• ই-পেপার

কুমিল্লা

বেহাল তিন সড়কে লাখো মানুষ ভোগান্তিতে

  • পাঁচ বছর ধরে বিধ্বস্ত
  • বেশি শিকার রোগীরা
  • দ্রুত সংস্কার দাবি

হাতিয়ায় মাঝ নদীর চরে যাত্রীবাহী ফেরি আটকা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
হাতিয়ায় মাঝ নদীর চরে যাত্রীবাহী ফেরি আটকা, দুর্ভোগে যাত্রীরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা ঘাট রুটে চলাচলকারী ফেরি মহানন্দা মেঘনা নদীর মাঝ চরে আটকা পড়েছে। এতে ফেরিতে থাকা দুই শতাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীর একটি ডুবো চরে ফেরিটি আটকে যায়।

ফেরির মাস্টার মো. করিম জানান, ফেরিটিতে দুই শতাধিক যাত্রী ছাড়াও পণ্যবাহী ১৬টি যানবাহন রয়েছে। 

ফেরিতে অবস্থান করা যাত্রীরা জানান, তারা ফেরি দিয়ে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড নলচিরা যাচ্ছিলেন। সকাল ৮টার সময় ফেরিটি চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটে যারার পথে মেঘনা নদীর একটি ডুবো চরে আটকা পড়ে। নদীতে নাব্যতা সংকট এবং সময়মতো ফেরি না ছাড়ার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ফেরি আটকে থাকায় শিশু, নারীসহ যাত্রদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। দ্রুত নদী ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা না হলে বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

ফেরির মাস্টার মো. করিম জানান, ঘাটে নাব্যতা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ফেরি ছাড়তে প্রায় ১০ মিনিট দেরি হয়েছে। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে ভাটার শেষ সময়ে ফেরি ছাড়ায় ডুবো চরে আটকে যায়। দুপুরে জোয়ার এলে পানি বাড়ার পর ফেরিটি ভাসমান হলে পুনরায় চলাচল শুরু করা যাবে।

স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে চুল কেটে রাতভর নির্যাতন, অভিযুক্ত আটক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে চুল কেটে রাতভর নির্যাতন, অভিযুক্ত আটক
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ঘরে তালা দিয়ে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে রাতভর নির্যাতন করেছে স্বামী। খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ওই গৃহবধূ ও তার দুই শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ জুলাই রাতে মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে। 

অভিযুক্ত নাজমুল ওই গ্রামের নওয়াব আলী শেখের ছেলে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম সোনিয়া (২৫)। তিনি মুন্সীগঞ্জের চরমুসুরিয়া এলাকার লোকমান সরকারের মেয়ে। 

স্থানীয়রা জানান, নাজমুল প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রী সোনিয়াকে মারধর করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঘরে তালা দিয়ে স্ত্রী সোনিয়ার হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে দেন। পরে দুই শিশুসন্তান আবু রায়হান (৮) ও আবু মুছার (৪) সামনে তাকে রাতভর নির্যাতন করেন স্বামী।

মঙ্গলবার সকালে গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে সোনিয়া ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আহত সোনিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সোনিয়া বলেন, স্বামী নেশা করে বাড়িতে এসে সামান্য বিষয় নিয়ে আমাকে মারধর করত। সোমবার রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার দুই শিশুসন্তানের সামনে হাত-পা বেঁধে চুল কেটে রাতভর নির্যাতন করে। আমি এর বিচার চাই।

আটক নাজমুল পুলিশকে জানান, স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার হাত-পা বেঁধে চুল কেটে দেন, যাতে সে চলে যেতে না পারে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, নাজমুল একজন মাদকসেবী। তিনি প্রায়ই মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর করেন।

সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব বলেন, খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করি এবং অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মামলা করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে তারা বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অবরোধ করে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১টায় বরিশাল নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বরিশালের অধিকাংশ কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ভিক্ষোভকারীদের দাবি টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ সম্পূর্ণ স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন করা হয়েছে এবং তার সিলেবাসের বাইরে। তাই বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন। অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকে চরম যাত্রী দুর্ভোগ হয়।

সরকারি বিএম কলেজ শিক্ষার্থী সৈয়দ এজাজ বলেন, ‘বৈরি পরিবেশের মধ্যেও সোমবার পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া কঠিন পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত বন্ধ দেওয়া হয়নি। উল্টো অতীতের চেয়ে এবার প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এমনকি সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার পরও এক বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব বোর্ডে তা স্থগিত করা হয়নি। সমস্যাগুলো সমাধান না করেই শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কটুক্তি করেছেন তাই আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।’

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রবেশদ্বারে এসে বিক্ষোভ করে। আমরা তাদেরকে শান্ত থাকতে বলেছি। পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আন্ত শিক্ষা বোর্ডের। এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।’

বিপুল আগ্নেয়াস্ত্রসহ বনদস্যু ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ২৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বিপুল আগ্নেয়াস্ত্রসহ বনদস্যু ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ২৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যু বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এসব অভিযানে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চরপুটিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২৭ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা নিজেদের ব্যবহৃত ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের মধ্যে বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ১৮ জন খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া ৮ জন বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলার এবং একজন পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে কোস্ট গার্ডের অভিযানের মুখে বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সাত সদস্য এবং ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর তিন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, ‘চলমান বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের জিম্মিদশা থেকে ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুন্দরবনে এখনও সক্রিয় থাকা বনদস্যুদের দ্রুত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’