• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিতে গিয়ে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪

সাতক্ষীরায় বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার ২

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার ২
সংগৃহীত ছবি

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল হামলা মামলায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ১২ জুন রাত ১০টার পর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল খাঁ বাদী হয়ে ১৩ জুন থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্দকাটি গ্রামের মৃত আরশাদ আলীর ছেলে নুরুল ইসলামকে মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে বাঁশতলা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া, একই মামলার সন্দেহভাজন আসামি উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের হাড়দ্দাহ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সজিব হোসেনকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মহসিন আলী অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হাড়দ্দাহ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। 
 

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রচারণা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রচারণা
ছবি : কালের কণ্ঠ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিরোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন রেলস্টেশনে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। এ উপলক্ষে যাত্রী, পথচারী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আশুগঞ্জ, তালশহর ও আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনসহ জেলার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে পথচারী, ট্রেনযাত্রী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

জানা গেছে, গত দুই মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলন্ত ট্রেনে একাধিকবার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একজন যাত্রী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং অপর একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে সেলাই দিতে হয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় ট্রেনযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর রেলওয়ে পুলিশ সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করলেও স্থানীয়দের অনেকের মতে, কেবল লিফলেট বিতরণ করে এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, ট্র্যাকসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগ আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

প্রচারাভিযানে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কুদ্দুস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম, আখাউড়া আরএনবির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমসহ রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হসপিটাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হসপিটাল
ছবি : কালের কণ্ঠ

মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড। ত্রাণ দেওয়া হয়েছে কোকদন্ডি, ইলশা, চাপাছড়ি, বাহারচড়া, মাইজপাড়া, বাশখালা, বাগমারা, কাথরিয়া, বৈলছড়িসহ আরো দুর্গত এলাকায়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক প্রয়াস কেবল একটি ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি নয়, বরং সমাজের প্রতি পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা।’

পার্কভিউ হসপিটালের মার্কেটিং ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম ও মার্কেটিং বন্যাদুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন।

প্রসঙ্গত, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া এলাকা প্লাবিত হয়। ২০১৪ সালের ফেনীর বন্যার পর এ অঞ্চলের এটি বড় মানবিক বিপর্যয়। গত ১০ জুলাই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, ১২ জুলাই বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলামসহ এনসিপি নেতৃবৃন্দ দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেন।

১৩ জুলাই সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন।

১৪ জুলাই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

নওগাঁয় ডাবে চেতনানাশক মিশিয়ে প্রতারণা, চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় ডাবে চেতনানাশক মিশিয়ে প্রতারণা, চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ডাবের পানিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা-পয়সা ও মালামাল হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি চুরি হওয়া অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল, আটটি মোবাইল ফোন, ১১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং ঘুমের ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় টানা ১৮ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লোহাইমুড়ি এলাকার মন্ত মিয়ার ছেলে ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনার খেজুরতলা এলাকার ইসাইল হোসেনের ছেলে হুমায়ন কবির (৫০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘি পূর্বপাড়া এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে খাজা মিয়া (৫৬) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই এলাকার ছই মুদ্দিনের ছেলে আব্দুল গফুর (৪১)।

পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই এক ব্যক্তি নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগী দেখার কথা বলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি অটোরিকশা রিজার্ভ ভাড়া নেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর আরও দুই ব্যক্তি নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে চালকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। পরে তারা চালককে একটি ডাব খেতে দেন। ওই ডাবের পানিতে আগে থেকেই চেতনানাশক ওষুধ মেশানো ছিল। ডাবের পানি পান করার পর চালক অচেতন হয়ে পড়লে তার অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারকরা।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ, অপরাধীদের তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ। পরে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল, আটটি মোবাইল ফোন, নগদ ১১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং ঘুমের ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার ইব্রাহীম ও হুমায়নের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ডাবের পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা-পয়সা ও মালামাল হাতিয়ে আসছিল। অপর দুই আসামি খাজা মিয়া ও আব্দুল গফুর প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’