• ই-পেপার

নবুওয়াত প্রাপ্তির পর মহানবী (সা.)-এর কর্মপদ্ধতি

৭০ বছরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা পাগড়ি দেবে ফরিদাবাদ মাদ্রাসা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
৭০ বছরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা পাগড়ি দেবে ফরিদাবাদ মাদ্রাসা
সংগৃহীত ছবি

ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ-এর বহুল প্রতীক্ষিত ‘৭০ সালা দস্তারবন্দি মহাসম্মেলন’ নতুন তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অনিবার্য কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করে আগামী ১২ ও ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি, মোতাবেক ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ২০২৬ (সোম ও মঙ্গলবার) এবং ৮ ও ৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে এই ঐতিহাসিক মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

দুই দিনব্যাপী এ মহাসম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গত ৭০ বছরে (১৯৫৬–২০২৬) জামিয়া থেকে শিক্ষা সমাপ্তকারী হাফেজ, কারি, আলেম ও মুফতিদের সম্মাননা পাগড়ি (দস্তার) প্রদান। দীর্ঘ সাত দশকের শিক্ষা-ঐতিহ্যকে স্মরণীয় করে রাখতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে।

মহাসম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম অংশগ্রহণ করবেন। তাঁদের উপস্থিতিতে দ্বীনি শিক্ষা, সমসাময়িক বৈশ্বিক ও জাতীয় নানা ইস্যু, মুসলিম উম্মাহর চ্যালেঞ্জ এবং ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, মহাসম্মেলনকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত জামিয়ার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (আবনা ও ফুযালা) মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার, ঐক্য সুদৃঢ় এবং জামিয়ার আদর্শ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘তানযিমে আবনায়ে জামিয়া ফরিদাবাদ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করা হয়েছে।

সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক জুবায়ের মুহিউদ্দীন জানান, মহাসম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৯ জুলাই বর্ষভিত্তিক প্রতিনিধি ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী ২৩ ও ২৪ নভেম্বরের মহাসম্মেলন সফল করতে জামিয়ার বর্তমান ও সাবেক সকল শিক্ষার্থীকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, মুফতি আবু সাঈদ, জাতীয় সিরাত কমিটির সভাপতি মুফতি ইমাদুদ্দীন, তানযিমে আবনায়ে জামিয়া ফরিদাবাদের সদস্যসচিব ও ইসলামি আলোচক মাওলানা হাসান জামিলসহ বিভিন্ন বর্ষের প্রতিনিধিরা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত জামিয়ার শুভানুধ্যায়ী, মুহিব্বীন এবং আবনা-ফুযালায়ে কিরামের কাছে মহাসম্মেলনের সফল আয়োজনের জন্য দোয়া, সার্বিক সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ সাত দশকের শিক্ষা, ত্যাগ ও ইলমি ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে উঠতে যাচ্ছে এই ‘৭০ সালা দস্তারবন্দি মহাসম্মেলন’, যা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক অনন্য আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যেসব কারণে আল্লাহ বান্দার গুনাহ গোপন রাখেন

মুফতি ওমর বিন নাছির
যেসব কারণে আল্লাহ বান্দার গুনাহ গোপন রাখেন
সংগৃহীত ছবি

মানুষ মাত্রই ভুল করে। কেউ ছোট ভুল করে, কেউ বড় গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু চিন্তা করুন, আমাদের প্রতিটি গোপন পাপ যদি সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সামনে প্রকাশ হয়ে যেত, তাহলে কি আমরা সমাজে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারতাম? হয়তো না। পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী—সবার চোখে আমরা অপমানিত হতাম। এখানেই প্রকাশ পায় আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও রহমত। তিনি মানুষের প্রতিটি গুনাহ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেন না। বরং তিনি বান্দাকে সময় দেন, সুযোগ দেন, তওবার আহ্বান জানান এবং নিজের কাছে ফিরে আসার পথ খুলে রাখেন। এটি আল্লাহর ‘সাত্তার’ (দোষ-ত্রুটি গোপনকারী) সিফাতের এক অপূর্ব প্রকাশ।

যে ব্যক্তি এই রহমতের মূল্য বুঝে গোপনে তওবা করে, আল্লাহ তার জন্য ক্ষমার দরজা খুলে দেন। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের গুনাহকে মানুষের সামনে গর্বের সঙ্গে প্রকাশ করে, সে আল্লাহর দেওয়া পর্দাকে নিজেই ছিঁড়ে ফেলে।

১. আল্লাহ বান্দাকে অপমান নয়, সংশোধনের সুযোগ দিতে চান
আল্লাহ তাআলা মানুষের দুর্বলতা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাই তিনি বান্দাকে প্রথম ভুলেই ধ্বংস করে দেন না; বরং ফিরে আসার সুযোগ দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

 قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

অর্থ : ‘বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছ! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৩)
এই আয়াত প্রমাণ করে, আল্লাহ চান না বান্দা হতাশ হয়ে যাক; বরং তিনি চান বান্দা তওবার মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করুক।

২. গুনাহ গোপন রাখা আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

 كُلُّ أُمَّتِي مُعَافًى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ

অর্থ : ‘আমার উম্মতের সবাই আল্লাহর ক্ষমার আশা করতে পারে, তবে যারা প্রকাশ্যে গুনাহ করে (অথবা গুনাহ প্রকাশ করে) তারা ব্যতিত।’ এরপর তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি রাতে গুনাহ করল, আল্লাহ তা গোপন রাখলেন; কিন্তু সকালে সে নিজেই বলে বেড়াল— 'আমি গত রাতে অমুক গুনাহ করেছি।' অথচ আল্লাহ তার গুনাহ ঢেকে রেখেছিলেন, আর সে নিজেই আল্লাহর দেওয়া পর্দা সরিয়ে দিল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৯, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৯০)
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয়, গুনাহ গোপন রাখা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় অনুগ্রহ।

৩. আল্লাহ চান বান্দা যেন তাঁর কাছেই ক্ষমা চায়
মানুষের কাছে নিজের অতীতের গুনাহ বলে বেড়ানোর কোনো উপকার নেই। প্রকৃত উপকার হলো—আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে মাথা নত করে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ বলেন,

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অর্থ : ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

৪. গুনাহ প্রকাশ করা কেন এত ভয়ংকর?
নিজের গুনাহ প্রকাশ করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি—আল্লাহর দেওয়া গোপনীয়তার নিয়ামতের অবমূল্যায়ন করে। গুনাহকে সাধারণ বা গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদের একই পাপের প্রতি উৎসাহিত করতে পারে। নিজের অন্তরের লজ্জাবোধ (হায়া) ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে। তওবার পরিবর্তে গুনাহকেই নিজের পরিচয়ের অংশ বানিয়ে ফেলে। সমাজে অশ্লীলতা ও পাপের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। এ কারণেই ইসলাম গুনাহকে প্রকাশ করতে নিরুৎসাহিত করেছে।

৫. গোপন তওবা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

 التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ

অর্থ : ‘যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে তওবা করে, সে এমন যেন তার কোনো গুনাহই ছিল না।’ (সুনানে ইবন মাজাহ, হাদিস : ৪২৫০)
এটি আল্লাহর অসীম দয়ার প্রমাণ। আন্তরিক তওবা অতীতের পাপকে মুছে দেয়।

 ভুল হয়ে গেলে একজন মুমিন কী করবে?
যদি কোনো গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে একজন মুমিনের করণীয়— গুনাহ গোপন রাখা। আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা। ভবিষ্যতে সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। বেশি বেশি ইস্তিগফার করা। নেক আমলের মাধ্যমে জীবনের ভুলগুলো সংশোধনের চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,

 إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ

অর্থ : ‘নিশ্চয়ই সৎকাজ মন্দকাজকে দূর করে দেয়।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৪)

আল্লাহ তাআলা আমাদের অপমান করতে চান না; তিনি চান আমাদের ক্ষমা করতে। তাই তিনি আমাদের অসংখ্য গুনাহ মানুষের চোখের আড়ালে রেখে দেন। এটি তাঁর অসীম দয়া, সহনশীলতা ও ভালোবাসার প্রকাশ। কিন্তু যদি আমরা নিজেরাই সেই পর্দা সরিয়ে মানুষের সামনে গুনাহের গল্প করি, তাহলে আমরা আল্লাহর দেওয়া এক মহান নিয়ামতের অবমূল্যায়ন করি।

মনে রাখবেন, অতীতের গুনাহ নিয়ে মানুষের সামনে গল্প করার চেয়ে গভীর রাতে সিজদায় মাথা রেখে আল্লাহর কাছে কান্না করা অনেক বেশি সম্মানের, অনেক বেশি নিরাপদ। যে গুনাহ আল্লাহ গোপন রেখেছেন, সেটিকে আর প্রকাশ করবেন না। বরং গোপন পাপকে গোপন তওবার অশ্রু দিয়ে মুছে ফেলুন। কারণ আল্লাহ পাপের গল্প শুনতে ভালোবাসেন না—তিনি ভালোবাসেন অনুতপ্ত বান্দার আন্তরিক তওবা, অশ্রুসিক্ত দোয়া এবং তাঁর দিকে ফিরে আসাকে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিজের গুনাহ গোপন রেখে আন্তরিকভাবে তওবা করার তাওফিক দান করুন, আমাদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত রাখুন। আমিন।
 

হাদিসের বাণী

জান্নাত ও জাহান্নামের বিস্ময়কর কথোপকথন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জান্নাত ও জাহান্নামের বিস্ময়কর কথোপকথন
সংগৃহীত ছবি

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, জান্নাত এবং জাহান্নাম পরস্পর তর্ক করল। জাহান্নাম বলল, বড় বড় দাম্ভিক ও অহংকারীরা শুধু আমার মধ্যে থাকবে। আর জান্নাত বলল, আমার মধ্যে দুর্বল এবং গরিবরা বসবাস করবে। এরপরে মহান রব তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দিলেন। তিনি বললেন, জান্নাত হলো আমার দয়ার একটি অংশ। সুতরাং আমি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা দয়া করব। আর হে জাহান্নাম, তুমি হলে আমার আজাব, আমি তোমার মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা, তাকে আজাব দেব। আর তোমাদের দুজনকেই পরিপূর্ণ করার অধিকার আমার আছে। (সহিহ মুসলিম, ৭১৭৬, মুসনাদে আহমাদ, ১১৭৫৪)

শিক্ষা ও বিধান
১. অহংকার মানুষের ধ্বংসের অন্যতম কারণ। জাহান্নাম বলেছে, দাম্ভিক ও অহংকারীরা তার অধিবাসী হবে। এটি প্রমাণ করে যে অহংকার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত। তাই মুসলিমের উচিত বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করা।

২. বিনয় ও অসহায়ত্ব আল্লাহর রহমত লাভের কারণ। জান্নাতে দুর্বল ও দরিদ্রদের উল্লেখ থেকে বোঝা যায়, যারা বিনয়ী, আল্লাহভীরু এবং দুনিয়ার অহংকার থেকে মুক্ত, তারা আল্লাহর বিশেষ রহমতের অধিকারী হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধনী জাহান্নামী বা সব গরিব জান্নাতি; বরং মূল বিষয় হলো ঈমান, তাকওয়া ও চরিত্র।

৩. জান্নাত আল্লাহর রহমতের প্রকাশ। আল্লাহ বলেন, ‘জান্নাত আমার রহমতের একটি অংশ।’ অর্থাৎ জান্নাতে প্রবেশ শুধু আমলের কারণে নয়; বরং আল্লাহর অসীম দয়ার ফল।

৪. জাহান্নাম আল্লাহর ন্যায়বিচারের প্রকাশ। জাহান্নামের মাধ্যমে আল্লাহ অপরাধী ও অবাধ্যদের শাস্তি দেবেন। এতে আল্লাহর ইনসাফ ও বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

৫. আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। জান্নাত ও জাহান্নাম—উভয়ই আল্লাহর সৃষ্টি এবং তিনি যাকে ইচ্ছা রহমত করবেন, যাকে ইচ্ছা ন্যায়সঙ্গতভাবে শাস্তি দেবেন।

৬. দুনিয়ার মর্যাদা নয়, আল্লাহর কাছে মর্যাদাই আসল। ধন-সম্পদ, পদমর্যাদা বা সামাজিক প্রভাব আল্লাহর কাছে সফলতার মানদণ্ড নয়। প্রকৃত মর্যাদা তাকওয়া ও সৎকর্মে।

৭. রিয়া, গর্ব ও আত্মঅহমিকা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা, মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা এবং অহংকার প্রদর্শন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

৮. আল্লাহর রহমতের আশা এবং তাঁর শাস্তির ভয়—উভয়ই রাখতে হবে। এই হাদিস একজন মুমিনকে একই সঙ্গে আশাবাদী ও সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়। সে আল্লাহর রহমতের আশা করবে, আবার তাঁর শাস্তিকে ভয় করবে।
 

ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো আল্লাহ তাআলার ইবাদতে তৃপ্তি খুঁজে পাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক সময় আমরা নামাজে অলসতা অনুভব করি, কোরআন তিলাওয়াতে মন বসে না, জিকির-আজকারে অনীহা চলে আসে। অথচ একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে তার ইবাদতের আন্তরিকতা ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের দৃঢ়তার ওপর। তাই ইবাদতের প্রতি আগ্রহ, একাগ্রতা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। তাইতো মহানবী (সা.) তাঁর প্রিয় সাহাবিকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান দোয়া শিখিয়েছেন, যা প্রতিটি মুসলিমের নিয়মিত আমল করা উচিত। দোয়াটি হলো—

 اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে তোমার স্মরণ, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সর্বোত্তমভাবে তোমার ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।’ 

কখন এই দোয়া পড়বেন?
প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর এই দোয়াটি পড়া সুন্নত। তবে শুধু নামাজের পরই নয়, দিনের যেকোনো সময় আল্লাহর কাছে ইবাদতের তাওফিক, নামাজে মনোযোগ এবং নেক আমলের শক্তি কামনা করে এই দোয়া পড়া যায়। এটি এমন একটি দোয়া, যা নিয়মিত পড়লে আল্লাহর রহমতে তাঁর স্মরণে হৃদয় সজীব হয়, ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং নামাজে একাগ্রতা অর্জন সহজ হয়।

হাদিস : মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণনা করেন, এক দিন মহানবী (সা.) তাঁর হাত ধরে বললেন, ‘হে মুয়াজ! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাই তুমি কখনোই প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর এই দোয়া পড়া ছেড়ে দেবে না— ‘হে আল্লাহ! আমাকে তোমার স্মরণ, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সুন্দরভাবে তোমার ইবাদত করার তাওফিক দিন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২২, সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৩০৩)

ইবাদতের প্রতি আগ্রহ, নামাজে একাগ্রতা এবং আল্লাহর স্মরণে হৃদয়কে জীবন্ত রাখার জন্য শুধু নিজের ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট নয়; এর জন্য আল্লাহর বিশেষ সাহায্য প্রয়োজন। তাই প্রতিদিনের আমলে এই সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ দোয়াটি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ইবাদতের তাওফিক চায়, আল্লাহ তার জন্য নেক কাজকে সহজ করে দেন এবং তার অন্তরকে নিজের স্মরণে প্রশান্ত করে দেন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর জিকির, শুকর এবং সর্বোত্তমভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।