• ই-পেপার

দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা বিএনপির

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’

পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ভেসে গেছে ১৪০০ পুকুরের মাছ

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ভেসে গেছে ১৪০০ পুকুরের মাছ
ছবি: কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম মৎস্য ও পোনা উৎপাদনের কেন্দ্র পটিয়া উপজেলা। উপজেলার শত শত বাণিজ্যিক মাছের খামার ও রেণু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার মাছ ও পোনা সরবরাহ হয় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এই খাতকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো পরিবার। কিন্তু এবারের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় সেই সম্ভাবনাময় মৎস্য খাত নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব। ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে পড়ে মাছ ও পোনা পাশের খাল, বিল ও নদীতে চলে গেছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে কয়েক মাসের লালন-পালন করা বাজারজাত মাছ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন রেণু উৎপাদনকারী খামারিরা।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাইদগাঁও, কেলিশহর, দক্ষিণ ভূর্ষি ও ধলঘাট ইউনিয়নে রেণু উৎপাদনকারী খামারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে খরনা, শোভনদণ্ডী, কচুয়াই, ছনহরা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা ও পটিয়া পৌরসভা এলাকায় বাণিজ্যিক মাছচাষিদের অধিকাংশ পুকুর পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। শুধু মাছ হারানোই নয়, পুকুরের বাঁধ, স্লুইস, জাল, পাম্প, খাদ্য ও অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বহু চাষি এক মৌসুমের পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছেন। পটিয়ায় মোট পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০, পুরো চট্টগ্রামের দুই-তৃতীয়াংশ নার্সারি পটিয়াতে। পটিয়া থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মাছ চাষিরা পোনা নিয়ে যায়।

00

পটিয়া পৌরসভার হক ফিশারিজের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘এক রাতের বন্যায় আমার কয়েকটি পুকুরের প্রায় সব মাছ বেরিয়ে গেছে। শুধু মাছ নয়, পুকুরের অবকাঠামোও নষ্ট হয়েছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন করে উৎপাদনে ফেরা কঠিন।’

মৎস্যচাষি রকিব হাসান বলেন, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। বিক্রির সময় ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি দেব কিভাবে, সংসার চালাব কিভাবে—সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

খামারিদের অভিযোগ, বন্যার আগাম সতর্কতা থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় মাছ রক্ষায় কোনো কার্যকর কারিগরি সহায়তা বা জরুরি প্রস্তুতি ছিল না। ফলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ পুকুরের মাছ বেরিয়ে যায়। তবে উপজেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, এবারের পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রম।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এমন অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ঘটনা ঘটেনি। ফলে অনেক চাষির পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। যেসব পুকুর এখনো পুরোপুরি তলিয়ে যায়নি, সেখানে জাল বা বাঁশের বানা দিয়ে মাছ আটকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পর পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় মাছের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি চুন প্রয়োগ এবং আপাতত সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রকৃত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।’

মৎস্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘পটিয়ার রেণু উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব শুধু উপজেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী মৌসুমে পোনার সংকট দেখা দিলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের জেলার মাছচাষও ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে মাছের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয় চাষিদের দাবি, ক্ষতির তালিকা তৈরির পাশাপাশি দ্রুত আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ, সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর সংস্কারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। অন্যথায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত পটিয়ার এই সম্ভাবনাময় খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ে যেতে পারে।11এদিকে পটিয়ার মৎস্য খাত শুধু মাছ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রেণু উৎপাদন, মাছের খাদ্য ব্যবসা, পরিবহন, বরফকল, আড়ত, খুচরা বিক্রেতা এবং হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ফলে এই বন্যার প্রভাব পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন করা না গেলে আগামী মৌসুমে মাছ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দামও বাড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের দাবি, শুধু ক্ষতির তালিকা করলেই হবে না জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা বিতরণ, মাছের খাদ্য সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এবারের বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠা অনেক খামারির পক্ষেই সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদের পর এবার মৎস্য খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে পটিয়ায়। প্রাথমিক ক্ষতির অঙ্ক ৩ কোটি টাকা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, ইউনিয়নভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পর ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বাড়তে পারে। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং কার্যকর পুনর্বাসনই এখন পটিয়ার মৎস্য খাতকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফুলেল অভ্যর্থনায় ১২ নবনিযুক্ত শিক্ষক

মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ঘোষণা

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফুলেল অভ্যর্থনায় ১২ নবনিযুক্ত শিক্ষক
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১২ জন শিক্ষক ও একজন হিসাব সহকারীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কলেজের অডিটরিয়াম কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভা শেষে নবনিযুক্ত শিক্ষক ও হিসাব সহকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে তাদের বরণ করে নেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. কবির হোসেন এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজির অধ্যক্ষ আলহাজ আবু তাহের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং মডেল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল, অভিভাবক সদস্য অধ্যাপক মো.গিয়াস উদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রতিষ্ঠানের অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ‘বুড়িচং মডেল একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে স্কুল শাখাটি কুমিল্লা জেলায় সুনাম অর্জন করে। চলতি বছর ২০২৬ সালে (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে কলেজ শাখা চালুর অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৫০ জনেরও বেশি প্রার্থী আবেদন করেন। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত নিয়োগ ও নির্বাচনীয় পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগের নিয়োগ ও নির্বাচনী বোর্ড কর্তৃক ১২ জন শিক্ষক এবং একজন হিসাব সহকারী নির্বাচিত হন।

নবনিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন— হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল হক, ইংরেজি বিভাগের খাদিজা খাতুন, বাংলা বিভাগের আবুল বাশার মুহাম্মদ গোলাম আযম, গণিত বিভাগের শিক্ষিকা তাসনিম জাহান তন্নি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিভাগের রমজান হোসেন, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের পলাশ কুমার সরকার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফাতেমা আক্তার, জীববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল্লাহ আল সজল, রসায়ন বিভাগের সুলতানা আক্তার, সমাজকর্ম বিভাগের সাইয়্যেদুল মোরসালিন, বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবনিযুক্ত ১২ শিক্ষক ও হিসাব সহকারীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। 

অনুষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আলহাজ আবু তাহের বলেন, ‘একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ভালো ফলাফলই নয়, একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ প্রতিষ্ঠান অত্র অঞ্চলের অন্যতম মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’  তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে যারা পরামর্শ, শ্রম ও সহযোগিতা দিয়ে অবদান রেখেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. কবির হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা এবং কলেজ শাখার শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী। তিনি আরো বলেন, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সব বিভাগের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলবে, এতে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে মেধাবী গরিব ও (এ-প্লাস) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

লালমাইয়ে বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

লালমাই-সদর দক্ষিণ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লালমাইয়ে বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার লালমাইয়ে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা করায় এক বিধবার বসতঘর ভাঙচুর করছে প্রতিপক্ষ। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা করায় এক বিধবার বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মিতল্লা গ্রামে মরহুম আবদুস সাত্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি বসতঘরের টিনের বেড়া খুলে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছেন। এ সময় বিধবা পেয়ারা বেগম ও তাঁর ছেলেরা কান্নাকাটি করে ঘর ভাঙচুর বন্ধের অনুরোধ করছেন এবং আশপাশের লোকজনকে ঘটনাটি দেখতে ডাকছেন। তবে ভিডিওতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়নি।

পুলিশ, ভূমি অফিস ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মিতল্লা গ্রামের মরহুম আবদুস সাত্তারের স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬০) তাঁর তিন ছেলে শহিদুল ইসলাম, সুজন ও ইসমাইলকে নিয়ে স্বামীর বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন আগে আবদুস সাত্তারের একটি খালি ভিটি জমি তাঁর ভাই আবদুল মান্নান জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করেন পেয়ারা বেগম। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় লালমাই উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)। তদন্তের অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহ আগে লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম উভয় পক্ষকে শান্তি ভঙ্গ না করার নোটিশ দেন। মঙ্গলবার উপজেলা সার্ভেয়ার আবু হানিফ সরেজমিন তদন্ত শেষে ফিরে গেলে, অভিযোগ অনুযায়ী, আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আবুল কালাম ও আবু তাহেরসহ কয়েকজন গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে পেয়ারা বেগমের বসতঘর ভেঙে ফেলা হয়।

ভুক্তভোগী পেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার দেবর আবদুল মান্নান আমার স্বামীর রেখে যাওয়া জমি দখল করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। তাই আদালতে মামলা করেছি। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর তারা আমাদের বসতঘর ভেঙে দেয়। এ সময় আমার ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, ছেলের একটি রেডমি মোবাইল ফোন এবং কিছু নগদ টাকা নিয়ে যায়। আমরা অনেক অনুরোধ করলেও তারা ঘর ভাঙা বন্ধ করেনি।’

লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৪৫ ধারার মামলার নোটিশ উভয় পক্ষকে দিয়েছি, যাতে কেউ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে। পরে কিভাবে ঘর ভাঙচুর হয়েছে, সেটি আমার দায়িত্বের বিষয় নয়।

ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘর ভাঙচুরের ভিডিও দেখে ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মান্নানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানিকে গণপিটুনি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানিকে গণপিটুনি
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম (৫০) নামের এক মুদি দোকানিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার বিশ্বাস পাড়া এলাকায় একটি মার্কেটে মুদি দোকানের ব্যবসা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় দিকে বিস্কিট কেনার জন্য বাড়ির পাশের শরিফুলের দোকানে যায় ভুক্তভোগী ওই শিশু। এ সময় ওই দোকানদার কৌশলে বিস্কুটের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাকে দোকানের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ওই কক্ষের দরজা ভেঙে বস্তার ভেতর লুকানো অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর বিষয়টি দামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করলে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই দোকানদারকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মুদির দোকানদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’