কুমিল্লার বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১২ জন শিক্ষক ও একজন হিসাব সহকারীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কলেজের অডিটরিয়াম কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভা শেষে নবনিযুক্ত শিক্ষক ও হিসাব সহকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে তাদের বরণ করে নেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. কবির হোসেন এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজির অধ্যক্ষ আলহাজ আবু তাহের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং মডেল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল, অভিভাবক সদস্য অধ্যাপক মো.গিয়াস উদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিষ্ঠানের অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ‘বুড়িচং মডেল একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে স্কুল শাখাটি কুমিল্লা জেলায় সুনাম অর্জন করে। চলতি বছর ২০২৬ সালে (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে কলেজ শাখা চালুর অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৫০ জনেরও বেশি প্রার্থী আবেদন করেন। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত নিয়োগ ও নির্বাচনীয় পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগের নিয়োগ ও নির্বাচনী বোর্ড কর্তৃক ১২ জন শিক্ষক এবং একজন হিসাব সহকারী নির্বাচিত হন।
নবনিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন— হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল হক, ইংরেজি বিভাগের খাদিজা খাতুন, বাংলা বিভাগের আবুল বাশার মুহাম্মদ গোলাম আযম, গণিত বিভাগের শিক্ষিকা তাসনিম জাহান তন্নি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিভাগের রমজান হোসেন, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের পলাশ কুমার সরকার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফাতেমা আক্তার, জীববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল্লাহ আল সজল, রসায়ন বিভাগের সুলতানা আক্তার, সমাজকর্ম বিভাগের সাইয়্যেদুল মোরসালিন, বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবনিযুক্ত ১২ শিক্ষক ও হিসাব সহকারীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
অনুষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আলহাজ আবু তাহের বলেন, ‘একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ভালো ফলাফলই নয়, একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ প্রতিষ্ঠান অত্র অঞ্চলের অন্যতম মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে যারা পরামর্শ, শ্রম ও সহযোগিতা দিয়ে অবদান রেখেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. কবির হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা এবং কলেজ শাখার শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী। তিনি আরো বলেন, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সব বিভাগের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলবে, এতে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে মেধাবী গরিব ও (এ-প্লাস) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।




