রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পরিচয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও রোহিঙ্গা নন’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ১ নম্বর আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিনসহ তিন ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
একই সঙ্গে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১২ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম-২০২৫ উপলক্ষে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে ভুয়া নাগরিক সনদ ও ‘রোহিঙ্গা নন’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া ও অসম্পূর্ণ তথ্যসংবলিত প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করে ভোটার তালিকাভুক্তিতে সহায়তা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রশাসনিক প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিরা হলেন— আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকের হোসেন এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মতিন।
প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বে বহাল থাকা প্রশাসনিকভাবে সমীচীন নয়। জনস্বার্থ বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ), ৩৪(৪)(ঘ) এবং ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বলেন, ‘এটি সাময়িক বরখাস্ত, চূড়ান্ত বরখাস্ত নয়। অভিযুক্তদের শোকজের জবাব দেওয়ার জন্য ১০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।’
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া বিধি অনুযায়ী চলবে। শোকজের জবাব, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মতো স্পর্শকাতর অভিযোগে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সরকারের এ পদক্ষেপকে ঘিরে আলীকদমজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।




