• ই-পেপার

মোজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ, দাবি ট্রাম্পের

আহমাদিনেজাদকে ইরানের ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
আহমাদিনেজাদকে ইরানের ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল
ছবি : রয়টার্স

যুদ্ধে যেমন পারদর্শী ইসরায়েল, তেমনি ষড়যন্ত্রেও তারা কম যায় না। মাঠে ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী আর পেছনে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বিশ্বজুড়ে তাদের স্বার্থরক্ষায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্রের খবর ফাঁস করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, বর্তমান নেতৃত্বকে হটিয়ে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন করতে চেয়েছিল ইসরায়েল। ষড়যন্ত্রটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আহমাদিনেজাদ বর্তমানে গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন।

এর আগে গত মে মাসেও নিউইয়র্ক টাইমস এ ধরনের একটি ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক আভাস দিয়েছিল। তবে এবার ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। একই দিনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ’ও এই গোপন অভিযানের বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। অপারেশনটির কোড নাম ছিল ‘অপারেশন পুস ইন বুটস’। বছরের পর বছর ধরে মোসাদ এ ষড়যন্ত্রটি চালিয়ে আসছিল। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০১৩ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের দূরত্ব তৈরি হয়। এই সুযোগটিই লুফে নেয় মোসাদ। তারা আহমাদিনেজাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব আহমাদিনেজাদকে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখে। ফলে তিনি ধীরে ধীরে ইরানের কিছু নেতার সমালোচনা করতে শুরু করেন। 

আহমাদিনেজাদ বিশ্বাস করতেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন হলেই কেবল তিনি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন। একসময় ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক হলেও ক্ষমতার লোভে আহমাদিনেজাদ মোসাদের ফাঁদে পা দেন। 

প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে মোসাদের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক হয়। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে আহমাদিনেজাদ সেখানে গিয়েছিলেন। সম্মেলনের আয়োজক লুদোভিকা ইউনিভার্সিটির রেক্টর গেরগেলি ডেলি জানান, সম্মেলন চলাকালে আহমাদিনেজাদ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়েছিল।

২০২৫ সালে আহমাদিনেজাদ আবারও হাঙ্গেরিতে যান এবং মোসাদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আহমাদিনেজাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে মোসাদের তখনকার প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নিজেই উপস্থিত ছিলেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকগুলোর সময় আহমাদিনেজাদের সব খরচ ইসরায়েলই বহন করেছিল। তবে আহমাদিনেজাদের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সিনিয়র উপদেষ্টা আবদোলরেজা দাভারি বলেন, ‘আহমাদিনেজাদ টাকার জন্য এটি করবেন না। তার টাকা আছে, তার একটি বিশাল অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কও রয়েছে। তিনি এটি ক্ষমতার জন্য করবেন। তিনি ক্ষমতার শীর্ষে থাকতে চান।’

চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুর দিকে মোসাদ তাদের পুরোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুদ্ধের সময় তেহরানে আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ডে একটি ইসরায়েলি বিমান আঘাত হানে। এটি ছিল আসলে একটি কাভার। হামলার পরপরই মোসাদ এজেন্টরা একটি কালো গাড়িতে করে আহেমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরেই একটি গোপন সেফ হাউজে নিয়ে যায়। তবে এবারের আয়োজনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আহমাদিনেজাদ। তাকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইসরায়েলের বৃহত্তর পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা সাফল্যের মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে অস্পষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে তিনি সেই সেফ হাউজ ত্যাগ করেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ পরে ইসরায়েলের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের কথিত যোগাযোগের কথা জানতে পারে। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড-আইআরজিসি’র গোয়েন্দা শাখা তার ওপর নজরদারি রাখছে। সেফ হাউজ ছাড়ার পর থেকে আহমাদিনেজাদকে আর কোথাও দেখা যায়নি। অবশেষে গত সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার মিছিলে অল্প সময়ের জন্য তাকে দেখা গিয়েছিল।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তা বা মোসাদ কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, মাহমুদ আহমাদিনেজাদের কার্যালয় থেকে এই দাবিগুলোকে ‘হলিউড মার্কা গল্প এবং ‘ভুয়া খবর’ বলে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০

অনলাইন ডেস্ক
থাইল্যান্ডের বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০
ছবি : রয়টার্স

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের একটি মিউজিক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ব্যাঙ্কক মেট্রোপলিটন প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

‘রং বিয়ার না লাডপ্রাও’ নামের বারে রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগে। ব্যাঙ্ককের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এই বারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে।

কর্মকর্তাদের মতে, এটি গত ১৭ বছরের মধ্যে ব্যাঙ্ককের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড। ব্যাঙ্ককের গভর্নর চাদচার্ট সিট্টিপুন্ট বলেন, নিহতদের বেশির ভাগই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এদিকে আহতদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকাণ্ডের পর সোমবার ভোরে বারটি ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। কয়েক ডজন ফরেনসিক কর্মকর্তা আগুন লাগার কারণ খুঁজতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আগুনে বারের সামনের জানালাগুলো ভেঙে যায়। বাইরে ফুটপাতে পোড়া টেলিভিশন, স্পিকার, ইলেকট্রিক গিটারসহ নানা ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিল। ভেতরে পোড়া টেবিলের ওপর এখনো খালি বিয়ারের বোতল দেখা যায়।

বার কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬০০ জন গ্রাহক বসতে পারতেন। তবে আগুন লাগার সময় ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। ব্যাঙ্ককের ইরাওয়ান জরুরি পরিষেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৭৩ জন আহত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও প্রাণহানির সংখ্যা ৩০ জনের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

জাতীয় পুলিশ প্রধান কিথারাথ পুনপেচ বলেন, অধিকাংশ মরদেহ জানালাবিহীন একটি বাথরুমের কাছে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু বের হতে না পেরে আটকা পড়েন। তিনি জানান, ওই নির্গমন পথটি নিয়মিত ব্যবহৃত হতো না। সেখানে রাখা টেবিল বা অন্যান্য সামগ্রীর কারণে পথ বাধাগ্রস্ত ছিল। এ ছাড়া ধোঁয়া ও অন্ধকারের কারণে অনেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, রান্নাঘরের পাশের আরেকটি জরুরি নির্গমন পথও তাক ও লকারের কারণে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে যে, কয়েকটি জরুরি নির্গমন দরজা সম্ভবত তালাবদ্ধ ছিল।

তদন্তকারীরা আগুনের উৎস খুঁজতে মঞ্চের ওপরের ছাদ অংশে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন। সেখানে এমন কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে, যা সাজসজ্জার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ভবনের ভেতরে দাহ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং বৈদ্যুতিক তারগুলো কিভাবে স্থাপন করা হয়েছিল।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, বারে পারফর্ম করা এক সংগীতশিল্পী তাকে বলেছেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগে তিনি মঞ্চের কাছে একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেছিলেন। এরপর একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একতলা ভবনটি থেকে আগুনের শিখা বের হচ্ছে এবং কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এ সময় আতঙ্কিত মানুষজন দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এদিকে সোমবার বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ঘটনাস্থলে এসে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাব থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে ফেস মাস্ক বিতরণ করেন। নিখোঁজ বা আহত স্বজনদের খোঁজে আসা পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে একটি নিবন্ধন কেন্দ্রও খোলা হয়েছে।

গায়িকা সুকন্যা ওংওংওয়াই জানান, তিনি কাছাকাছি একটি অনুষ্ঠানে গান গাইছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান, কারণ তার ব্যান্ডের কয়েকজন সদস্য ওই বারে পারফর্ম করছিলেন। তিনি বলেন, তার ব্যান্ডের একজন সদস্য মারা গেছেন, তিনজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজনকে প্রথমে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ফেসবুকে ব্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিখোঁজ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সুকন্যা বলেন, ‘ভেতরে যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে শুনেছি যে হঠাৎ সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। বিদ্যুৎ চলে যায় এবং চারদিকে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কেউ কাউকে দেখতে বা খুঁজে পেতে পারছিলেন না।’ এদিকে ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বার কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বারের মালিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বজনরা ব্যাঙ্ককের ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটে জড়ো হন। সেখানে ২৪ বছর বয়সী কেও উদোন পাউংপানি তার ছোট ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করতে আসেন। লাওস থেকে আসা এই দুই অভিবাসী শ্রমিক আগুন লাগার সময় ওই বারে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিলেন।

২৪ বছর বয়সী কেও উদোন পাউংপানি জানান, আগুন লাগার সময় তিনি বারের বাইরে একটি শৌচাগারে ছিলেন। তিনি বলেন, বারের দিকে ফিরে আসার সময় দেখেন, আতঙ্কিত মানুষজন আগুন থেকে বাঁচতে দৌড়ে বেরিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি বিস্ফোরণের মতো জোরালো শব্দও শুনতে পান।

পাউংপানি জানান, বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি তার ছোট ভাইকে ডাকতে থাকেন। কিন্তু আগুনের তীব্র তাপের কারণে তিনি আর ভেতরে ঢুকতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘তাপ এতোটাই বেশি ছিল যে আমি ভেতরে ফিরতে পারিনি।’

শোকাহত এই যুবক বলেন, ‘এখন আমি শুধু আমার ছোট ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যেতে চাই। আমি তাকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই। তারা অপেক্ষা করছিলেন, দুই ছেলে আবার একসঙ্গে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু এখন একজন আর নেই।’ 

থাইল্যান্ডে এর আগেও বেশ কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি মিউজিক বারে আগুন লেগে ১৪ জন নিহত হন। এরও আগে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ব্যাংককের সান্তিকা নাইটক্লাবে নববর্ষ উদযাপনের সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হন। তদন্তে ধারণা করা হয়, ক্লাবের ভেতরে আতশবাজি প্রদর্শনের সময় ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিতে বাড়ির ছাদ ধসে নিহত ১১

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিতে বাড়ির ছাদ ধসে নিহত ১১
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারি বৃষ্টির কারণে কাঁচা বাড়ির ছাদ ধসে ১১ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। প্রাদেশিক জরুরি পরিষেবার কর্মকর্তা বিলাল ফাইজি বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাত জেলায় সোমবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। পরে মরদেহগুলো দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে সোমবার গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আঞ্চলিক জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, এতে ভূমিধসের কারণে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সরকার পর্যটকদের উত্তর পাকিস্তানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাকিস্তানে বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ভারি বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়, যা প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়।

২০২২ সালে দেশটিতে রেকর্ড পরিমাণ মৌসুমি বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ওই দুর্যোগে ১,৭৩৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।
 

ভারত একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য কাজ করবে : জয়শঙ্কর

অনলাইন ডেস্ক
ভারত একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য কাজ করবে : জয়শঙ্কর

ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. সুব্রমণিয়ম জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘ভারত একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য কাজ করবে। যেখানে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠস্বর সমানভাবে শোনা যাবে।’

সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নির্বাচনে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রচার অভিযান শুরু করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সংঘাতদীর্ণ ও অস্থিতিশীল বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় জাতিসংঘের ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত, আস্থা, অখণ্ডতা ও নিয়ম-বিধির ওপর নির্ভর করে বিশ্ব শান্তি, নিরাপত্তা ও ভারসাম্য যুক্ত উন্নয়নের লক্ষ্যে যে মতাদর্শ নিয়ে এগিয়ে চলেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তি মিশন চালু হওয়ার পর থেকে ভারত ৫০টি মিশনে প্রায় তিন লাখ কর্মীকে পাঠিয়েছে। বর্তমানে ১০টি শান্তিরক্ষা বাহিনীতে চার হাজার ৩০০ জনের বেশি কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন।’

ভারত নির্বাচিত হলে ২০২৮ থেকে তাদের কার্যকালের মেয়াদ হবে ২’বছরের। এর আগে ভারত, নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে আট বার দায়িত্ব পালন করে। এর মধ্যে সাম্প্রতিকতম হল, ২০২১-২২ সালে।   

এদিকে বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতারেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সামাজিক মাধ্যমের এক বার্তায় ড. জয়শঙ্কর বলেন, তাদের মধ্যে পশ্চিম এশিয়া, ইউক্রেন এবং সুদান সহ আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।