• ই-পেপার

পদত্যাগ করবেন না ফারুক

টি-টোয়েন্টিতে এমন রেকর্ড প্রথমবার দেখল বিশ্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
টি-টোয়েন্টিতে এমন রেকর্ড প্রথমবার দেখল বিশ্ব
ছবি : ক্রিকইনফো

আমেরিকার মেজর ক্রিকেট লিগ দেখল এক অতিমানবীয় এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই ম্যাচে তিনজন ব্যাটসম্যানের শতকের ম্যাচে রেকর্ড ৫১টি ছক্কা দেখেছে বিশ্ব। এলিমিনেটরের ম্যাচে এমআই নিউ ইয়র্কের ব্যাটার পুরানের রেকর্ড দ্রুততম সেঞ্চুরিতে পাহাড়সম লক্ষ্য দেয় ওয়াশিংটন ফ্রিডমকে। আন্দ্রিস গাউস ও স্টিভেন স্মিথের নৈপুণ্য শেষ পর্যন্ত নিকোলাস পুরানের ৩১ বলে করা শতককে (যা এমএলসির দ্রুততম) ছাপিয়ে যায়। ফলে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয় তুলে নেয় ওয়াশিংটন।

ওকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে কোলাইসিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নিকোলাস পুরানের বিধ্বংসী শতরানে ২৬৬ রান তোলে নিউ ইয়র্ক। জবাবে স্টিভ স্মিথ এবং অ্যান্ড্রিজ গাউসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ২৭০ রান সংগ্রহ করে রেকর্ড জয় নিশ্চিত করে ফ্রিডম।

‘আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, দ্বিতীয় শিরোপা জিতবে স্পেন’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, দ্বিতীয় শিরোপা জিতবে স্পেন’
স্পেনের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী ট্রফি হাতে ক্যাসিয়াস। ছবি : এক্স থেকে

একের পর এক কামব্যাকের গল্প লিখে বিশ্বকাপে ছুটছে আর্জেন্টিনা। এবার তুলির শেষ আঁচড় দেওয়ার পালা। তাদের প্রত্যাবর্তন দেখে তাই অনেকেই মনে করছেন চতুর্থ বিশ্বকাপটা আলবিসেলেস্তাদের নামেই খোদাই হতে যাচ্ছে।

এ জন্য আগামী ১৯ জুলাই প্রতিপক্ষ স্পেনকে হারাতে হবে আর্জেন্টিনাকে। তবে নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনা নয় স্পেন বিজয়োল্লাস করবে বলে মনে করছেন ইকার ক্যাসিয়াস। স্পেন কিংবদন্তির মতে, আর্জেন্টিনার চতুর্থ নয়, স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা হতে যাচ্ছে।

ফাইনালের লড়াইয়ের আগে এভাবেই মাঠ গরম করে রাখলেন ক্যাসিয়াস। সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে স্পেনের সাবেক গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনা, তোমাদের চতুর্থ তারকা (শিরোপা) পাওয়া হচ্ছে না! আমরা দ্বিতীয় শিরোপার দিকে এগোচ্ছি!! এগিয়ে চলো স্পেন!’

 

শুধু বিশ্বকাপ নয়, ফিনালিসিমাও স্পেন জিতবে বলে ক্যাসিয়াসের বিশ্বাস। তাই ফিফাকে দুটি শিরোপাই প্রস্তুত রাখতে বলা রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘এই রোববার ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ, দুটোই আমাদের! দুটো ট্রফিই প্রস্তুত রাখো ফিফা!’

৮৪ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড শেষে ২-১ গোলে হারায় কোচ টমাস টুখেলের সমালোচনাও করেছেন ক্যাসিয়াস। তিনি লিখেছেন, ‘নিজেদের ভুল কৌশলের কারণেই ম্যাচ হেরেছে ইংল্যান্ড। ওরা শেষ ৩০ মিনিট আর্জেন্টিনাকে যা খুশি তাই করার সুযোগ দিয়েছে। এটা হতে পারে না। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল অবিশ্বাস্য হতে যাচ্ছে।’

 

ইংল্যান্ড গোল পাওয়ার পর নিজেদের বক্সে চলে যাওয়াকে ভীরুতা বলে জানান ক্যাসিয়াস। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ড গোল করার পরেই পিছিয়ে যায়। এটা ভীরুতার পরিচয়। নিজেদের বক্স ছেড়ে বের হতে না চাওয়ায় একের পর এক আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই হয়েছে।’

স্পেন ফাইনালে উঠতেই ভাইরাল পেদ্রির পুরনো পোস্ট

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন ফাইনালে উঠতেই ভাইরাল পেদ্রির পুরনো পোস্ট

১৩ মাস আগে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার মানতে হয়েছিল স্পেনকে। তখনই যেন লক্ষ্য স্থির হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কথায় আছে, কখনও কখনও জয়ের চেয়ে পরাজয় ঘুরে দাঁড়াতে শেখায়। ঠিক সেভাবেই রোনালদোর দেশের কাছে হেরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন এঁকে রেখেছিলেন পেদ্রি। বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডার লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছিলেন। যার ক্যাপশনে লেখা ছিল বিশেষ তারিখ – ১৯.০৭.২৬। এই তারিখেই আগামী রোববার বিশ্বকাপের ফাইনাল। টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে নকআউটে হারিয়ে সেদিন ফাইনাল খেলবে ‘লা রোজা’রা।

তখন অনেকেই পেদ্রির এই পোস্টকে হয়তো বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কারণ সেই সময় পথ অনেক বাকি ছিল। স্পেনকে পার হতে হবে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব। সর্বোপরি মূলপর্বের কঠিন লড়াই। পরে ইয়ামালও সেই পোস্ট ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন। তাতেই স্পষ্ট, স্প্যানিশ আর্মাডার নতুন প্রজন্ম অনেক আগেই লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিল। ১৩ মাস পর আবার সেই পোস্ট ভাইরাল। কারণ ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে এসেছে স্পেন। যে তারিখ একসময় ছিল স্বপ্ন, সেটিই এখন বাস্তব।

 

২০২৪-এ ইউরো জয়ের পর থেকেই দুরন্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। নেশনস লিগের ফাইনালে হারলেও আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়েনি। গোটা বিশ্বকাপে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে স্প্যানিশ আর্মাডা। টুর্নামেন্টের শুরুতে মিডফিল্ডে ভরসা জুগিয়েছেন পেদ্রি। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফাইনাল থার্ডে সবচেয়ে বেশি পাস দেওয়ার রেকর্ডও ছিল তাঁর দখলে। যদিও নকআউট পর্বের শেষ দিকে ফাবিয়ান রুইজ প্রথম একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন। তবু কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের পরিকল্পনায় বেশ ভালোভাবেই রয়েছেন তিনি।

ফাইনালে উঠে ১৯ বছরের স্প্যানিশ তারকা ইয়ামাল বলছেন, দেখিয়ে দিলাম আমরাই বিশ্বসেরা দল।

উল্লেখ্য, ফরাসিদের হারিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন ইতালির অনন্য নজিরে ভাগ বসিয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম ইউরোপীয় দল হিসাবে ইউরো এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৮টি নকআউট ম্যাচ জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তে দল। তারা যে ১৬ বছর আগে সোনালি রাত ফিরিয়ে আনতে চাইবে, তা আলাদা করে বলার দরকার পড়ে না। 

ওয়াল্টার স্যামুয়েল : আর্জেন্টিনার সেট-পিস আধিপত্যের নেপথ্যের নীরব কারিগর

ক্রীড়া ডেস্ক
ওয়াল্টার স্যামুয়েল : আর্জেন্টিনার সেট-পিস আধিপত্যের নেপথ্যের নীরব কারিগর
ছবি : ওয়েবরাডিও

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সহকারী কোচ ও টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট ওয়াল্টার স্যামুয়েল নেপথ্যে থেকে দলটির সেট-পিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার জন্য যিনি ‘দ্য ওয়াল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনিই এখন লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি ছিল ওয়াল্টার স্যামুয়েলের নিখুঁত পরিকল্পনার ফসল।

স্যামুয়েল ম্যাচ শুরুর আগেই মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে প্রতিপক্ষের নিয়ার-পোস্টে আক্রমণ করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেন।

অধিনায়ক লিওনেল মেসি কর্নার থেকে ঠিক স্যামুয়েলের নির্দেশিত স্থানেই নিখুঁত ক্রস বাড়ান। ম্যাক অ্যালিস্টার সেখানে অবস্থান নিয়ে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। গোলটি হওয়ার পরপরই প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ডাগআউটে স্যামুয়েলকে জড়িয়ে ধরে এই দুর্দান্ত কৌশলের জন্য উদযাপন করেন।

স্যামুয়েলের এই সেট-পিস চিন্তা মূলত তার নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের এক সোনালী স্মৃতির প্রতিফলন। ২০০৯/১০ মৌসুমে জোসে মরিনহোর ইন্টার মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডায়নামো কিভের বিপক্ষে ওয়েসলি স্নাইডারের কর্নার থেকে স্যামুয়েল ঠিক একইভাবে নিয়ার-পোস্টে হেড করে একটি সমতাসূচক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন। ১৭ বছর পর আর্জেন্টিনা দলের কোচ হিসেবে তিনি নিজের সেই চতুর মুভমেন্ট বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মাঝে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

গড়ে ১.৭৯ মিটার উচ্চতা নিয়ে আর্জেন্টিনা চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম খাটো দল হওয়া সত্ত্বেও তারা অন্যতম সেরা এরিয়াল থ্রেটে  পরিণত হয়েছে। এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে স্যামুয়েলের জাদুকরী প্রশিক্ষণ।

স্যামুয়েলের জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা শারীরিক শক্তিতে অনগ্রসর হলেও নিখুঁত মনঃসংযোগ, আগ্রাসন, সঠিক যোগাযোগ এবং গোলরক্ষকের দক্ষতার মাধ্যমে সেট-পিসে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই সেট-পিস থেকে ৫টি গোল করেছে। যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো একক বিশ্বকাপে দলটির সর্বোচ্চ রেকর্ড।

খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এবং ট্রফি ধরে রাখার তাড়না তৈরিতে তার ড্রেসিংরুমের বক্তব্যও বেশ প্রভাব ফেলে। আর্জেন্টিনা দলের এই  ‘নীরব কারিগর’ স্পটলাইটের আড়ালে থেকে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিটি বড় মুহূর্তের ভিত গড়ে দিচ্ছেন।

পদত্যাগ করবেন না ফারুক | কালের কণ্ঠ