• ই-পেপার

৬ দিন ধরে নিখোঁজ ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা

দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা বিএনপির

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা বিএনপির
দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন ও সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌরসভা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নবগঠিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা শেষে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসেম ভূঁইয়াসহ ৮ জন যুগ্ম আহ্বায়কের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

মো. জসিম উদ্দিনকে আহ্বায়ক ও আবুল কালাম আজাদকে সদস্যসচিব করে ১৬ সদস্যের দেবীদ্বার উপজেলা কমিটি করা হয়েছে। এদিকে মো. শাহজাহান মোল্লাকে আহ্বায়ক ও মো. আনোয়ার হোসেন ভুলু পাঠানকে সদস্যসচিব করে ১৫ সদস্যের পৌর কমিটি ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান সিকদার, আবদুর রউফ, শাহজাহান কবির, আবদুর রহমান, ইউসুফ মিয়া, বিল্লাল হোসেন, হাজী মো. শহীদুল্লাহ, এ বি এম আবুল বাসার, মহসিন সরকার, মোহাম্মদ আলী, মো. আবদুল কাইয়ুম সরকার, মো. ছগির আহম্মেদ, ইব্রাহিম দিওন।

পৌরসভা আহ্বায়ক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মো. আব্দুর রহিম, বশির আহম্মেদ, মিজানুর রহমান মাষ্টার, মো. মনির, মো. আসাদুজ্জামান পাঠান, মো. জসীম, মোস্তফা কামাল, এ বি এম আবুল বাশার, মহসিন সরকার, মোহাম্মদ আলী।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাসেম ভূঁইয়া বলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির পূর্বের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তা বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেবীদ্বার দিয়ে শুরু হলেও আগামীতে বিএনপিকে আরো শক্তিশালী ও সুগঠিত করতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির অন্তর্ভুক্ত সব উপজেলা পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোকে সক্রিয় করতে আমরা কাজ করে, যাব ইনশাআল্লাহ। যাতে আগামী ৩ মাসের মধ‍্যেই জেলা, উপজেলা, পৌর/ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম কমিটিগুলো সম্পন্ন করতে পারি।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী বলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি হলো আর একদিন পরেই অর্থাৎ আজকেই দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌরসভার পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে তারা কমিটি ঘোষণা করে ফেলল। বিএনপির দুঃসময়ে ৪ বছর দলটাকে যারা শ্রম-ত‍্যাগের বিনিময়ে দলটাকে আগলে রেখেছি, দেখেশুনে রেখেছি, নতুন কমিটিগুলোতে তাদের কেউ স্থান পেল না। এখন যা করা হলো তা দলটাকে ধ্বংস করার জন্য করছে। দলের স্বার্থে এখন আন্দোলনে নামা ছাড়া গন্তব্য দেখছি না। তবে দেশে বন্যা পরিস্থিতির জন্য চুপচাপ আছি। 

বরিশালে ইয়াবাসহ আটক রোহিঙ্গা তরুণীর তিন বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে ইয়াবাসহ আটক রোহিঙ্গা তরুণীর তিন বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

বরিশালে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক রোহিঙ্গা তরুণীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ জুলাই) বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম এস এম শরিয়ত উল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত জাহিদা বেগম (২০) কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (আর/সি) এইচ ব্লকের ৬৩১ নম্বর শেডের বাসিন্দা মো. তাহেরের মেয়ে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৩ মে গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী মামুন পরিবহনের একটি বাস নগরীর কলসগ্রাম এলাকায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় বাসে থাকা জাহিদা বেগমের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে তল্লাশি করা হয়। পরে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে পাঁচটি প্যাকেটে থাকা এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন নাইম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করে একই থানার এসআই মো. ছানোয়ার হোসেন গত ২৩ জুন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। বিচার চলাকালে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় প্রদান করেন।

মিরসরাইয়ে নানির সঙ্গে গোসলে নেমে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে নানির সঙ্গে গোসলে নেমে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নানির সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে নাঈমুল ইসলাম (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের সৈদালী উত্তরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নাঈমুল ইসলাম সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাকখালী গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে। সে সৈদালী নূরানী মডেল মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

স্বজনরা জানান, দুপুরে মাদরাসা থেকে ফিরে নানির সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে যায় নাঈমুল। গোসল শেষে নানি তাকে ঘরে যেতে বললেও সবার অগোচরে সে আবার পুকুরে নেমে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্কুলশিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ১০ কোপ, আঙুল বিচ্ছিন্ন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
স্কুলশিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ১০ কোপ, আঙুল বিচ্ছিন্ন
আহত স্কুলশিক্ষিকা সিঁথি সীমিতা। সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক স্কুলশিক্ষিকাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে প্রিয়া বেগম (২৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলায় শিক্ষিকার মাথায় একাধিক কোপ লাগে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, আহত সিঁথি সীমিতা (২৮) স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। পাশাপাশি তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। গত তিন মাস ধরে তিনি প্রিয়া বেগমের মেয়েকে পড়াচ্ছিলেন। এজন্য মাসে দেড় হাজার টাকা সম্মানি পেতেন।

পরিবারের দাবি, সম্প্রতি টিউশনির বকেয়া টাকা চাওয়ায় প্রিয়া বেগম ক্ষুব্ধ হন। তবে শিক্ষিকার স্বজনদের আরেকটি অংশের দাবি, কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত নারী সিঁথির কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। সেই টাকা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো ছাত্রীকে পড়ানো শেষে বাসা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সিঁথি। এ সময় প্রিয়া বেগম দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।

আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, ‘প্রথম কোপটি মাথায় লাগার পর দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করেন সিঁথি। কিন্তু দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো ছিল। তাই বের হতে পারেননি। তার গলায়, হাতে ও কানে প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। কোপানোর সময় প্রিয়া বলছিল, ‘আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস ক্যান?’

পরে শিক্ষিকার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সিঁথির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা তার মাথায় ১০টি গভীর ক্ষত শনাক্ত করেছেন, যেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে।

মামলার বাদী শিশু মিয়া বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। হামলার পেছনে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ টিউশনির বকেয়া, ধার-সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য—সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।