• ই-পেপার

বরিশালে ইয়াবাসহ আটক রোহিঙ্গা তরুণীর তিন বছরের কারাদণ্ড

বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফুলেল অভ্যর্থনায় ১২ নবনিযুক্ত শিক্ষক

মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ঘোষণা

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফুলেল অভ্যর্থনায় ১২ নবনিযুক্ত শিক্ষক
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১২ জন শিক্ষক ও একজন হিসাব সহকারীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কলেজের অডিটরিয়াম কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভা শেষে নবনিযুক্ত শিক্ষক ও হিসাব সহকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে তাদের বরণ করে নেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. কবির হোসেন এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজির অধ্যক্ষ আলহাজ আবু তাহের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং মডেল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল, অভিভাবক সদস্য অধ্যাপক মো.গিয়াস উদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রতিষ্ঠানের অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ‘বুড়িচং মডেল একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে স্কুল শাখাটি কুমিল্লা জেলায় সুনাম অর্জন করে। চলতি বছর ২০২৬ সালে (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে কলেজ শাখা চালুর অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৫০ জনেরও বেশি প্রার্থী আবেদন করেন। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত নিয়োগ ও নির্বাচনীয় পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগের নিয়োগ ও নির্বাচনী বোর্ড কর্তৃক ১২ জন শিক্ষক এবং একজন হিসাব সহকারী নির্বাচিত হন।

নবনিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন— হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল হক, ইংরেজি বিভাগের খাদিজা খাতুন, বাংলা বিভাগের আবুল বাশার মুহাম্মদ গোলাম আযম, গণিত বিভাগের শিক্ষিকা তাসনিম জাহান তন্নি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিভাগের রমজান হোসেন, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের পলাশ কুমার সরকার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফাতেমা আক্তার, জীববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল্লাহ আল সজল, রসায়ন বিভাগের সুলতানা আক্তার, সমাজকর্ম বিভাগের সাইয়্যেদুল মোরসালিন, বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবনিযুক্ত ১২ শিক্ষক ও হিসাব সহকারীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। 

অনুষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আলহাজ আবু তাহের বলেন, ‘একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ভালো ফলাফলই নয়, একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ প্রতিষ্ঠান অত্র অঞ্চলের অন্যতম মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’  তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে যারা পরামর্শ, শ্রম ও সহযোগিতা দিয়ে অবদান রেখেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. কবির হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা এবং কলেজ শাখার শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী। তিনি আরো বলেন, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সব বিভাগের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলবে, এতে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে মেধাবী গরিব ও (এ-প্লাস) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

লালমাইয়ে বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

লালমাই-সদর দক্ষিণ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লালমাইয়ে বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার লালমাইয়ে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা করায় এক বিধবার বসতঘর ভাঙচুর করছে প্রতিপক্ষ। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা করায় এক বিধবার বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মিতল্লা গ্রামে মরহুম আবদুস সাত্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি বসতঘরের টিনের বেড়া খুলে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছেন। এ সময় বিধবা পেয়ারা বেগম ও তাঁর ছেলেরা কান্নাকাটি করে ঘর ভাঙচুর বন্ধের অনুরোধ করছেন এবং আশপাশের লোকজনকে ঘটনাটি দেখতে ডাকছেন। তবে ভিডিওতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়নি।

পুলিশ, ভূমি অফিস ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মিতল্লা গ্রামের মরহুম আবদুস সাত্তারের স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬০) তাঁর তিন ছেলে শহিদুল ইসলাম, সুজন ও ইসমাইলকে নিয়ে স্বামীর বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন আগে আবদুস সাত্তারের একটি খালি ভিটি জমি তাঁর ভাই আবদুল মান্নান জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করেন পেয়ারা বেগম। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় লালমাই উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)। তদন্তের অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহ আগে লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম উভয় পক্ষকে শান্তি ভঙ্গ না করার নোটিশ দেন। মঙ্গলবার উপজেলা সার্ভেয়ার আবু হানিফ সরেজমিন তদন্ত শেষে ফিরে গেলে, অভিযোগ অনুযায়ী, আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আবুল কালাম ও আবু তাহেরসহ কয়েকজন গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে পেয়ারা বেগমের বসতঘর ভেঙে ফেলা হয়।

ভুক্তভোগী পেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার দেবর আবদুল মান্নান আমার স্বামীর রেখে যাওয়া জমি দখল করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। তাই আদালতে মামলা করেছি। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর তারা আমাদের বসতঘর ভেঙে দেয়। এ সময় আমার ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, ছেলের একটি রেডমি মোবাইল ফোন এবং কিছু নগদ টাকা নিয়ে যায়। আমরা অনেক অনুরোধ করলেও তারা ঘর ভাঙা বন্ধ করেনি।’

লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৪৫ ধারার মামলার নোটিশ উভয় পক্ষকে দিয়েছি, যাতে কেউ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে। পরে কিভাবে ঘর ভাঙচুর হয়েছে, সেটি আমার দায়িত্বের বিষয় নয়।

ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘর ভাঙচুরের ভিডিও দেখে ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মান্নানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানিকে গণপিটুনি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানিকে গণপিটুনি
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম (৫০) নামের এক মুদি দোকানিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার বিশ্বাস পাড়া এলাকায় একটি মার্কেটে মুদি দোকানের ব্যবসা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় দিকে বিস্কিট কেনার জন্য বাড়ির পাশের শরিফুলের দোকানে যায় ভুক্তভোগী ওই শিশু। এ সময় ওই দোকানদার কৌশলে বিস্কুটের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাকে দোকানের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ওই কক্ষের দরজা ভেঙে বস্তার ভেতর লুকানো অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর বিষয়টি দামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করলে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই দোকানদারকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মুদির দোকানদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

২৪ ঘণ্টা পর রাজশাহীতে বাস চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ ঘণ্টা পর রাজশাহীতে বাস চলাচল শুরু
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধ থাকার ২৪ ঘণ্টা পর অবশেষে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সোয়া ৯টা থেকে রাজশাহীর সব রুটে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ডিসি (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে বাস শ্রমিকদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচন কমিটিতে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল থাকবেন না। এই সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকেরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। তবে নির্বাচনকালীন আহ্বায়ক কমিটিতে ‘পাখি গ্রুপ’ ও ‘মোমিন গ্রুপ’ থেকে চারজন করে মোট আটজন সদস্য থাকবেন।

বাস শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যরা বেশ কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকেরা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। নির্বাচন দাবিকারী শ্রমিকদের ওপর গত ২৩ এপ্রিল হামলার ঘটনাও ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পাখিসহ তার অনুসারীরা সেদিন বাস টার্মিনাল এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি করেন।

পরবর্তী সময়ে এই রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি করে ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন। সাধারণ শ্রমিকেরা এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে গত মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট ডাকেন। তখন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হস্তক্ষেপ করে ঈদের পর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল।

তবে নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম শ্রমিকদের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আমি নিজেই নির্বাচনী কমিটি করার প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব না মেনে শ্রমিকেরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন, যা তারা করতে পারেন না। তার পরেও বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৮টা থেকে রাজশাহী থেকে আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ওই দিন রাতে দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যেতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

শ্রমিকদের দাবি, নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সোমবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ওই সভায় শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখির অনুসারী নজরুল ইসলাম হেলালও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিরোধী পক্ষের শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন, সংগঠনের সাধারণ সভা ডেকে যেন নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়।

কিন্তু জেলা প্রশাসক জানান, এই মুহূর্তে সাধারণ সভা করা সম্ভব নয়। এরপর তিনি নজরুল ইসলাম হেলাল ও পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন। হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকেরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের শ্রমিক নেতাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকেরা ডিসির সামনেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর রাত থেকেই বাস বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে সোমবার রাতে ডিসির কার্যালয় থেকে দুই পক্ষের নেতারা শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ফিরলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক নজরুল ইসলাম হেলালের ব্যক্তিগত চেম্বার ভাঙচুর করেন। চেম্বারে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম হেলাল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, ‘ডিসি স্যার একটি পক্ষের অবস্থান নিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমরা সাধারণ সভা করে নির্বাচনী কমিটি করার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি নজরুল ইসলাম হেলালকে কমিটিতে রেখে দিতে চান। হেলাল কমিটিতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সাধারণ শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাস বন্ধ করে দিয়েছিলেন।’

অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘মিটিংয়ে কথা-কাটাকাটি হতেই পারে। কিন্তু তার জেরে বাস বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে হামলা চালানো কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। তারা বাস বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও আমরা মালিকপক্ষ থেকে বাস চালু রাখার পক্ষে ছিলাম।’