• ই-পেপার

ইরানের এই পাহাড়ে কী আছে, যা ধ্বংস করতে চান ট্রাম্প

ভারত একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য কাজ করবে : জয়শঙ্কর

অনলাইন ডেস্ক
ভারত একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য কাজ করবে : জয়শঙ্কর

ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. সুব্রমণিয়ম জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘ভারত একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য কাজ করবে। যেখানে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠস্বর সমানভাবে শোনা যাবে।’

সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নির্বাচনে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রচার অভিযান শুরু করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সংঘাতদীর্ণ ও অস্থিতিশীল বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় জাতিসংঘের ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত, আস্থা, অখণ্ডতা ও নিয়ম-বিধির ওপর নির্ভর করে বিশ্ব শান্তি, নিরাপত্তা ও ভারসাম্য যুক্ত উন্নয়নের লক্ষ্যে যে মতাদর্শ নিয়ে এগিয়ে চলেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তি মিশন চালু হওয়ার পর থেকে ভারত ৫০টি মিশনে প্রায় তিন লাখ কর্মীকে পাঠিয়েছে। বর্তমানে ১০টি শান্তিরক্ষা বাহিনীতে চার হাজার ৩০০ জনের বেশি কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন।’

ভারত নির্বাচিত হলে ২০২৮ থেকে তাদের কার্যকালের মেয়াদ হবে ২’বছরের। এর আগে ভারত, নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে আট বার দায়িত্ব পালন করে। এর মধ্যে সাম্প্রতিকতম হল, ২০২১-২২ সালে।   

এদিকে বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতারেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সামাজিক মাধ্যমের এক বার্তায় ড. জয়শঙ্কর বলেন, তাদের মধ্যে পশ্চিম এশিয়া, ইউক্রেন এবং সুদান সহ আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারে বড় রদবদল, নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজছে ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক
সরকারে বড় রদবদল, নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজছে ইউক্রেন
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে বরখাস্ত করার পর দেশটির পার্লামেন্টে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে। এ সপ্তাহেই এ বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, সরকারের কাজে নতুন চিন্তা ও নতুন গতি আনতেই এই পরিবর্তন করা হচ্ছে।

রবিবার এক ঘোষণায় তিনি জানান, মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালনের পর সভিরিদেঙ্কোকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

তবে সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমন পরিবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার আরো তীব্র হামলার মুখোমুখি হচ্ছে।

সংসদ সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোর সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎসকি, জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এবং বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। দেনিস শ্মিহাল এর আগে ছয় মাস প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই তিনজনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে সরানোর ঘোষণা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের সঙ্গে বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী পদে একজনকে মনোনয়ন দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য নির্বাচন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংসদের অনুমোদন পেতে হয়।

জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে চান। তার মতে, এর মাধ্যমে ইউক্রেন মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরো বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করতে পারবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্য এগিয়ে নিতে পারবে এবং আগামী শীতে রাশিয়ার সম্ভাব্য বিদ্যুৎ অবকাঠামো হামলার জন্য আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎস্কিকে অনেকেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। তিনি নিয়োগ পেলে সরকারের নেতৃত্বে একজন অভিজ্ঞ প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসক আসবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এতে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। রুশ হামলায় ইউক্রেনের অনেক শহর ও জনপদ প্রায়ই বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

কিয়েভভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলোদিমির ফেসেঙ্কো বলেছেন, সরকার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সংকট মোকাবেলায় দক্ষ আরো কয়েকজন কর্মকর্তাও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তাদের মধ্যে খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভের নামও আলোচনায় রয়েছে। খারকিভ শহরটি নিয়মিত রুশ হামলার শিকার হয়।

বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে বিশ্লেষক ফেসেঙ্কোর মতে, ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিলে সেনাবাহিনীর চলমান গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এ নিয়ে বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইউক্রেন বর্তমানে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে রাশিয়ার তেল খাত ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জনবল সংকট মোকাবেলায় সেনা নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

বিরোধী দল হলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইন্না সোভসুন বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনায় তিনি উদ্বিগ্ন।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আগে দেনিস শ্মিহাল ছয় মাস মন্ত্রী ছিলেন। তিনি কিছু পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদি মিখাইলো ফেদোরভের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে, তাহলে তা মোটেও ভালো হবে না।’

তার মতে, যুদ্ধ চলাকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও সামরিক কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

যুদ্ধকালীন সরকারে নতুন রদবদলের পথে ইউক্রেন

ইউক্রেনে নতুন সরকার গঠনের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়া মঙ্গলবার থেকেই শুরু হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ঘোষণা যুদ্ধ চলাকালে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক রদবদলের সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে জেলেনস্কি দীর্ঘদিনের শীর্ষ কর্মকর্তা আন্দ্রি ইয়েরমাককে সরিয়ে জনপ্রিয় গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রধানকে নিয়োগ দেন। ইয়েরমাক একটি বড় দুর্নীতি তদন্তের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সময় সরকারে এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করা।

ইউক্রেনে চলমান তথাকথিত ‘মাইডাস’ দুর্নীতি তদন্তে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। এই তদন্ত এখনো চলমান এবং তা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলেনস্কির প্রতি জনগণের আস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল থেকেছে এবং তা প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন বা রদবদল জেলেনস্কির হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপায়গুলোর একটি।

তবে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার দিমিত্রো রাজুমকভ মনে করেন, এই পরিবর্তন বড় কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, জেলেনস্কির প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত সংখ্যক ঘনিষ্ঠ ও অনুগত ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে আসছে। তার মতে, বর্তমান রদবদলও মূলত একই ব্যক্তিদের মধ্যে পদ পরিবর্তনের ঘটনা।

ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে কৃত্রিম দুধ!

অনলাইন ডেস্ক
ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে কৃত্রিম দুধ!
সংগৃহীত ছবি

মানুষ পুষ্টির জন্য দুধ পান করে। কিন্তু সেই দুধে যদি ভেজাল থাকে, তবে তা হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি প্রাণঘাতীও। নিম্নমানের গুঁড়া দুধ, ডিটারজেন্ট পাউডার, পাম তেল, নিম্নমানের রাসায়নিক দিয়ে কৃত্রিম দুধ বানানোর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে ভারতের মহারাষ্ট্রে। রাজ্যের ধারাশিব জেলার ভূম তালুকে পুলিশ এবং খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এ ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে জব্দ করা বিক্রয় রেজিস্টার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, গত ছয় মাসে কৃত্রিম দুধ বানানোর জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ কেজি নিম্নমানের গুঁড়া দুধ ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ গুঁড়া দুধ ব্যবহার করে আনুমানিক ২৩ লাখ ৪ হাজার ৭০ লিটার কৃত্রিম দুধ তৈরি করা হয়েছিল, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৯ কোটি ২১ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ রুপি।

কৃত্রিম দুধকে আসল দেখাতে এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটের মাত্রা বজায় রাখতে অভিযুক্তরা তাতে নিমা ডিটারজেন্ট পাউডার, পাম তেল এবং অত্যন্ত নিম্নমানের রাসায়নিক পাউডার ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা প্রতি ১০০ লিটার খাঁটি দুধে ১০ লিটার কৃত্রিম দুধ মেশাতো। এই অনুপাতের ওপর ভিত্তি করে কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ভূম এলাকার দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রগুলো থেকে গত ৬ মাসে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ২ কোটি ৩০ লাখ লিটারেরও বেশি ভেজাল দুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃত্রিম দুধ বানানো এবং ভেজাল দিয়ে সরবরাহ করা চক্রটিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তবে এখনো কাউকে ধরতে পারেনি। পলাতক ভেজালকারীদের খুঁজে বের করতে একজন পুলিশ পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে ক্রমাগত অভিযান চালানো হচ্ছে।

খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে, দুধের এমন প্রাণঘাতী ভেজালের জন্য দোষী ব্যক্তিদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ডিটারজেন্ট ও পাম তেলযুক্ত এই রাসায়নিক মিশ্রিত দুধ নিয়মিত পান করলে তা মানুষের লিভার, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশু, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের জন্য এই ভেজাল দুধ প্রাণঘাতীও হতে পারে।

ভূমের পুলিশ পরিদর্শক শ্রীগণেশ কানাগুড়ে বলেন, অভিযানের সময় কর্মকর্তারা ৬১ বস্তা ভেজাল দুধের গুঁড়া জব্দ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, বালসাহেব গডগে নামে এক ব্যক্তি ভেজাল দুধ তৈরির জন্য ভূমের বেশ কয়েকটি ডেইরি ইউনিটে এই ভেজাল দুধের গুঁড়া সরবরাহ করছিলেন।

এই চক্রের সঙ্গে একাধিক দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রের জড়িত থাকার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তবে, এই গুঁড়ো ব্যবহার করে তৈরি করা হাজার হাজার লিটার ভেজাল দুধ যারা কিনেছেন বলে অভিযোগ, তাদের এখনো শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা যায়নি।

গবাদি পশুর খাদ্য বিক্রির আড়ালে এই চক্রটি চালানো হচ্ছিল। ভূম তালুকা প্রতিদিন লাখ লাখ লিটার দুধ রপ্তানি করে এবং প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টন ক্ষীর তৈরি করে।

যুক্তরাষ্ট্রে ৬ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা, আইস এজেন্টের গুলিতে অভিবাসী নিহত

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা, আইস এজেন্টের গুলিতে অভিবাসী নিহত
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) অভিযানের সময় এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার এক সপ্তাহও পার হয়নি। এর মধ্যেই সোমবার মেইন অঙ্গরাজ্যের একটি উপকূলীয় শহরে আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে আরো এক চালক নিহত হয়েছেন।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি এজেন্টদের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় জননিরাপত্তার স্বার্থে আইসের এক কর্মকর্তা তার ওপর গুলি চালান।

তবে ডিএইচএসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি, চালক কিভাবে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন। সোমবার সকাল প্রায় ৭টার (ইডিটি) দিকে মেইনের বিডেফোর্ড শহরে এ ঘটনা ঘটে। শহরটি মেইনের বৃহত্তম নগরী পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ১৫ মাইল (২৪ কিলোমিটার) দক্ষিণে অবস্থিত।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ঘটনাটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। সংস্থাটি জানায়, আইস কর্মকর্তারা এমন এক ব্যক্তির সর্বশেষ পরিচিত ঠিকানায় নজরদারি চালাচ্ছিলেন, যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল।

ডিএইচএসের দাবি, নজরদারির সময় একজন অভিবাসী ওই বাসা থেকে একটি গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যান এবং তাকে অনুসরণ করার সময় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেনি, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিই কি সেই ব্যক্তি ছিলেন, যার ঠিকানা নজরদারির আওতায় ছিল। ডিএইচএস আরো জানিয়েছে, ঘটনার পর বিডেফোর্ড পুলিশ বিভাগ ও এফবিআই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তে অংশ নেয়।

অন্যদিকে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলেছেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান নাগরিক। তাদের দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন এবং তার একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরও ছিল। তবে কর্মীরা তার নাম প্রকাশ করেননি। এ ছাড়া কিভাবে তারা ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি।

 মেইনে সোমবারের গুলির ঘটনা এবং গত সপ্তাহে টেক্সাসে ঘটে যাওয়া একই ধরনের ঘটনার পর, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ অভিযানের সময় গুলিতে নিহত মানুষের সংখ্যা অন্তত সাতজনে পৌঁছেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং নির্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশজুড়ে আইসের অভিযান আরো বেড়েছে। রয়টার্সের হাতে আসা আইসের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরু থেকে মেইনে সংস্থাটির গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে মেইনে আইস প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করছিল, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সোমবার মেইনে আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সরকারি তথ্য খুবই সীমিত ছিল। ফলে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া পরোক্ষ তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই ঘটনার কিছু বিবরণ প্রকাশ করেন। মেইনের মার্কিন সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক কর্মকর্তা তাকে বলেছেন, গুলিতে নিহত ব্যক্তি বিশোর্ধ্ব এক যুবক ছিলেন। তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তার গাড়িকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে কিংকে জানানো হয়েছিল, ওই ব্যক্তি তার অভিবাসন অবস্থার কারণে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় ছিলেন। তবে পরে নতুন তথ্য দিয়ে জানানো হয়, নিহত ব্যক্তি আসলে সেই পরোয়ানার লক্ষ্য ছিলেন না। সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং বলেন, তদন্তের মূল বিষয় হওয়া উচিত নিহত ব্যক্তি আইস কর্মকর্তাদের জন্য সত্যিই কোনো গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিলেন কি না, যার কারণে গুলি চালানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির অভিবাসন অবস্থার চেয়ে গুলি চালানোর কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই তদন্তের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

বিডেফোর্ড শহরের বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল বুশার জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি তার অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। এ সময় তিনি পটকা ফাটার মতো কয়েকটি শব্দ শুনতে পান।
জানালার কাছে গিয়ে তিনি দেখেন, একটি সাদা এসইউভি একটি ছোট সাদা গাড়িকে ধাক্কা দিয়েছে। পরে রাস্তায় নেমে এসে তিনি কাছ থেকে দেখেন, এসইউভি থেকে বেরিয়ে আসা একজন আইস কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খুলে চালককে টেনে বের করছেন। তখন চালকের মুখ ও মাথা রক্তাক্ত ছিল।

বুশারের দাবি, তিনি আহত ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, ‘আমি তো গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেছিলাম।’ এর কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বলে তার মনে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের একজনকে খুবই বিচলিত ও হতবাক মনে হচ্ছিল।

এদিকে রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছিল এবং ভেস্ট পরা দুজন ব্যক্তি হেঁটে গিয়ে সেটি থামানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে ভিডিওটি গুলি চালানোর আগে নাকি পরে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রয়টার্সের তোলা একটি ছবিতে দেখা গেছে, ঘটনায় জড়িত সাদা গাড়িটির চালকের পাশের উইন্ডশিল্ডে চারটি গুলির ছিদ্রের মতো চিহ্ন রয়েছে। গাড়িটি পরে একটি টো ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর বিডেফোর্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে একটি পার্ক থেকে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল করেন। তিনি এ বছর পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ভবনের প্রবেশপথে ঢুকে ‘আইস বের হয়ে যাও’ এবং ‘তাকে ভোট দিয়ে সরাও’ স্লোগান দেন। তবে কোনো সহিংসতা বা গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেনি। সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী শহরে মিছিল করেন। তারা ‘মেইন থেকে আইস দূর হও’ স্লোগান দেন এবং পরে একটি পার্কে মোমবাতি প্রজ্বালন করে অভিবাসীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

এই ঘটনা ঘটে টেক্সাসের হিউস্টনে আইস অভিযানে ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো নিহত হওয়ার ছয় দিন পর। আইস জানিয়েছিল, সেটিও ছিল একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিবাসন অভিযান। সংস্থাটির দাবি, সালগাদো তার ভ্যান দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং এক কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান।

তবে আইস তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি। সমালোচকরা বলছেন, অতীতেও আইস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কিছু প্রাথমিক বিবৃতি পরে ভিডিও ফুটেজ বা অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আদালতেও তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।