• ই-পেপার

আখাউড়ায় নবগঠিত বরিশল ইউনিয়নের কার্যক্রম শুরু

কিশোরগঞ্জে মাদক কারবারিকে এক বছরের কারাদণ্ড

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে মাদক কারবারিকে এক বছরের কারাদণ্ড
দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক সালমান। সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবন ও কারবারের অভিযোগে সালমান (২৩) নামের এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে উপজেলার পুলেরঘাট বাজার এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

দণ্ডপ্রাপ্ত সালমান উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাটকাহন গ্রামের মৃত বকুল মিয়ার ছেলে।

পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জনি জানান, সালমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি পুলেরঘাট বাজার এলাকায় মাদক বিক্রি করছেন— এমন তথ্য পেয়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপম দাস। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সালমানকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

ইউএনও রুপম দাস বলেন, মাদক সেবন ও কারবারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত সালমানকে মঙ্গলবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কুড়িগ্রামে রাস্তা নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে রাস্তা নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জিন্নাত আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত জিন্নাত আলী ওই গ্রামের আব্দুর সাত্তারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সরকারি একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই জিন্নাত আলীর মৃত্যু হয়।

উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।

বিষয়‌টি নিশ্চিত ক‌রে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দাবি

রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাঁরা সাধারণ সভা করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি তুলে এ আন্দোলন শুরু করেছেন।

বাস শ্রমিকরা জানান, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অধিকাংশ সদস্যই বেশ কয়েক মাস ধরে সংগঠনের এ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে শ্রমিকেরা দুই ভাগে বিভক্ত। যারা নির্বাচন দাবি করছেন তাদের ওপর গত ২৩ এপ্রিল হামলার ঘটনাও ঘটে। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পাখিসহ তার অনুসারীরা সেদিন টার্মিনাল এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি করেন।

পরে এই রফিকুল ইসলাম পাখিকেই সভাপতি করে ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন। এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকরা গত মে মাসে কয়েকদফা ধর্মঘট করেন। পরে জেলা প্রশাসক গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ঈদের পর নির্বাচন হবে।

তবে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম শ্রমিকদের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আমি নিজেই নির্বাচনী কমিটি করার প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব না মেনে শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এটি তারা করতে পারেন না। তার পরেও বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টা থেকে রাজশাহী থেকে আন্ত জেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ওইদিন রাতে শুধু দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যায়। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটেরই বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।

শ্রমিকরা জানান, নির্বাচন আয়োজন করতে গত সোমবার বিকেলে নিজের কার্যালয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বসেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ওই সভায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালও ছিলেন। শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখির অনুসারী নজরুল ইসলাম। অপরদিকে তাদের বিরোধী শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন, সংগঠনের সাধারণ সভা করে যেন নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়।

কিন্তু জেলা প্রশাসক জানান, এখন সাধারণ সভা করা সম্ভব নয়। কয়েকজনের কথা শোনার পর তিনি বলেন, ‘নজরুল ইসলাম হেলালসহ পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে তিনি একটি নির্বাচনী কমিটি গঠন করে দেবেন। তারা নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। তখন হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিক নেতারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের শ্রমিক নেতাদের কথা-কাটাকাটি হয়। তখন হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকেরা ডিসির সামনেই বাস বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে চলে আসেন। এরপর রাত থেকে বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

এদিকে ডিসির কার্যালয় থেকে দুইপক্ষের শ্রমিক নেতারা শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় এলে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ওইদিন রাতে কিছু শ্রমিক নজরুল ইসলাম হেলালের ব্যক্তিগত চেম্বার ভাঙচুর করেন। চেম্বারে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ নজরুল ইসলাম হেলাল।

জানতে চাইলে শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, ‘ডিসি স্যার একটা পক্ষ নিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সাধারণ সভা করে নির্বাচনী কমিটি করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি দু-একজনের কথা শুনেই নজরুল ইসলাম হেলালকে রেখে কমিটি করে দিতে চাইলেন। তিনি থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই শ্রমিকেরা বাস বন্ধ করে দিয়েছেন।’

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘মিটিং হলে সেখানে কথা-কাটাকাটি হতেই পারে। এর জেরে বাস বন্ধ রাখা কিংবা চেম্বারে হামলা করা ঠিক হয়নি। তারা বাস চলাচলও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে আমরা মালিকপক্ষ। আমরা বলছি, বাস চলাচল করবে।’

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রচারের পর ভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রচারের পর ভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন ইউএনও আফরোজা আফসানা।

কালের কণ্ঠে যমুনা নদীর ভাঙনে দিশাহারা সরিষাবাড়ী মানুষ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের পর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের নলসন্ধায় ভাঙনকবলিত এলাকায় পরিদর্শন শেষে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই প্রমত্তা যমুনা নদীর জোয়ারের তীব্র ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর নলসন্ধা, ডাকাতিয়ামেন্দা, মিরকুটিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। গত ১৫ দিনের টানা ভাঙনে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসতবাড়ী, মসজিদ, মাদরাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ নিয়ে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। 

এর পরই ইউএনও আফরোজা আফসানা সরজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভাঙনের শিক্ষার স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার তাদের পাশে আছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ভাঙন রোধের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল, কৃষি কর্মকর্তা অনুপ সিংহ, মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তলাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপি নেতা তোতা মিয়াসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।