীয়করণের তালিকায় নাম আসার পরও রাজনৈতিক কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত জাতীয়করণের দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। তবে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার চাইলে জাতীয়করণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।’

৫৮ নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর গৌরবময় ইতিহাস ও অবদান বিবেচনায় জাতীয়করণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব।’

এদিকে, দ্রুত জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

মঠবাড়িয়া

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা
ছবি : সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কৃষকের আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে। আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমনের জন্য এখন পর্যন্ত প্রস্তুত করা ৭০০ হেক্টর বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। একই সঙ্গে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৯০০ হেক্টর জমির আউশও ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মিরুখালী, দাউদখালী, টিকিকাটা ও সাপলেজা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষিক্ষেত। ধানের বীজতলা ছাড়াও  বৃষ্টিতে ক্ষেতের কলা, পেঁপেসহ সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার নাগ্রাভাঙ্গা গ্রামের কৃষক মো. সোলায়মান ফরাজী জানান, তার প্রায় ৫০ শতক বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত না কমলে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান তিনি।

পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কৃষক মো. হুমায়ুন কবির জানান, বীজতলা প্রস্তুত করতে ১০ কেজি ধান ভিজিয়ে রেখেছেন তিনি। কিন্তু কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার কারণে বীজ বপন করতে পারছেন না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডেও অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ, স্লুইস গেট না থাকায় কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি বলেন, টানা বৃষ্টিতে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।