দেশের সম্প্রচার সাংবাদিকদের সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) তাদের সদস্যদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও কল্যাণে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৮ জন সদস্যের হাতে ‘আফজালুর রহমান স্বাস্থ্য বীমা’র চেক তুলে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর বাংলামোটরে বিজেসি কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগী সদস্যদের হাতে স্বাস্থ্য বীমার মোট ৬ লাখ ২০ হাজার ৪৬৪ টাকার চেক তুলে দেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন বিজেসির সদস্যসচিব ইলিয়াস হোসেন এবং ট্রেজারার মানস ঘোষ।
বিজেসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সদস্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলে এই স্বাস্থ্য বীমার জন্য আবেদন করতে পারেন। সংগঠনের ‘কল্যাণ ও সুরক্ষা কমিটি’ যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে সুবিধাভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে। বিজেসির ট্রাস্টি হারুন অর রশীদ তালুকদারের নেতৃত্বে এই কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন বিজেসির নির্বাহী শাহনাজ শারমীন। এ ছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন নির্বাহী শামসুল হুদা, শহীদ আহমেদ এবং যুগ্ম নির্বাহী মনিরা ফেরদৌসী ও সালাম ফারুক।
সভাপতির বক্তব্যে বিজেসির চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ বলেন, সদস্যরাই বিজেসির প্রাণ। তাদের যেকোনো বিপদ-আপদে পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে চিকিৎসা খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই স্বাস্থ্য বীমা সুবিধাভোগীদের বড় ধরনের মানসিক ও আর্থিক স্বস্তি দেবে বলে আমার বিশ্বাস। সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে পেরে বিজেসি অত্যন্ত আনন্দিত এবং ভবিষ্যতেও এই মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সংগঠনের সদস্যসচিব ইলিয়াস হোসেন বলেন, বিজেসি সব সময়ই সদস্যদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে। এ পর্যন্ত সংগঠনের তিন শতাধিক সদস্যকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা সেই প্রয়াসেরই অংশ। বিজেসি ১০ কোটি টাকার একটি বিশাল কল্যাণ তহবিল গঠনের স্বপ্ন দেখছে, যার লভ্যাংশ দিয়ে ভবিষ্যতে সদস্যদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বিজেসির কল্যাণ ও সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও ট্রাস্টি হারুন অর রশীদ তালুকদার বলেন, সঠিক ও যোগ্য ব্যক্তি যেন এই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রয়োজনে আমরা সরেজমিনেও তথ্য যাচাই করি।
বীমার চেক পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সংগঠনের একজন সদস্য বলেন, বর্তমান সময়ে চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। বিজেসির এই বীমা সহায়তা আমার জন্য বিশেষ উপকার বয়ে এনেছে। সংগঠনের এই কল্যাণমুখী কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।
আরেকজন সদস্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সংগঠন যে সদস্যদের শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত জীবনের সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেয়—আজকের এই আয়োজন তারই প্রমাণ।
উল্লেখ্য, কোনো বীমা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২০১৯ সাল থেকে বিজেসি এই মানবিক সেবা দিয়ে আসছে। একজন সদস্য একবারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার এবং বছরে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত এই বীমা সুবিধা পেয়ে থাকেন। গত ৭ বছরে এই কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত ৩৩২ জন সদস্যকে মোট ৯২ লাখ ৩১ হাজার ৮৪২ টাকা দেওয়া হয়েছে।








