বিদেশে পাসপোর্ট নবায়নে নানা ধরণের হয়রানির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে জাতীয় সংসদে। জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে পাসপোর্ট নবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা এবং দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে হয়রানির অভিযোগ দূর করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুতই এ কমিটি গঠন করা হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত নোটিশ উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীরা বিদেশে পাসপোর্ট নবায়নে দীর্ঘ অপেক্ষা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দাবি এবং দেশে ফিরে বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ও কাস্টমসের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই অর্জনের পেছনে প্রবাসী শ্রমিকদের নানা ত্যাগ ও দুর্ভোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৮১৩ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে এসেছে। আর ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভিসাসংক্রান্ত বিষয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিমানবন্দরের সেবার বিষয়টি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তবে প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, বিদেশে মৃত্যুবরণকারী নিবন্ধিত কর্মীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে দাফন ও পরিবহন ব্যয় হিসেবে তাৎক্ষণিক ৩৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩১২টি পরিবারকে এ বাবদ ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে বিনা খরচে মরদেহ ও অসুস্থ প্রবাসীদের পরিবহনসেবা দেওয়া হচ্ছে। নিবন্ধিত প্রবাসীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারকে ৩ লাখ টাকা এবং গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্পূরক প্রশ্নে এমপি রুমিন ফারহানা বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো ও অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা রোধে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার অবৈধপথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং প্রবাসীদের পাসপোর্ট, ভিসা ও মেডিকেল সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। এছাড়া এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।



