• ই-পেপার

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ওপর থেকে পড়ে যাচ্ছেন মনে হয় কেন?

জলাবদ্ধতা, বন্যা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কোন রোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

অনলাইন ডেস্ক
জলাবদ্ধতা, বন্যা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কোন রোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?
টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ছবি : সংগৃহীত

টানা কয়েক দিন ধরেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে আর এতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে করে ঘরের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে।

অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পাশাপাশি নদীগুলোয় উজানের পানির ঢলে দেশের অনেক এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বাড়ছে নানা সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তারা ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, চর্মরোগ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) এবং কিছু ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ ও ই-এর মতো পানিবাহিত রোগ নিয়ে সচেতন করেছেন।

যেসব রোগ হতে পারে

জলাবদ্ধতা বা বন্যার সময় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন প্রথমত ঝুঁকি তৈরি হয় বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ খাবার এবং স্যানিটেশনের সংকট থেকে। ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, চারদিকে অনেক পানি আছে, কিন্তু খাবার মতো পানি নেই। এটাই বন্যার সময় সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি। ফলে নিরাপদ পানি ও খাবার নিশ্চিত করা না গেলে ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন খাবার ও পানিবাহিত রোগ দ্রুততম সময়ের মাঝেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ডায়রিয়া মূলত পেটের একটি অসুখ। সাধারণত দূষিত পানি আর পচা খাবার থেকে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। ডায়রিয়ার কারণে খুব দ্রুত শরীর থেকে পানি এবং ইলেক্ট্রোলাইট (খনিজ লবণ) বের হয়ে রোগী শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে আর এতে মৃত্যুর ঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষ করে, ডায়রিয়ায় শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

এদিকে কলেরা হলো ডায়রিয়াজনিত একটি সংক্রামক রোগ, যা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। অর্থাৎ সব ডায়রিয়া কলেরা নয়, তবে কলেরার প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র ডায়রিয়া। কলেরার জন্য দায়ী একটি বিশেষ ব্যাকটেরিয়া। কলেরার জীবাণুতে আক্রান্ত হলে শরীরে ডায়রিয়া দেখা দেয় ও রোগী ক্রমাগত বমি করতে পারে। রোগী বারবার বমি ও মলত্যাগ করতে থাকে। রোগী পানির তৃষ্ণা বেড়ে যেতে পারে। আবার দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া কিংবা হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে অনেকের। আবার অনেক রোগীর রক্তচাপও কমে যেতে দেখা যায়। আর কারও অবস্থা জটিল হয়ে গেলে কিডনি ফেইলিউর হলে, শকে চলে গেলে বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা গেলে মাইক্রো বায়োলজিক্যাল পরীক্ষার দরকার হয়।

মুশতাক হোসেন বলেন, কলেরা ও ডায়রিয়া আলাদা ভাইরাসের কারণে হলেও লক্ষণ প্রায় একই। দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরে পানিশূন্যতা ঠেকানো। আর এজন্য রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব ওরস্যালাইন (ওআরএস) খাওয়ানো, পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করা এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া প্রয়োজন।

দ্বিতীয় ধরনের ঝুঁকি আসে বন্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে তৈরি হওয়া দুর্ঘটনা ও পরিবেশগত কারণে। এমনকি শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাপ লোকালয়ে চলে আসে, ফলে সাপের কামড়ের ঘটনাও বাড়তে পারে। এছাড়া, জলাবদ্ধতার পানিতে হাঁটার সময় কাচ, টিন বা কোনো ধারালো বস্তুর আঘাতে পায়ে ক্ষত হতে পারে আর দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বন্যার পরে যেসব রোগের ঝুঁকি থাকে 

বন্যা বা জলাবদ্ধতা না থাকলেও কিন্তু স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকেই যায়। অনেক সময় কিছু রোগ এরপর দেখা দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ ও ই (জন্ডিস)। বাংলাদেশে পানি ও খাদ্যবাহিত রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এই টাইফয়েড। এই রোগের জটিলতায় শিশুর মস্তিষ্কে প্রদাহ, হেপাটাইটিস, পিত্তথলিতে প্রদাহ, অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া, অন্ত্র থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। অন্ত্রে রক্তক্ষরণ হলে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ ৭৮ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন এবং এতে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের ৬৮ শতাংশই শিশু।

হেপাটাইটিস এ ও ই সংক্রান্ত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পায় বন্যা বা জলাবদ্ধতা কবলিত এলাকায়। হেপাটাইটিস এ ও ই অন্যান্য হেপাটাইটিসের মত মারাত্মক নয়। তবে গর্ভবতী মায়েদের জন্য হেপাটাইটিস ই বেশ ক্ষতিকর হতে পারে। এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নিরাপদ পানির ব্যবহার। পাশাপাশি, তৈজসপত্র ধোয়া, গোসল করা এবং অন্যান্য ব্যবহারের পানিও যেন বিশুদ্ধ থাকে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।  

জলাবদ্ধতা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বসবাসের ফলে চর্মরোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়। কারণ অনেকসময় মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে গাদাগাদি করে তিন বা তিন দিনের বেশি সময় ধরে থাকতে হয়। আর সে খান থেকেই অনেকের মাধ্যমে চর্মরোগ ছড়িয়ে যায়। ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, চর্মরোগ যদি সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে না পারেন, সেখান থেকে কিডনির সমস্যা হতে পারে। যেমন, যদি কারও স্ক্যাবিস থাকে এবং সে হাত দিয়ে ভাত খায়, তাহলে কিডনির ভেতরে সেই ইনফেকশন যায়। 

উল্লেখ্য, স্ক্যাবিস একটি প্যারাসাইটিক বা পরজীবী চর্মরোগ। যে স্থান ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটা বেশি দেখা যায়। এছাড়া, কারও ত্বকে সংক্রমণ বা ফোঁড়া থাকলেও তা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ডা. হোসেন আরও জানান আশ্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যাও বাড়তে পারে।

বন্যা বা জলাবদ্ধতায় নারী-পুরুষ যে কেউ ইউটিআই বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নারীরাই সাধারণত এতে বেশি আক্রান্ত হন। অন্যদিকে বন্যার মতো দুর্যোগের সময় মানুষের পাশাপাশি অনেক পশু-পাখিও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে।আর সেখান থেকে প্রাণিবাহিত রোগ অ্যানথ্রাক্স হতে পারে।

কারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে সমাধানের উপায় 

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারীরা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে থাকেন। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই, জ্বর, পেশিব্যথা, ডায়রিয়া বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে হবে। গর্ভবতী নারীদের, বিশেষ করে যাদের প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসলে তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিতে হবে। 

এ ছাড়া ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া, নিরাপদ টয়লেট, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ দেন ডা. মুশতাক হোসেন।

যাদের শরীরে কাটা বা ক্ষত রয়েছে এবং দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ পানিতে থেকে কাজ করতে হয় তাদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সুস্থ থাকতে জলাবদ্ধতার পানি এড়িয়ে চলতে হবে। এতে নানান রোগ হয়। আর যদি পানিতে নামতেই হয় তাহলে দ্রুত  সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার হতে হবে। পরিষ্কার পোশাক পরতে হবে।

ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন?

জীবনযাপন ডেস্ক
ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন?
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিরতির সময় অনেক তারকা ফুটবলারকে মুখে পানি নিয়ে কুলি করে তা ফেলে দিতে দেখা যায়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি থেকে হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপের—প্রায় সবাইকে কোনো না কোনো সময় এমনটি করতে দেখা গেছে। অনেকেই মনে করেন, এটি হয়তো শুধুই অভ্যাস। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবলারদের এই অভ্যাসের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে।

ঘন লালা দূর করতেই কুলি 

ম্যাচের সময় টানা দৌড়ঝাঁপ ও কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীরে ‘এমইউসি৫বি’ নামে এক ধরনের মিউকাস বা শ্লেষ্মার পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে মুখের লালা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ও আঠালো হয়ে পড়ে। এই লালা গিলে ফেলতে অস্বস্তি হওয়ায় ফুটবলাররা মুখে পানি নিয়ে কুলি করে তা বাইরে ফেলে দেন।

মুখের শুষ্কতা কমাতে

খেলার সময় দীর্ঘক্ষণ মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এতে মুখের ভেতর শুকিয়ে যায় এবং ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। কুলি করলে মুখ কিছুটা আর্দ্র হয় এবং অস্বস্তিও কমে।

‘কার্ব রিনসিং’ কৌশল

সব সময় মুখে থাকা তরল সাধারণ পানি নয়। অনেক সময় ফুটবলাররা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ বিশেষ স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড রেখে কুলি করেন। একে বলা হয় ‘কার্ব রিনসিং’।

গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত তরল মুখের ভেতরের বিশেষ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে, যা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এতে মস্তিষ্ক শরীরকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়। ফলে ক্লান্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সহায়তা করে।

তাহলে পানীয়টি গিলে ফেলেন না কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাচ চলাকালে অতিরিক্ত স্পোর্টস ড্রিংক বা পানি পান করলে অনেক সময় পেট ভারী লাগা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা হতে পারে। এতে খেলায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই অনেক ফুটবলার পানীয়টি গিলে না ফেলে কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে কুলি করে বাইরে ফেলে দেন।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, এই কার্ব রিনসিং পদ্ধতি খেলোয়াড়দের দৌড়ানোর সক্ষমতা, মনোযোগ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তাই মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি বা বিশেষ স্পোর্টস ড্রিংক নিয়ে কুলি করে ফেলে দেওয়া কোনো অদ্ভুত অভ্যাস নয়; বরং এটি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত একটি কার্যকর কৌশল।

বর্ষায় বাগানের যত্নে খেয়াল রাখা জরুরি যে বিষয়গুলো

জীবনযাপন ডেস্ক
বর্ষায় বাগানের যত্নে খেয়াল রাখা জরুরি যে বিষয়গুলো
সংগৃহীত ছবি

বর্ষার ভেজা মাটিতে গাছপালা যেমন দ্রুত প্রাণ পায় ও বেড়ে ওঠে, তেমনই একটু অসাবধানতায় শখের বাগান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে এ সময় গাছে ছত্রাকের আক্রমণ বা শিকড় পচে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বর্ষার দিনে বাগান সতেজ রাখতে কয়েকটি সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি। চলুন, জেনে নিই।

নিয়ম করে মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা
বর্ষায় প্রায়ই বৃষ্টি হয় বলে অনেকেই গাছে আলাদা করে পানি দেওয়ার কথা ভুলে যান। নিয়মিত বৃষ্টি হলে সমস্যা নেই, তবে বৃষ্টি না হলে টবের মাটি পরীক্ষা করা দরকার। মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে অবশ্যই পানি দিতে হবে। আঙুল দিয়ে মাটি ছুঁয়ে পরখ করে নেওয়া ভালো, যদি শুকনো মনে হয় তবেই পানি দিন।

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি
বর্ষা আসার আগেই টব বা বাগানের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক করা উচিত। মাটি খুঁড়ে আলগা না করে দিলে কিংবা মাটিতে বালির পরিমাণ ঠিক না থাকলে পানি আটকে যায়। আর টবে পানি জমে থাকলে গাছের গোড়া দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যায়। ভেজা মাটির কারণে ছত্রাক ও বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়।

ছত্রাক ও পোকার আক্রমণ রোধ
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় গাছে নানা রকম পোকা ও ছত্রাকের উপদ্রব বাড়ে। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া, পাতায় সাদা তুলোর মতো ছোপ কিংবা কালচে দাগ পড়া এর অন্যতম লক্ষণ। এই সমস্যা দূর করতে গাছের গোড়া সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। বর্ষায় আগাছা খুব দ্রুত বাড়ে, তাই নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি টবের মাটি মাঝে মাঝে আলগা করে দিলে শিকড়ে হাওয়া চলাচল ভালো হয় এবং গাছ সুস্থ থাকে।

প্রমাণ মিলল গবেষণায়

সম্পর্ক বিচ্ছেদ : হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থেকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক
সম্পর্ক বিচ্ছেদ : হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থেকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি
সংগৃহীত ছবি

চারপাশে তাকালে সহজেই কিছু সম্পর্কের বিচ্ছেদ দেখা যায়। এমনকি অনেক সময় আমরা সেসব বিচ্ছেদের সাক্ষীও হয়ে তাকি। হতে পারে তা প্রেমের সম্পর্ক কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক। বিচ্ছেদ, প্রতারণার শিকার বা প্রিয়জনকে হারানোর ব্যথা কেবল একজন মানুষকে মানসিক কষ্টই দেয় না, বরং শারীরিক কষ্টও দেয়। গত দুই দশকে প্রকাশিত গবেষণাগুলো থেকে দেখা গেছে―তীব্র আবেগীয় আঘাত মানুষের হরমোন, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

চীনের নিংশিয়া মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস গ্র্যাজুয়েট ও মানসিক স্বাস্থ্য গবেষক ডা. প্রিন্স ঘোষ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উটাহর মনোবিজ্ঞানী ড. লিসা এম. ডায়মন্ড, এঞ্জেলা এম. হিক্স ও কিমবার্লি ডি. ওত্তার-হেন্ডারসন ২০০৮ সালে ৪২টি দম্পতির ওপর ২১ দিন একটি গবেষণা করেন, যা পরবর্তীতে জার্নাল অব পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজিতে প্রকাশিত হয়।

এ মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক দিনের বিচ্ছেদেই শরীরে কর্টিসল অর্থাৎ স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এর ফলে ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, ক্লান্তি এবং আরও বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। গবেষকদের মতে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে মানুষের মস্তিষ্ক নিরাপত্তার উৎস হিসেবে দেখে থাকে। কিন্তু সেটা হঠাৎ হারিয়ে গেলে শরীরে হাইপোথ্যালামিক-পিটুইটারি-অ্যাড্রেনাল এক্সিস সক্রিয় হয়ে স্ট্রেসের প্রতিক্রিয়া বেড়ে যায়।

ডা. প্রিন্স ঘোষ বলেন, আমরা প্রায়ই আমাদের আশপাশের কারও বিচ্ছেদ হলে তাকে বিভিন্ন কথা বলে সান্ত্বনা দিতে চাই এবং এই কষ্টকে তুচ্ছ হিসেবে দেখতে বলি। তবে এই কষ্ট যে তুচ্ছ নয়, তারও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মনোবিজ্ঞানী ড. ইথান ক্রস প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসে প্রকাশিত তার গবেষণাপত্রে দেখান, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার স্মৃতি মনে করলে মস্তিষ্কের যে অংশ শারীরিক ব্যথা অনুভবের সময় সক্রিয় হয়, অর্থাৎ মস্তিষ্কের সামনের সিংগুলেট কর্টেক্সের উপরের অংশ এবং মস্তিষ্কের সামনের ইনসুলা অঞ্চল সক্রিয় হয়।

২০২৪ সালে সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত একটি বৃহৎ মেটা-অ্যানালাইসিসে ৯৪টি গবেষণাপত্র ও প্রায় ১৩ দশমিক ৮ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেন, সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর কিছু মানুষের মধ্যে হৃদরোগ, শারীরিক অসুস্থতা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

বিচ্ছেদের সবচেয়ে গুরুতর তবে বিরল শারীরিক জটিলতা হলো ‘টাকোৎসুবো সিনড্রোম’ বা ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’। এই জটিলতার কারণে হৃদযন্ত্রের বাম নিলয় সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে বুকব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শুধু তা-ই নয়, ইসিজিতে এমন পরিবর্তন দেখা যায়, যা কিনা হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে মিলে যায় বলে জানান এ মানসিক স্বাস্থ্য গবেষক।

ডা. প্রিন্স ঘোষ জানান, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯০ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা সারভার হার্ট সেন্টারের ড. মোহাম্মদ রেজা মোভাহেদ ও তার সহকর্মীরা একটি গবেষণা করেন, যা ২০২৫ সালে জার্নাল অব দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, রোগীদের ৮৩ শতাংশ নারী হলেও পুরুষদের মৃত্যুহার প্রায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ, যা নারীদের (৫ দশমিক ৫ শতাংশ) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সামগ্রিক মৃত্যুহার ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অধিকাংশ রোগী চিকিৎসায় সুস্থ হলেও এ রোগে কার্ডিওজেনিক শক, হার্ট ফেইলিউর, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং স্ট্রোকের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ চিকিৎসক বলেন, বিচ্ছেদের পর শুধু মানসিক নয়, শারীরিকভাবেও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মত চিকিৎসা, পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনেক ক্ষেত্রেই গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।