• ই-পেপার

ফের উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পুলিশের গুলিতে নিহত ৬

পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে পুতিনকে নিবৃত করেছিলেন মোদি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে পুতিনকে নিবৃত করেছিলেন মোদি
সংগৃহীত ছবি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ টিওফিল বার্তোশেভস্কি নরেন্দ্র মোদির ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের এমন কয়েকজন নেতার একজন, যার মতামতকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন।’

২০২২ সালের শেষের দিকের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ‘যুদ্ধের সময় রাশিয়াকে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়ে রাজি করাতে মোদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।’

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোশেভস্কি বলেন, রাশিয়ার সাথে ভারতের কয়েক দশকের পুরোনো সম্পর্ক নয়াদিল্লিকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যা দেশটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। 

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন অত্যন্ত সুপরিচিত ও সম্মানিত বিশ্বনেতা। জোটনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে রাশিয়া এবং তার আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন আসলে প্রধানমন্ত্রী মোদির কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন।’ 

পোল্যান্ডের এই মন্ত্রী বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর সাথে যোগাযোগ যখন ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদি হলেন সেই অল্প কয়েকজন নেতার একজন যিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে প্রভাবিত করতে পারেন। এই যুদ্ধ বন্ধে সাহায্য করার জন্য মোদি এটা করতেই পারেন।’

বার্তোশেভস্কির মতে, ‘যুদ্ধে সংযত হওয়ার আহ্বানগুলো যদি এমন দেশ থেকে আসে, রাশিয়া যাদের শত্রু মনে করে না, তাহলে সেটার গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।’

এ প্রসঙ্গে ভারতের পাশাপাশি চীনের নামও উল্লেখ করেন, ‘শুধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিই নন, চীনের শি জিনপিংও এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন এমন দেশগুলোর কাছ থেকে এই আহ্বান আসে যাদের রাশিয়া শত্রু ভাবাপন্ন মনে করে না। এক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, মস্কোর সাথে নতুন দিল্লির সম্পর্কের কারণে প্রধানমন্ত্রী মোদির ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য অন্য দেশগুলোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে দেওয়া এক বক্তব্যে পুতিন বলেছিলেন, ‘আমরা আনন্দিত যে ভারত তার জাতীয় স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এমন সব দেশের সাথেই নিজের সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে।’

জুয়ার টাকার জন্য ১৪ জনকে বিয়ে করলেন এক নারী

অনলাইন ডেস্ক
জুয়ার টাকার জন্য ১৪ জনকে বিয়ে করলেন এক নারী
সংগৃহীত ছবি

জুয়ার নেশার অর্থ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তবে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতার কারণে তার কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশন (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খবর সিরাকিউস

অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ‘ভিকি লিয়াং’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন তিনি।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের কাছে দাবি করতেন যে, চীনে থাকা অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ প্রয়োজন। এই অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই অর্থ আত্মীয়দের চিকিৎসায় নয়, বরং লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল উইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেই ব্যয় করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, শুধু গত এক বছরেই চেন জুয়া খেলতে গিয়ে তিন লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন।

গত ৯ জুলাই বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন চেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহারে সম্মত হয় প্রসিকিউশন। পাশাপাশি আদালতে তার জন্য প্রবেশনের সুপারিশও করা হবে।

আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করা হবে। আইনে বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, প্রসিকিউশনের সুপারিশের কারণে তিনি অল্প সময়ের কারাভোগ অথবা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই চেন বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের পর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পরই তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। এক ভুক্তভোগীর দাবি, অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পর চেন জানিয়ে দেন যে তিনি আর বৈবাহিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না।

জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এছাড়া লাস ভেগাসে বিয়ে করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় শহরটিকেই তিনি তাঁর প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

বাংলাদেশে চলমান ভারতের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যা বলল নয়াদিল্লি

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে চলমান ভারতের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যা বলল নয়াদিল্লি
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন ভারতীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাতিলের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের যে উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি রয়েছে, তা সম্পূর্ণ দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই পরিচালিত হয় এবং ভবিষ্যতেও তা একইভাবে অব্যাহত থাকবে। 

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ভারতের ১১টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প অগ্রগতির ‘অভাব’ থাকায় স্থগিত হতে পারে- এমন গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের যে উন্নয়ন প্রকল্প কর্মসূচি রয়েছে, তা বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই করা হয়েছে এবং তা এখনো সেভাবেই চলছে।’

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল, এই বক্তব্যের মাধ্যমে অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি।

এর আগে গত সপ্তাহেও রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ভারতের দেওয়া আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মূলত একটি দ্বিপক্ষীয় এবং যৌথভাবে অনুমোদিত রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যা উভয় দেশ নিয়মিত পর্যালোচনা করে থাকে।

ফের মুখোমুখি লেবানন-ইসরায়েল, গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

অনলাইন ডেস্ক
ফের মুখোমুখি লেবানন-ইসরায়েল, গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়
ছবি : রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা চাপে পড়েছে। তারই অংশ হিসেবে ইরান লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। তবে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হয়।

গত মাসে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন একটি শান্তি কাঠামোয় সম্মত হয়। কিন্তু এরপরও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ ওই চুক্তি এবং তাদের নিরস্ত্র করার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ইতালির রাজধানী রোমে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা আবারও আলোচনায় বসেছেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের দুটি পরীক্ষামূলক অঞ্চল নিয়ে সমঝোতা বাস্তবায়নে ইসরায়েল প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার। ইতালির রোমে লেবাননের সঙ্গে চলমান আলোচনা এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি পরীক্ষামূলক অঞ্চল পরিকল্পনা। এর আওতায় ধাপে ধাপে হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণ করবে, ইসরায়েলি বাহিনী সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সরে যাবে এবং সেখানে পর্যায়ক্রমে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।

তবে দ্রুত কোনো সমাধান আসবে—এমন প্রত্যাশা কম বলেই কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড লেবানন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্তজুড়ে লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ দখল করে রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলোকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে সুরক্ষা দিতেই এই নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা প্রয়োজন।