• ই-পেপার

ইরান যুদ্ধ : প্রস্তুতি বাড়াতে যুদ্ধবিরতি?

মুম্বাইয়ে রেড অ্যালার্ট জারি

অনলাইন ডেস্ক
মুম্বাইয়ে রেড অ্যালার্ট জারি
রয়টার্স ছবি

ভারতের মুম্বাই ও আশপাশের শহরগুলোতে রাতভর ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের কয়েকটি এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রবিবার সকালে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও আরও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে এমন আশঙ্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি রেখেছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। এমন অবস্থায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না গিয়ে সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে মুম্বাইয়ের নগর কর্তৃপক্ষ ব্রিহানমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি)।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের কয়েকটি এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি এবং কয়েকটি স্থানে ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। 

রবিবার সকালে মেট্রো ও ব্রিহানমুম্বাই ইলেকট্রিক সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের (বেস্ট) বাস চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে যাত্রীরা জানিয়েছেন, শহরতলির ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

এমন অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য বিএমসির ১৯১৬ নম্বর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে এবং সব ধরনের সতর্কবার্তা মেনে চলতে নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এদিন বিকেল ৩টার পর ৪ দশমিক ১৯ মিটার উচ্চতার জোয়ারের পূর্বাভাস রয়েছে। এছাড়া আগামীকাল সোমবার ভোর ৩টা ৪১ মিনিটে ৩ দশমিক ৫১ মিটার উচ্চতার আরেকটি জোয়ার হতে পারে।

এর আগে শনিবারের প্রবল বর্ষণে মাত্র ১২ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়, বিভিন্ন সড়কে ধস নামে, গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ধসে পড়ে এবং সড়ক ও রেল চলাচল ব্যাহত হয়। টানা বৃষ্টিতে পাশের থানে, পালঘর, নবি মুম্বাই এবং পুনে অঞ্চলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ভূমিধস, কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নেওয়া হয়েছে।

আইএমডি জানিয়েছে, রোববারও কয়েকটি এলাকায় ভারি এবং বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া শহর ও আশপাশের এলাকায় ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিএমসির তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩১০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ভিখরোলি পশ্চিমের বিল্ডিং প্রপোজাল অফিস এলাকায়। এরপর কোলাবা পাম্পিং স্টেশনে ৩০৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং ভিখরোলির ঠাকুর নগর মিউনিসিপ্যাল স্কুল এলাকায় ৩০১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ ছাড়া মালাবার হিল, মান্ডাভি ফায়ার স্টেশন, কোলাবা, মেমনওয়াড়া ফায়ার স্টেশন, ভিখরোলি ফায়ার স্টেশন, পাওয়াইয়ের পাসপোলি মিউনিসিপ্যাল স্কুল, ভান্ডুপ কমপ্লেক্স, আন্দেরি ফায়ার স্টেশন, চাকালা মিউনিসিপ্যাল স্কুল, জোগেশ্বরী এবং গোরেগাঁওয়ের আরে কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরে রেললাইনে পানি জমে যাওয়ায় সেন্ট্রাল রেলওয়ে ও ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের শহরতলির ট্রেন চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।

এছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে মেট্রোর ২এ লাইনের পরিষেবাও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।

স্বাভাবিক হলো কাতারের সমুদ্রপথ

অনলাইন ডেস্ক
স্বাভাবিক হলো কাতারের সমুদ্রপথ
রয়টার্স ছবি

কাতারের জলসীমায় সব ধরনের জাহাজ ও নৌযানের জন্য দেশটির সমুদ্রপথে নৌচলাচল আবারও স্বাভাবিকভাবে শুরু করা যাবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সব নৌযান পরিচালনাকারীকে বিদ্যমান সামুদ্রিক আইন ও নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া যাত্রার আগে নাবিকদের সব প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সঙ্গে রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সমুদ্রযাত্রায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়।

সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা বলছে, এর মাধ্যমে গত ২৯ জুন জারি করা নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হলো। ওই নির্দেশনায় পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত পাল তোলা নৌকা ও মাছ ধরার নৌযানের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল তখনো নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে ছিল।

তখন সেই নিষেধাজ্ঞার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি কাতার। তবে ওই সময় দেশটি জানায়, আঞ্চলিক সামরিক অভিযানের সময় ছিটকে আসা গোলার ধাতব টুকরার আঘাতে আহত হয়ে এক কাতারি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

খামেনির জানাজায় তিন ছেলের উপস্থিতি, আড়ালেই রয়ে গেলেন মোজতবা

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির জানাজায় তিন ছেলের উপস্থিতি, আড়ালেই রয়ে গেলেন মোজতবা
সংগৃহীত ছবি

নিহত ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিয়েছেন লাখো মানুষ। তবে বাবার জানাজায় খামেনির তিন ছেলে উপস্থিত থাকলেও, তার উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।

তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা কফিনগুলোর পেছনে খামেনির তিন ছেলে—মোস্তফা, মেসাম ও মাসুদ খামেনিকে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিহতের পাশাপাশি মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই হামলায় মোজতবার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। মূলত এই শারীরিক অবস্থার কারণেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান খামেনির জন্য সপ্তাহব্যাপী এক বিশাল গণ-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করেছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার (৪ জুলাই) খামেনির কফিনটি তার কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ ও ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিনের সঙ্গে বাইরে প্রদর্শন করা হয়। রবিবার (৫ জুলাই) জানাজার নামাজে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও অংশ নেন। এ সময় খামেনির ছেলেদের অশ্রুবিসর্জন করতে এবং উপস্থিত লাখো মানুষকে বুক চাপড়ে কাঁদতে দেখা যায়। এই বিশাল সমাগমের কারণে তেহরান মেট্রোতে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় রেকর্ড ৭০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে এক বিশাল মিছিলের পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহগুলো শিয়া মাদরাসা শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বুধবার (৮ জুলাই) মরদেহগুলো ইরাকের পবিত্র তীর্থস্থান নজফ ও কারবালায় পাঠানো হবে। সবশেষে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে আরেকটি জানাজা শেষে খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে। এই কর্মসূচিগুলোতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিবহন, খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যাপক ব্যবস্থা করেছে ইরান সরকার।

খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরান মেট্রোতে রেকর্ড ৭০ লাখ যাত্রীর যাতায়াত

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরান মেট্রোতে রেকর্ড ৭০ লাখ যাত্রীর যাতায়াত
ছবি : রয়টার্স

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষবিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরানের রাজধানী তেহরানের মেট্রো রেলে রেকর্ডসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ৭টা পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ১৩ ঘণ্টায় তেহরান মেট্রো নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন ৭০ লক্ষাধিক যাত্রী

মূলত তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় (গ্র্যান্ড মোসাল্লা) সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের কারণেই রেলে এই নজিরবিহীন যাত্রীজট তৈরি হয়। রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এই শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলার কথা রয়েছে।

জানাজা অনুষ্ঠানে মানুষের উপচেপড়া ভিড় সামাল দিতে এবং যাতায়াত সহজ করতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকেই আগেভাগে সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করে মেট্রো রেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আর এই নির্দেশনার ফলেই তেহরানের পাতাল রেলে যাত্রীসংখ্যার এই বিশাল রেকর্ড তৈরি হয়েছে।