সিঙ্গাপুরের দুই মন্ত্রীর সম্পত্তি লেনদেন নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের জেরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। মানহানির অভিযোগ করা এই মামলার রায়ে প্রতিবেদক ও সংবাদমাধ্যমটিকে ৪ লাখ ৬০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলাটি করেছিলেন সিঙ্গাপুরের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী কে শানমুগাম এবং জনশক্তিমন্ত্রী ট্যান সি লেং। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে তাদের সম্পত্তি লেনদেনের উল্লেখ থাকায় তারা মানহানির অভিযোগ আনেন।
ব্লুমবার্গের দাবি ছিল, প্রতিবেদনে দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়নি; বরং সিঙ্গাপুরে বিলাসবহুল বাড়ি কেনাবেচার একটি বৃহত্তর প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে তাদের লেনদেনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। তবে রায়ের পর এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
প্রতিবেদনে কী ছিল?
‘Singapore Mansion Deals Are Increasingly Shrouded in Secrecy’ শিরোনামের প্রতিবেদনে সিঙ্গাপুরের বহুমূল্যের ‘গুড ক্লাস বাংলো’ কেনাবেচায় গোপনীয়তা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অনেক ধনী ক্রেতা নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে শেল কম্পানি বা ট্রাস্টের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব সম্পত্তি কিনছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কে শানমুগাম একটি বাংলো ৮ কোটি ৮০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে ট্রাস্টের মাধ্যমে এক অজ্ঞাত ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন। এ ছাড়া ট্যান সি লেং প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে একটি গুড ক্লাস বাংলো কিনেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি এমন একটি ‘শর্তহীন চুক্তি’ পদ্ধতিতে সম্পত্তি কিনেছেন, যা লেনদেনে কারা জড়িত তা অনুসরণ করা তুলনামূলক কঠিন করে তোলে।
কেন মামলা করেছিলেন দুই মন্ত্রী?
প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই দুই মন্ত্রী মানহানির মামলা করার ঘোষণা দেন। গত এপ্রিলে শুনানিতে তাদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, প্রতিবেদনে সম্পত্তি লেনদেনের গোপনীয়তা ও অর্থপাচারের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই মন্ত্রীর লেনদেনের উল্লেখ করায় সাধারণ পাঠকের কাছে তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের ইঙ্গিত তৈরি হয়েছে।
শানমুগামের দাবি ছিল, তার সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি কেন্দ্র করেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্লুমবার্গ ও প্রতিবেদক লো ডে ওয়ে আদালতে বলেন, প্রতিবেদনে দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণের অভিযোগ করা হয়নি; তাদের কেবল ‘সংবাদযোগ্য’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের আইনজীবীদের দাবি, বাদীপক্ষ প্রতিবেদনের সবচেয়ে নেতিবাচক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে, যা সাধারণ পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি নয়।
আদালতের রায়
হাইকোর্টের বিচারপতি অড্রি লিম রায়ে বলেন, পুরো প্রতিবেদন একসঙ্গে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই এমন ধারণা তৈরি হয় যে দুই মন্ত্রী বিদ্যমান নিয়মের সুযোগ নিয়ে অস্বচ্ছ উপায়ে সম্পত্তি লেনদেন করেছেন এবং অর্থপাচারের সম্ভাবনা নিয়ে যে তদন্ত হতে পারত, তা এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
বিচারপতির ভাষায়, এ ধরনের ইঙ্গিত দুই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সততা, চরিত্র ও পেশাগত সুনামকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ কারণেই তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








