গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হয় যেন অনেক উঁচু জায়গা থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুরো শরীর কেঁপে ওঠে, বুক ধড়ফড় করে এবং ঘুম ভেঙে যায়। অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ঘটনাকে বলা হয় হিপনিক জার্ক বা স্লিপ স্টার্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি স্নায়বিক রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।
হিপনিক জার্ক কী?
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমের প্রথম ধাপে প্রবেশের সময় শরীরের পেশিতে হঠাৎ অনিচ্ছাকৃত সংকোচন বা ঝাঁকুনি তৈরি হলে তাকে হিপনিক জার্ক বলা হয়।
এ সময় অনেকেই অনুভব করেন—
- হঠাৎ উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাচ্ছেন।
- শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো ঝাঁকুনি।
- হাত-পা কেঁপে ওঠা।
- হঠাৎ চমকে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
- পড়ে যাওয়ার মতো স্বপ্ন দেখা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৭ জন মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।
ঘুমের কোন পর্যায়ে এটি ঘটে?
মানুষের ঘুম সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত—
নন-র্যাপিড আই মুভমেন্ট,
র্যাপিড আই মুভমেন্ট;
হিপনিক জার্ক সাধারণত ঘুমের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ঘটে, যখন শরীর ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করে এবং মস্তিষ্ক জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমের অবস্থায় প্রবেশ করে।
কেন হয়?
হিপনিক জার্কের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তবে কয়েকটি বিষয় এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন—
- অতিরিক্ত ক্লান্তি
- অনিদ্রা বা কম ঘুম
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
- রাতে অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ
- ধূমপান বা নিকোটিন গ্রহণ
- দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণে মস্তিষ্ক পুরোপুরি শিথিল হতে পারে না। ফলে ঘুমের শুরুতেই শরীর হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
এটি কি বিপজ্জনক?
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হিপনিক জার্ক স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় ঘটনা এবং এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তাই মাঝে মধ্যে এমন হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে যদি প্রায় প্রতিদিন এমন হয়, ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি হয়, শরীর শক্ত হয়ে যায়, মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়, ঘুমের মধ্যে অজান্তে প্রস্রাব হয়ে যায় বা অন্য অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এসব ক্ষেত্রে মৃগীরোগ বা অন্য কোনো স্নায়বিক সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
কী করলে কমবে?
বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা, ধূমপান কমানো, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করলে হিপনিক জার্কের প্রবণতা অনেকটাই কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার অনুভূতি বেশিরভাগ মানুষের জীবনেই একবার না একবার হতে পারে। এটি সাধারণত স্বাভাবিক হলেও বারবার ঘটলে বা এর সঙ্গে অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।





