• ই-পেপার

ফাইনালের আগে চোট নিয়ে সুখবর স্পেন দলে

বিশ্বকাপে বিশ্বজুড়ে ক্ষতি ১৭ বিলিয়ন ডলার!

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপে বিশ্বজুড়ে ক্ষতি ১৭ বিলিয়ন ডলার!

ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয় গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। বিশ্বকাপের সময় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কাজকর্ম ফেলে বুঁদ হয়ে থাকে ফুটবলে। সরাসরি স্টেডিয়ামে গিয়ে বা টিভির পর্দায় বিশ্বের প্রতিটি কোনায় মানুষ ফুটবল উন্মাদনায় মেতে থাকে। গত প্রায় দেড়মাস ধরে কাজে মানুষের মনোযোগ ছিল না। সবাই ব্যস্ত মেসি, এমবাপ্পে, লামিন, রোনালদো, নেইমারদের নিয়ে।

ফিফার হিসেবে তাদের সবচেয়ে লাভজনক ইভেন্ট বিশ্বকাপ। টিভি পর্দাও ভরপুর থাকে বিজ্ঞাপনে। কিন্তু ফুটবল দেখতে ব্যস্ত মানুষের কাজের ফাঁকির কারণে উৎপাদনশীলতায় বড় ঘাটতি দেখা দেয়।

প্রায় দেড়মাসের ফুটবল উৎসব এখন শেষ প্রান্তে। আগামীকাল নিউজাসির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা আর স্পেনের ফাইনালে পর্দা নামবে এবারের আয়োজনের। যৌথ আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো আর কানাডার নাম থাকলেও এবারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হিউম্যান রিসোর্স সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ইউকেজি'-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের কারণে উৎপাদনশীলতার বিবেচনায় মার্কিন অর্থনীতির প্রায় ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। বিশ্বব্যাপী উৎপাদনশীলতায় এই ক্ষতির পরিমাণ ১৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপে প্রিয় দলের খেলার দিন বিপুলসংখ্যক কর্মী খেলা দেখার জন্য কাজ ফাঁকি দিয়ে আগেভাগে চলে যাওয়া, খেলার পর দিন দেরি করে আসা বা পুরোপুরি কাজ ফাঁকি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। যার প্রভাব পড়েছে উৎপাদনশীলতায়। কর্মক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম 'এনভয়'-এর তথ্য অনুযায়ী, বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর দিন ৭ জুলাই মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি ২৬ ভাগ কমে গিয়েছিল। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান ফুটবলের ফাইনাল সুপার বোলের পরদিন (সাধারণত সোমবার) অনুপস্থিতির হার বেশি থাকে। তবে ৭ জুলাইয়ের অনুপস্থিতির হার সুপার বোলের পরের দিনের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ছিল।

৭ জুলাই শুধু অনুপস্থিতিই নয়; ক্লায়েন্ট মিটিং, ইন্টারভিউ এবং ভেন্ডর অ্যাপয়েন্টমেন্টের মতো ভিজিটর এন্ট্রিও ৩২ ভাগ কমে গিয়েছিল, যা সুপার বোলের পরের দিনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এনভয় এই ঘটনাকে 'নকআউট মঙ্গলবার' নাম দিয়েছে। যেসব ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছিল, সেদিন এবং তার পরদিন অনুপস্থিতির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। আয়োজক দেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর, বিশ্বকাপ আরও রোমাঞ্চকর পর্যায়ে পৌঁছালেও যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা কমে গেছে। সেখানে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় কোনো ইভেন্টের কারণে কর্মীদের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। অলিম্পিক গেমস বা ২০২৩ সালে 'বার্বি' ও 'ওপেনহাইমার' সিনেমা মুক্তির সময়েও অফিসে উপস্থিতি কমে গিয়েছিল। কিছু কোম্পানি উৎপাদনশীলতার ওপর বিশ্বকাপের এই নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের খেলা চলার দিনগুলোতে যানজট ও যাতায়াতের বিলম্ব এড়াতে এসঅ্যান্ডপি, জেপিমরগান চেজ অ্যান্ড কোং, গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর মত প্রতিষ্ঠানের আয়োজক শহরগুলোর নিয়োগকর্তারা কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টে নেই বলে ফুটবল নিয়ে আমেরিকানদের আগ্রহও কমে গেছে। এমনকি আগামীকালের হাইভোল্টেজ ফাইনাল নিয়েও নেই তেমন উত্তেজনা। এনভয় পূর্বাভাস দিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচের পরদিন কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি সামান্য কমতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি অনুমান করেছে যে, এই অনুপস্থিতির হার 'নকআউট মঙ্গলবার'-এর চেয়ে অনেক কম হবে; 'সুপার বোল'-এর পরের দিনের কাছাকাছি হতে পারে। তাদের ধারণা ফাইনালের পরদিন অন্যান্য সোমবারের তুলনায় কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি ১ দশমিক ৮৭ ভাগ কম হতে পারে।

ইনজুরির শঙ্কায় পেসার নাহিদ রানা

ক্রীড়া ডেস্ক
ইনজুরির শঙ্কায় পেসার নাহিদ রানা
ছবি : ক্রিকইনফো

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েছেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। 

শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছে। 

ম্যাচে ২.৩ ওভার বল করার পর পায়ে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন রানা। পরবর্তীতে আর মাঠে ফিরেননি এবং নিজের বোলিং কোটাও পূর্ণ করেননি তিনি। 

জিম্বাবুয়ে থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় রানার ইনজুরি নিয়ে দলের ফিজিও বায়েজিদুল বলেন, ‘দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাঁ পাশের পেশিতে টানের কথা জানিয়েছে রানা। পরে আর বল করনেনি। আগামীকাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে থাকবে সে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তার ‘সাইড স্ট্রেইন’ হয়েছে। তার কোনো স্ক্যান বা পরীক্ষার প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে আগামীকাল সকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মাঠে ফিরতে কত সময় লাগবে তা পরে জানানো হবে।’

ফলে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

মাঠ ছাড়ার আগে ২.৩ ওভার বল করে ১৫ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন রানা। জিম্বাবুয়ের ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে ১৫ রানে সাজঘরে পাঠান। দ্বিতীয় ম্যাচ ৩৪ রানে জিতে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। 

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩২ রানে হারলেও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন ২২ বছর বয়সী পেসার রানা। ৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন তিনি। 

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা-বাংলাদেশ ‘প্রেম’ তুঙ্গে

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা-বাংলাদেশ ‘প্রেম’ তুঙ্গে
রাজু ভাস্কর্যের সামনে ফ্ল্যাশমব। ছবি : রয়টার্স

আশপাশের বাড়ির ছাদ আকাশি-সাদা পতাকায় ছেয়ে যাওয়ার সঙ্গে দেয়ালে দেয়ালে লিওনেল মেসির ম্যুরাল দেখে আপনার মনেই হতে পারে বাংলাদেশ নয় এটি আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এমনি সাজ এখন পুরো বাংলাদেশে। আকাশপথের দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটারের ওপরে হলেও ঠিকই আলবিসেলেস্তাদের জন্য গলা ফাটাচ্ছে।

১৮ কোটির বেশি বাংলাদেশ এখনো বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও বৈশ্বিক মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে যেভাবে আর্জেন্টিনাকে আপন করে নিয়েছে তার তুলনাই হয় না। আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের এই ভালোবাসা দশকের পর দশক ধরে।

এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আর্জেন্টিনা ফাইনাল ওঠায় ভালোবাসার চিত্র আরো দারুণ ফুটে উঠেছে। রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তাই আরেকটি উন্মাদনার রাত কাটানোর অপেক্ষায় পুরো বাংলাদেশ।

এএফপিকে মোটর মেকানিক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের সময় প্রচণ্ড টেনশনে ছিলাম। ঘেমে যাচ্ছিলাম এবং প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম। তবে এখন নিশ্চিত করে বলতে পারি, আর্জেন্টিনাই জিতবে।’

অনেকের মতে, আর্জেন্টিনার বাইরে আলবিসেলেস্তেদের সবচেয়ে বড় সমর্থক গোষ্ঠী এখন বাংলাদেশে। এই ভালোবাসার গল্পটা শুরু হয় ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুকরী পারফরম্যান্সের মধ্যে দিয়ে।

আর্জেন্টিনার প্রতি নুরুলের এই ভালোবাসা এসেছে তার বাবার কাছ থেকে। ম্যারাডোনার অন্ধ ভক্ত ছিলেন তার বাবা। সেই আবেগ সংক্রমণের মতো ছড়িয়ে পড়েছে তাদের তৃতীয় প্রজন্মেও। তিনি বলেন, ‘আমার দুই সন্তানও আর্জেন্টিনার ভক্ত। তারা এই খেলা নিয়ে বেশ সিরিয়াস এবং নতুন জার্সির বায়না ধরেছিল।’

সমর্থকদের তুমুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় জার্সির বাজার এখন জমজমাট। বাংলাদেশ স্পোর্টস অ্যাক্সেসরিজ মার্চেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা শামীম পাটোয়ারী জানান, বাজারে জার্সির চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার কত সমর্থক আছেন তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই, তবে আমরা বিপুল পরিমাণ জার্সি বিক্রি করেছি।’

মোট বিক্রির প্রায় ৩০ শতাংশই আর্জেন্টিনার জার্সি বলে জানান বাংলাদেশের অন্যতম ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘গ্যালাক্সি স্পোর্টসের’ রায়হান হোসেন। তিনি বলেন, ‘কিছু অভিভাবক তো সদ্যজাত শিশুদের জন্যও আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছেন। আমাদের স্টকে থাকা প্রায় সব জার্সিই বিক্রি হয়েছে, বিশেষ করে প্লেয়ার এডিশনগুলো।’

রায়হান আরো যোগ করেন, ‘জার্সি কেনার পেছনে কাজ করে এক গভীর আবেগ। সেদিন এক অটোরিকশাচালক আমাদের দোকানে এসে প্রায় ১,২০০ টাকা দিয়ে প্লেয়ার-এডিশনের একটি জার্সি কিনলেন। জানি না, এই টাকা তিনি দিনে আয় করতে পারেন কি না।’

আল মামুন নামে ৫৫ বছর বয়সী এক বিক্রেতা জার্সি বিক্রি করতে করতে বলেন, ‘আমি ম্যারাডোনার খেলা দেখেছি এবং তখন থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়ে আছি।’

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম হলেও, প্রতি ৪ বছর পর পর পুরো দেশ ফুটবল জ্বরে কাঁপতে থাকে। টুর্নামেন্টের আবেগ এতটাই তীব্র যে, দেশের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই বিশ্বকাপ চলাকালীন ফুটবল-সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিন দেশে হচ্ছে। সঙ্গে ৪৮ দলের বিশ্বকাপও প্রথম। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর সঙ্গে বাংলাদেশের সময় অনেকটা দিন-রাত পার্থক্য। তবে গভীর রাতে ম্যাচ শুরু হলেও ভক্ত-সমর্থকদের চোখ ঠিকই বোকাবাক্সে থাকে।

আর্জেন্টিনার খেলা দেখার জন্য যেমন রাত জেগে অপেক্ষায় থাকেন ৩৭ বছর বয়সী জাকিয়া মুসান্না।  তিনি বলেন, ‘এই জার্সি পরি কারণ এটা আমাদের মনে এই অনুভূতি দেয় আমরাও দলেরই একটা অংশ, একাত্মতার একটা অনুভূতি।’

বাবার সাথে বসে ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মৃতিচারণা করেন মুসান্না। রবিবারের ফাইনালও ঠিক একই জায়গায় বসে দেখার পরিকল্পনা তার। তিনি বলেন, ‘আমরা একই জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছি, আগের জয়ের স্মৃতিগুলো রোমন্থন করব এবং আরেকটি বিজয় উদযাপন করব।’ জায়গার নামটি অবশ্য জানাননি মুসান্না।

ফাইনালে শুধু জয়েই মনোযোগ এমি মার্তিনেজের

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনালে শুধু জয়েই মনোযোগ এমি মার্তিনেজের
ছবি : রয়টার্স

স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বলেছেন, টুর্নামেন্টের আগে ডান হাতের অনামিকায় চিড় ধরার কারণে প্রতিদিন প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। শনিবার (১৮ জুলাই) ফিফা ফ্যানাটিকস ফেস্ট অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। এ সময় সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নিউ জার্সিতে ইউরোপীয়দের বিপক্ষে ম্যাচের দুই দিন আগে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বলেন, ‘আমার হাতে এখনো প্রতিদিন ব্যথা করে। আমি জানতাম যে অনেক ব্যথা হবে। আমি অস্ত্রোপচার এড়িয়ে গেছি; যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডে আমি যে সমস্ত বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করেছিলাম। তাঁরা সবাই আমাকে বলেছিলেন অস্ত্রোপচার করতে। কিন্তু আমি এড়িয়ে গেছি।’

গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো চলাকালীন আমি ঠিকঠাক অনুশীলন পর্যন্ত করতে পারিনি। তবে শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে আমি ব্যথার কথাটা মাথা থেকেই ঝেড়ে ফেলেছি, এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো বোধ করছি বলে যোগ করেন অ্যাস্টন ভিলার এই আর্জেন্টাইন গোলকিপার।

কয়েক বছর আগে সতীর্থদের সাথে এক আলাপচারিতায় দুটি বিশ্বকাপ জিতলে অবসর নেবেন ভাইরাল মন্তব্যটি নিয়ে জানতে চায়লে তিনি বলেন,ওটা নিকোর সাথে জাতীয় দলের হয়ে এক (এএফএ) অনুশীলন বলা হয়েছিল... কিন্তু প্রথমে আমাদের জিততে হবে। আমি শুধু সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। এই দলটি বছরের পর বছর ধরে উন্নতি করে চলেছে। আমরা যা অর্জন করেছি তা ভেবে মাঝে মাঝে আমার চোখে জল চলে আসে। সামনে উপভোগ করার মতো আনন্দের মুহূর্ত এখনো বাকি রয়েছে।

জুভেন্টাসের মতো বড় ক্লাব মার্তিনেজকে দলে ভেড়াতে উন্মুখ হয়ে আছে, ট্রান্সফার মার্কেটে তাঁকে নিয়ে গুঞ্জন তুঙ্গে। তবে ৩৩ বছর বয়সী এই গোলকিপারের চোখ এখন ওসবে নেই। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান কেবল একটাই— নিউ জার্সির মাঠে স্পেনের বিপক্ষে জিতে আর্জেন্টিনার জার্সিতে চতুর্থ তারকাটি জুড়ে দেওয়া।