কালজয়ী অভিনেতা স্যাম নিলের আকস্মিক প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে এখনো কাটেনি শোকের রেশ। সিডনিতে ৭৮ বছর বয়সে তার মারা যাওয়ার পর হলিউড থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিনোদন জগৎ এবং রাষ্ট্রপ্রধানরা এই মহান অভিনেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন। ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘জুরাসিক পার্ক’-এ স্যাম নিলের সহ-অভিনেতা, অভিনেত্রীরা তাদের প্রিয় ‘ডক্টর অ্যালান গ্রান্ট’-কে স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
পর্দায় তার সহ-অভিনেত্রী লরা ডার্ন বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের ও মহৎ ভদ্রলোক, আমার স্বপ্নের নায়কের প্রতিচ্ছবি। আমি আপনাকে চিরকাল ভালোবাসব, ডক্টর অ্যালান গ্রান্ট।’ সহ-অভিনেতা জেফ গোল্ডব্লাম স্যাম নিলের সাথে একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘তোমার পরবর্তী মহান অভিযান শুরু হলো। ভালোবাসা, সর্বদা এবং চিরকাল।’ সিনেমার পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ বলেন, ‘স্যাম ছিলেন অসম্ভব রকমের সহযোগী একজন মানুষ। আমাদের জুরাসিক পরিবার এবং তার কোটি কোটি ভক্ত তাকে কখনো ভুলবে না।’
স্যাম নিল ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির সাথে লড়াই করেও জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছিলেন। ২০২৩ সালে রক্তে ক্যানসার (নন-হজকিন্স লিম্ফোমা) ধরা পড়ার পর তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃত্যুর সময় তিনি সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি মরতে ভয় পাই না। আমি যা করতে চাই না তা হলো জীবনযাপন বন্ধ করা, কারণ আমি বাঁচতে সত্যিই ভালোবাসি।’
উত্তর আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া স্যাম নিল শৈশবেই নিউজিল্যান্ডে চলে যান। পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে তিনি ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ‘জুরাসিক পার্ক’ ছাড়াও ‘দ্য পিয়ানো’, ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’ ও জনপ্রিয় বিবিসি সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এ তার অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটে থাকবে। অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নিউজিল্যান্ডের নাম উজ্জ্বল করায় ২০২২ সালে তিনি নাইটহুড (স্যার) উপাধিতে ভূষিত হন।নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক রত্নকে হারালাম।’ বিদায়কালে স্যাম নিল তার চার সন্তান ও আট নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।




