চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলো ব্যতীত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, আপাতত যে অবস্থা আছে দেশের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত পর্যন্ত সবার মতো নিয়ে পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করার প্রতিবাদে তিন দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের তিন দাবির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাবিগুলো হলো দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষায় স্থগিত রাখতে হবে। যারা বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে।
মঙ্গলবার সায়েন্সল্যাব ও উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভে তারা শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।
নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাবের সড়কে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছি।
উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার শাহীন আলম জানান, এদিন বেলা পৌনে ১২টায় শিক্ষার্থীরা উত্তরা ডিএনএস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও দীর্ঘ যানজট, আবার কোথাও বিকল্প উপায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাসা থেকে বের হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দুর্ভোগ পোহান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, ‘সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেনি। তাই আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের আরেক শিক্ষার্থী জানান, সোমবারের ভোগান্তির দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।









