• ই-পেপার

পাবনায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল নারীর

লক্ষ্মীপুর

অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতাল-প্যাথলজিসহ ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতাল-প্যাথলজিসহ ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরে নানা অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতাল ও প্যাথলজিসহ ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ অভিযানে এসব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।  

অভিযানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোহাম্মদ নাহিদ রায়হান উপস্থিত ছিলেন। 

দণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারকে ২০ হাজার, আর এস ডেন্টাল এক্স-রে সেন্টারকে ৫ হাজার, আউয়াল শিশু সার্জারি সেন্টার ও জেনারেল হাসপাতালকে ৫ হাজার এবং সিটি হাসপাতালকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুর শহরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার (প্যাথলজি) ও হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। এসময় সিটি হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনুমোদনের অতিরিক্ত বেড, পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টার লাইসেন্স দেখাতে পারেনি, আর এস ডেন্টাল এক্স-রে সেন্টারের লাইসেন্স ও বাণিজ্যিক মিটার ছিল না, আউয়াল শিশু সার্জারি সেন্টার ও জেনারেল হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা না থাকায় জরিমানা গুণতে হয়েছে। এদিকে রয়েল মেডিক্যাল সার্ভিসেস ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এবং জনস্বার্থে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
 

বিগত সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি : রিজভী

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বিগত সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি : রিজভী
সংগৃহীত ছবি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকার ও বিএনপি নিজ নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার্থে হাওড়ের ওপর সড়ক নির্মাণের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যক্তিস্বার্থে কালভার্ট নির্মাণ জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছে।

তিনি আরো বলেন, দখলদার যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে ২৬ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো.মাসুদ আলম, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সরওয়ার হোসেন মাসুদ, জাগির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গাজী ফোরকান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল বিন মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দাদাকে গুলি, আগ্নেয়াস্ত্রসহ নাতি গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
দাদাকে গুলি, আগ্নেয়াস্ত্রসহ নাতি গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে দাদাকে গুলি করার অভিযোগে নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. আশিক (২৩)। তিনি চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার রশিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম ইসমাইল হোসেন ফারুক। গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম (৭০) তার দাদা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে র‍্যাব-১১-এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

র‍্যাব জানায়, সোমবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে নিয়ে রশিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৩ জুলাই একটি সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আশিকের মা আয়েশা বেগমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তিনি বিষয়টি ঢাকায় থাকা ছেলে আশিককে জানান।

পরদিন ৪ জুলাই বিকেলে এলাকায় এসে আশিকের সঙ্গে নজরুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আশিক গুলি করলে নজরুল ইসলামের বাম হাতের কব্জির ওপর গুলিবিদ্ধ হন।

ঘটনার পর আশিক পালিয়ে যান। পরে ৬ জুলাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের পর আশিককে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পরকীয়ার জেরে স্বামী হত্যা, স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
পরকীয়ার জেরে স্বামী হত্যা, স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামে পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে স্বামী কেতাব উদ্দিনকে হত্যার দায়ে স্ত্রী, তার প্রেমিক এবং শ্বশুর-শাশুড়িসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত বিচারক জয়নাল আবেদীন এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার গোড়কমণ্ডল গ্রামের নুর নাহার, তার প্রেমিক গফুর, নুর নাহারের বাবা নুর মোহাম্মদ এবং মা ছকিনা বেগম।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল নুর নাহার দাওয়াতের কথা বলে কৌশলে তার স্বামী কেতাব উদ্দিনকে পাশের গ্রামের প্রেমিক গফুরের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নুরনাহার, তার বাবা-মা ও প্রেমিক গফুর পরিকল্পিতভাবে কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি জমিতে ফেলে রাখা হয়।

ঘটনার পরদিন ১৯ এপ্রিল নিহতের বাবা আলী মুদ্দিন বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে ফুলবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন আলো।