• ই-পেপার

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১৮

ইয়াজিদি দুই কিশোরীকে দাসত্বে বাধ্য, জার্মানিতে ইরাকি দম্পতির দণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
ইয়াজিদি দুই কিশোরীকে দাসত্বে বাধ্য, জার্মানিতে ইরাকি দম্পতির দণ্ড
ছবি : রয়টার্স

জার্মানির একটি আদালত ইরাকে দুই ইয়াজিদি কিশোরীকে দাসত্বে বাধ্য করার অপরাধে এক ইরাকি দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মিউনিখের উচ্চ আঞ্চলিক আদালত তাদের ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবেও দোষী ঘোষণা করেছেন।

জার্মানির গোপনীয়তা আইনের কারণে টোয়ানা এইচ.এস. নামে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং শিশুদের ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতনসহ একাধিক অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী, এশিয়া আর. এ.-কে সাড়ে নয় বছরের কিশোর-কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই দম্পতিকে ২০২৪ সালে বাভারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

আদালত জানান, এই দম্পতি আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দুই ইয়াজিদি মেয়েকে বন্দি করে দাসত্বে রেখেছিলেন এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন। মামলাটি আইএসের হাতে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কুর্দিভাষী সংখ্যালঘু ইয়াজিদিরা ২০১৪ সালে আইএসের ব্যাপক হামলার শিকার হয়। সে সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে। উত্তর ইরাকে ইয়াজিদিদের আবাসভূমিতে হামলা চালিয়ে আইএস হাজার হাজার পুরুষকে হত্যা করে এবং নারী ও শিশুদের দাসত্বে বাধ্য করে। অনেক নারী ও শিশুকে যৌন নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়। জার্মানি এসব কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। 

ফেডারেল পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানায়, অভিযুক্ত দুজন ইয়াজিদি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত আইএসের পরিকল্পিত অভিযানের অংশ ছিল। টোয়ানা এইচ.এস. ২০০০-এর দশকের শুরুতে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসেন। তিনি মিউনিখে একজন হেয়ারড্রেসার হিসেবে কাজ করতেন এবং তার একটি সন্তান ছিল। 

জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডের স্পিগেল-এর তথ্য অনুযায়ী, তার আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও একজন জার্মান সন্তানের বাবা হওয়ায় তাকে দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ডের স্পিগেল জানায়, সে ২০১৫ সালে ইরাকে ফিরে যায়।

অভিযোগকারীরা বলেন, টোয়ানা এইচ. এস. এবং এশিয়া আর. এ. সেখানে ইসলামী আইন অনুযায়ী বিয়ে করেন এবং ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইসলামিক স্টেটের সদস্য হন।

তারা বলেন, ২০১৫ সালের শরৎকালে, টোয়ানা এইচ. এস. তার স্ত্রীর অনুরোধে মসুলের একটি বাজার থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক ইয়াজিদি মেয়েকে দাসী হিসেবে কেনেন।

২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে এই দম্পতি বারো বছর বয়সী এক ইয়াজিদি মেয়েকে কেনেন। অভিযোগকারীরা বলেন, টোয়ানা এইচ. এস. উভয় শিশুকে বারবার ধর্ষণ করেছেন। তাদের বাড়ির কাজ ও শিশু পরিচর্যায় বাধ্য করতেন এবং তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে নিষেধ করতেন। শিশুদের মারধরও করা হতো। 

প্রসিকিউটররা বলেছেন, এশিয়া আর. এ. ছোট মেয়েটির হাতে গরম পানি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছিলেন। বিআর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার চলাকালীন আদালত ইয়াজিদি মেয়েটির সাক্ষ্য শুনেছেন। সে মারধর, জোরপূর্বক শ্রম এবং বারবার ধর্ষণের বর্ণনা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ইয়াজিদি কিশোরীটির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

জার্মানিতে এই মামলার বিচার হয়েছে ‘সার্বজনীন বিচারব্যবস্থা’ নীতির আওতায়। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও জার্মান আদালতে করা যায়।

বিচার চলাকালে এশিয়া আর. এ. বর্তমানে টোয়ানা এইচ. এস.-এর থেকে আলাদা হয়ে গেছেন, আদালতের কাছে ক্ষমা চান। চূড়ান্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত।’ অন্যদিকে, টোয়ানা এইচ. এস. আদালতে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
 

হরমুজ ও বাবেল মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুথিদের

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ ও বাবেল মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুথিদের

সৌদি আরবের অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতিবাদে এবং ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার জবাবে হরমুজ ও লোহিত সাগরের বাবেল মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। 

প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, হুথি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সোমবার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, রিয়াদের এ কর্মকাণ্ডের ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই শ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরো জটিল হলে বাব আল-মানদেব এবং হরমুজ প্রণালি সম্মিলিতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সৌদি আরবের যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সানা। প্রয়োজনে সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি ইয়েমেনের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুথি সানা বিমানবন্দরে সৌদি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এই হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবকে দায়ী করে বলেছেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর বিমানবন্দর ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তারা যুদ্ধাপরাধ করছে। আনসারুল্লাহর অপর নেতা আলী আল-কাহুম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইয়েমেনের ওপর আরোপিত এগারো বছরের অবরোধ ভাঙার লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং সৌদি আরবকে এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
 

পুলিশের ছদ্মবেশে ইকুয়েডরের মাদক সম্রাটের ভাইকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশের ছদ্মবেশে ইকুয়েডরের মাদক সম্রাটের ভাইকে হত্যা
ছবি : রয়টার্স

ইকুয়েডরের কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘লস চোনেরোস’-এর আঞ্চলিক নেতা ডেভিড মাসিয়াসকে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার পুলিশ কর্মকর্তার ছদ্মবেশে থাকা হামলাকারীরা তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের ওলোন শহরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী ডেভিড মাসিয়াস ‘লস চোনেরোস’-এর একজন আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ কর্মকর্তার পোশাক পরা কয়েকজন বন্দুকধারী তার ভাড়া করা বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করে। হামলার পর তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ডেভিডের ভাই অ্যাডলফো মাসিয়াস ‘ফিতো’ নামেও পরিচিত, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন। গত বছর তাকে ইকুয়েডর থেকে প্রত্যর্পণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ‘লস চোনেরোস’কে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ইকুয়েডরে মাদক চক্রগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্য বা নিজেদের দলের লোকদের হাতে গ্যাং নেতারা প্রায়ই হামলার শিকার হন। গত মাসেও গুয়াকিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে এক গ্যাং নেতা বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড মাসিয়াস ২০১৮ সালে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। কারাগারে থাকাকালে তিনি ‘লস চোনেরোস’-এর জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহ করতেন এবং একটি কারাগারে গ্যাংটির শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। গত বছর অ্যাডলফো মাসিয়াস এবং গত মাসে কলম্বিয়ায় তাদের আরেক ভাই হাভিয়ের মাসিয়াস গ্রেপ্তার হওয়ার পর ডেভিডের হত্যাকাণ্ড ‘লস চোনেরোস’-এর জন্য নতুন বড় একটি ধাক্কা।

প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পক্ষে ভোট দিল হাঙ্গেরির সংসদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পক্ষে ভোট দিল হাঙ্গেরির সংসদ
ছবি : রয়টার্স

হাঙ্গেরির সংসদ দেশটির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিয়ককে পদ থেকে অপসারণের পথ তৈরি করে একটি সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করেছে। সুলিয়ককে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এপ্রিলে নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন সরকার সংসদে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী পাস করে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট সুলিয়ক ও সাংবিধানিক আদালতের প্রধান পেতের পোল্টের মেয়াদ শেষ হবে।

এখন সুলিয়কের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। তিনি পাঁচ দিনের মধ্যে সংশোধনীতে স্বাক্ষর করতে পারেন, অথবা বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতে পাঠাতে পারেন। তবে আদালতে পাঠালে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মাগিয়ার। সেক্ষেত্রে সুলিয়ক সাময়িকভাবে পদ থেকে বরখাস্ত হবেন। সরকার তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার আহ্বানও জানিয়েছে।

সোমবারের ভোটের আগে বিরোধী দল ফিদেজের সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তাদের অভিযোগ, নতুন সংশোধনী সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেবে এবং যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে দ্রুত পদচ্যুত করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সাবেক বিরোধীদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পেতের রোনা বলেন, ফিদেজ এখন তাদের নিজেদের তৈরি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফল ভোগ করছে। তার মতে, অরবানের সরকার ২০১১ সালের সংবিধানের মাধ্যমে বিজয়ী দলের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল। ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে ফিদেজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ৭০ বছরের বেশি বয়সী সাংবিধানিক আদালতের বিচারকদের পদ ছাড়তে হবে। এ ছাড়া টানা তিন মেয়াদ সংসদ সদস্য থাকা ব্যক্তিরা আর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এই নিয়ম বর্তমান ফিদেজের অর্ধেকের বেশি সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান আন্দ্রেস বাকা এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তার দাবি, ফিদেজ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তবে তিনি টানা তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালনকারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন। তার মতে, এতে ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার অধিকার সীমিত হবে।

১৭তম সংশোধনীটি কয়েকটি আইনের সমন্বয়ে তৈরি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা, যা নতুন সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আগামী দুই থেকে তিন বছর কার্যকর থাকবে।

এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফিদেজ দলে অস্থিরতা বেড়েছে। অরবানকে জনসমক্ষে খুব কম দেখা যাচ্ছে এবং তিনি সংসদে নিজের আসনও গ্রহণ করেননি। দলের ভেতরে তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। পরিস্থিতি জটিল হয়েছে, কারণ ফিদেজের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা গেরগেলি গুলিয়াস সংসদীয় গোষ্ঠীর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।