• ই-পেপার

উচ্ছ্বাসের মাশুল! টাচলাইন নিষেধাজ্ঞা পেলেন চেলসি কোচ

তরুণ প্রতিভাবান আর্জেন্টাইন তারকাকে দলে ভিড়ালো চেলসি

ক্রীড়া ডেস্ক
তরুণ প্রতিভাবান আর্জেন্টাইন তারকাকে দলে ভিড়ালো চেলসি

গ্রীষ্মের দলবদলের বাজারে চলছে শেষ মুহূর্তে পছন্দের তারকাদের দলে ভিড়িয়ে শক্তি সঞ্চার করছে ক্লাবগুলো। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ, কয়েকদিন পরই শুরু হবে ব্যস্ত ক্রাব সূচি। দলবদলের বাজারে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে নিচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ইংলিশ ক্লাব চেলসি। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ভালেন্তিন বার্কোর চেলসিতে যোগ দেওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা ও নথিপত্র স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। ক্রীড়া সাংবাদিক ও দলবদল বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফ্যাব্রিজিও রোমানো জানিয়েছেন, ফরাসি ক্লাব আরসি স্ট্রাসবার্গ থেকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আসার সব চুক্তি চূড়ান্ত।

চেলসি এবং স্ট্রাসবার্গের মধ্যে গত মে মাসেই এই দলবদলের প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। চেলসি এবং আরসি স্ট্রাসবার্গ—দুটি ক্লাবই একই মালিকানাধীন গ্রুপভুক্ত হওয়ায় দুই পক্ষের সমঝোতা সহজেই সম্পন্ন হয়েছে।

 নথিপত্র সই হয়ে যাওয়ায় চেলসি খুব শীঘ্রই বার্কোকে তাদের নতুন খেলোয়াড় হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভক্তদের সামনে উন্মোচন করবে।

২২ বছর বয়সী এই বহুমুখী প্রতিভাবান আর্জেন্টাইন তারকা স্ট্রাসবার্গের হয়ে গত মৌসুমে লিগ ওয়ানয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। 

সম্প্রতি তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। যেখানে আর্জেন্টিনা রানার্স-আপ ট্রফি অর্জন করে। ব্লুজদের মাঝমাঠে এনজো ফের্নান্দেসের বিকল্প বিবেচনায় দলে ভিড়িয়েছে ক্লাবটি।

ইংলিশ তারকাকে আরো চার বছরের জন্য রেখে দিল ম্যানসিটি

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংলিশ তারকাকে আরো চার বছরের জন্য রেখে দিল ম্যানসিটি

গ্রীষ্মের দলবদলের মৌসুমে ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই ইংলিশ তারকার চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছে ম্যান সিটি। নতুন বস এনজো মারেস্কা দলে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবকে শক্তিশালী করার কাজে হাত দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ফোডেনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চুক্তি।

আগামী মৌসুমের পর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন চুক্তিতে আরো এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তার দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছে।

নতুন চুক্তি ইংলিশ এই ফরোয়ার্ডকে আরো স্থিতিশীল হতে সহযোগিতা করবে। চোট জর্জরিত কঠিন সময়ে তিনি ফরম হারিয়ে ফেলেছিলেন, এমনকি সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ডের দলেও জায়গা পাননি।

ফোডেন বলেন, ‌‘সিটির সঙ্গে আমার ভবিষ্যৎ বেঁধে ফেলতে পারা আমার জন্য সব কিছুর চেয়ে বড়। এই ক্লাবের হয়ে খেলাই সব সময় আমার স্বপ্ন ছিল। এই জার্সি গায়ে তোলা সব সময়ই গর্বের।’

ক্লাবের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা ফোডেন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি এফএ কাপ এবং পাঁচটি লিগ কাপ জিতেছেন।

তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী খেলোয়াড়দের একজন। এই তালিকায় তার সঙ্গে রয়েছেন বার্নার্ন্ডো সিলভা ও জন স্টোনস, যারা দুজনই গত মৌসুম শেষে ক্লাব ছেড়ে গেছেন।

থিয়াগো মেসিতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
থিয়াগো মেসিতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা
সংগৃহীত ছবি

চার বছর আগে কাতারের মরুভূমিতে যখন সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন লিওনেল মেসি, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন ওটাই মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু বয়সের হিসাব-নিকাশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৩৯ বছর বয়সে উত্তর আমেরিকার মাটিতে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তোলেন এই ফুটবল যাদুকর। স্পেনের কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া হলেও পুরো টুর্নামেন্টে সবুজ গালিচায় আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন মেসি। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ যখন বসবে, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩। ওই বয়সে বিশ্বমঞ্চে মহাতারকাকে দেখার সম্ভাবনা ক্ষীণ বললেই চলে। তবে ভক্তদের আশা হারানো মানা! কিংবদন্তি মেসিকে হয়তো পাওয়া যাবে না, কিন্তু তার জ্যেষ্ঠ পুত্র থিয়াগো মেসিকে আকাশি-নীল জার্সিতে দেখার রঙিন স্বপ্ন এখন থেকেই বুনতে শুরু করেছেন কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থক।

বর্তমানে ১৩ বছরে পা রাখা থিয়াগোকে ঘিরে নেটদুনিয়ায় একটি বেশ চমকপ্রদ গাণিতিক হিসাব ঘুরে বেড়াচ্ছে। ২০৩০ সালের ঐতিহাসিক শতবর্ষপূর্তি বিশ্বকাপে থিয়াগোর বয়স হবে ১৮ বছর। সেই হিসেবে, তরুণ এই ফুটবলার যদি তার সামর্থ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দ্রুততম সময়ে পেশাদার ফুটবলে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, তবে বাবার সঙ্গে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম বা মাঠ ভাগ করে নেওয়ার অভাবনীয় দৃশ্যটি বাস্তবে রূপ নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে ফুটবলের পাঠ নিচ্ছে থিয়াগো। ইতোমধ্যে দলটির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও উঁচিয়ে ধরেছে সে। ফ্লোরিডার ক্লাবে থিয়াগোর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন ভক্তরা, যারা চান ‘মেসি’ রাজত্ব ফুটবলের আঙিনায় চিরস্থায়ী হোক।

জন্ম সূত্রে থিয়াগো স্পেনের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছে সে। একাধিক সাক্ষাৎকারে থিয়াগো নিজেই জানিয়েছে, স্পেনের আহ্বান থাকলেও বাবার দেখানো পথ ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলাই তার একমাত্র স্বপ্ন। জাতীয় দলের হয়ে বাবার দেখানো পথে চলার এই ইচ্ছাই এখন ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ছড়ানো আর্জেন্টাইন ভক্তদের প্রধান আশার জ্বালানি।

মেসি পরিবারে অবশ্য ফুটবলের চর্চা কেবল থিয়াগোতেই সীমাবদ্ধ নয়; তার দুই ছোট ভাই মাতেও ও চিরোও ফুটবলের প্রাথমিক সিঁড়িতে নিজেদের মেধার জানান দিচ্ছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষক ও ভক্তরা একবাক্যে মানেন, বাবার অর্জিত হিমালয়সম উচ্চতা স্পর্শ করা যেকোনো সন্তানের জন্যই কঠিন পরীক্ষা। তাই তরুণ থিয়াগোর ওপর শুরুতেই কোনো অযাচিত চাপ তৈরি না করে, ভক্তদের কেবল এই সম্ভাবনাটুকু উপভোগ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
 
 

স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবি, অনলাইনে হাজারো ভক্তের স্বাক্ষর

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবি, অনলাইনে হাজারো ভক্তের স্বাক্ষর
ছবি : রয়টার্স

গত ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইনদের স্তব্ধ করে ১-০ গোলের জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী মহারণে জয়ী দলের নাম চূড়ান্ত হয়ে গেলেও ফাইনাল ম্যাচটি ঘিরে আর্জেন্টিনা ভক্তদের হতাশা কমছে না। বিশেষ করে রেফারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবি তুলেছেন হাজার হাজার সমর্থক। এই লক্ষ্যে চালু হওয়া এক অনলাইন পিটিশনে ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন ৬১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফুটবলপ্রেমী।

‘চেঞ্জ ডট ওআরজি’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই আবেদনটি শুরু করেছেন গিসেলা সানচেজ নামে এক আর্জেন্টাইন সমর্থক। সেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে ফাইনাল পরিচালনা করা স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিস ও ভিএআরের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানানো হয়।

আবেদনকারীর মতে, ম্যাচের গতিপ্রকৃতি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিতে কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত বেশ প্রভাব ফেলেছিল। যদিও এসব দাবির পক্ষে শক্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। তারপরও নিরপেক্ষতার স্বার্থে ফিফাকে ম্যাচটি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ভক্তরা।

তবে আইনি ও বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ মানুষের এমন ক্যাম্পেইনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কার্যকারিতা নেই। খেলা পুনরায় আয়োজনের মতো বিরল ঘটনা কেবল ক্রীড়া আদালতের সুনির্দিষ্ট আইন বা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে।

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে অবশ্য এ ধরনের কান্ড এবারই প্রথম নয়। এর আগে সেমিফাইনালে স্পেনের একটি পেনাল্টি পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফ্রান্সের প্রায় ৮২ হাজার সমর্থক ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে অনলাইনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ফিফার কাছ থেকে সেটিরও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, ১৯ জুলাইয়ের টানটান উত্তেজনার ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট আর্জেন্টিনা অগোছালো খেলার পর অতিরিক্ত সময়ের গোলে জয় পায় স্পেন। তোরেসের সেই এক গোলেই নিশ্চিত হয় স্প্যানিশদের সোনালী ট্রফি। পরাজয়ের পর বুয়েন্স আয়ার্সের রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের হাতাহাতির অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও, প্রিয় দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলে উপহার দেওয়ায় লিওনেল মেসিদের ভালোবাসায় ভাসাতে ভুলেননি সাধারণ আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তরা। 
 

উচ্ছ্বাসের মাশুল! টাচলাইন নিষেধাজ্ঞা পেলেন চেলসি কোচ | কালের কণ্ঠ