• ই-পেপার

আর্জেন্টিনা দল থেকে ছিটকে গেছেন মার্তিনেস

ফাইনালে পারেদেসকে লাল কার্ড দেওয়া হয়নি : ফিফা

অনলাইন ডেস্ক
ফাইনালে পারেদেসকে লাল কার্ড দেওয়া হয়নি : ফিফা
সংগৃহীত ছবি

শেষ বাঁশি বাজিয়ে রেফারি মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিপরীতে ফাইনালে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা উদযাপন শুরু করে স্পেন। কিন্তু এই মুহূর্তেই ম্যাচ হেরে হতাশ লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের দুই ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।

মাঠের এই নজিরবিহীন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেন রেফারি। ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

এদিকে ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের আচরণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। একই সঙ্গে ফাইনালে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানোর যে খবর ছড়িয়েছিল, সেটিও পরে আনুষ্ঠানিক নথি থেকে প্রত্যাহার করেছে সংস্থাটি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ডিসিপ্লিনারি কোডের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলোতে শৃঙ্খলাভঙ্গের সম্ভাব্য অভিযোগ তদন্ত করবেন তিনি।

বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ রিপোর্ট মূল্যায়নের পর এবং ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের (এফডিসি) ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলোতে এফডিসি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য অভিযোগ তদন্তের জন্য ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি একজন ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে। প্রসিকিউটরের তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। পাশাপাশি আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফাইনালে আগ্রাসী ফুটবলের কারণে সমালোচনায় ছিল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেস। ম্যাচ শেষে স্পেনের উদ্‌যাপনের সময় নাউয়েল মলিনা দৌড়ে যাওয়া রদ্রির বুকে আঘাত করেন। পরে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা ও স্পেনের দানি ওলমোর মধ্যে উত্তপ্ত বাগ্‌বিতণ্ডাও হয়।

এদিকে শেষ বাঁশির পর স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরার অভিযোগে পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ফিফা নিশ্চিত করে, ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনায় পারেদেসের বিরুদ্ধে মাঠে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জিতেছেন কোন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জিতেছেন কোন কোচ
বিশ্বকাপের কার্ডবোর্ড ট্রফিতে স্পেনের কোচ ফুয়েন্তের কাটআউট বানিয়ে উদযাপন করেছেন এক সমর্থক। ছবি: এএফপি

স্পেনকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জেতানোর মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ৬৫ বছর ২৬ দিন বয়সে বিশ্বকাপ জিতে তিনি এখন বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে বয়স্ক কোচ।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে রবিবার রাতের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। এই জয়ের মাধ্যমে ফুয়েন্তে ভেঙে দেন স্পেনেরই সাবেক কোচ ও তার পূর্বসূরি ভিসেন্তে দেল বস্কের রেকর্ড। দেল বস্ক ২০১০ সালে ৫৯ বছর ১৯৭ দিন বয়সে স্পেনকে প্রথম বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন।

বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে ফুয়েন্তের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে আরেকটি পালক। এর আগে তার অধীনেই স্পেন ২০২৩ সালে উয়েফা নেশন্স লিগ এবং ২০২৪ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল। 

fuente
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ছবি: সংগৃহীত

ফাইনালের পর আবেগাপ্লুত ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ঐক্য। খেলোয়াড়রা নিজেদের স্বার্থের আগে সবসময় দলকে গুরুত্ব দিয়েছে। এই মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত স্পেনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে।’

শুধু বিশ্বকাপ জয়ই নয়, ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন দুর্দান্ত ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে। বিশ্বকাপ জয়ের পর দলটি টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো দলের সর্বোচ্চ। স্পেন ভেঙে দিয়েছে ইতালির (৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল) রেকর্ড। 

‘বুড়ো বয়সে’ বিশ্বকাপ জিতে ফুয়েন্তে প্রমাণ করেছেন অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চও জয় করা সম্ভব। 

সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জেতা কোচ 

লুইস দে লা ফুয়েন্তে  (স্পেন, ২০২৬) ➟ ৬৫ বছর ২৬ দিন
ভিসেন্তে দেল বস্ক (স্পেন, ২০১০) ➟ ৫৯ বছর ১৯৭ দিন
দিদিয়ের দেশম (ফ্রান্স, ২০১৮) ➟ ৪৯ বছর ৩৩৯ দিন
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (জার্মানি, ১৯৯০) ➟ ৪৪ বছর ৩১৯ দিন
লিওনেল স্কালোনি (আর্জেন্টিনা, ২০২২) ➟ ৪৪ বছর ২২৯ দিন    

রাজবাড়ীর টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে মিরপুরের মঞ্চে মশিউর

ক্রীড়া প্রতিবেদক
রাজবাড়ীর টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে মিরপুরের মঞ্চে মশিউর
বাংলাদেশ দলের পেসার শরীফুল ইসলামের সঙ্গে মশিউর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

গল্পের শুরুটা খুব সাধারণ। বাড়ির আশপাশে টেপ টেনিস ক্রিকেটে হাতেখড়ি। সঙ্গী অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলা বড় ভাই। সেই ছোট্ট উঠানের ক্রিকেটই বদলে দিল মশিউর রহমানের জীবনের গতিপথ।

বাড়ির আশপাশে ব্যাট-বল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো ছেলেটি বড় স্বপ্ন দেখতেন। বড় ভাইয়ের সঙ্গে টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতে খেলতে একসময় বুঝে যান, তার একটা আলাদা প্রতিভা আছে। শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও কম যান না মশিউর। জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণও করেছেন তিনি।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী যেকোনো কিশোরের কাছে বিশেষ এক স্থান। মশিউরও শের-ই-বাংলার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন বহুবার। স্বপ্ন দেখেছেন একদিন এই মাঠেই খেলার। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের হাত ধরে। 

প্রথমবারের মতো শের-ই-বাংলায় খেলার সুযোগ পান মশিউর। সেখানেই বাজিমাত করেন রাজবাড়ীর এই ‘নতুন কুঁড়ি’। ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিপক্ষে খেলতে নেমে ম্যাচ জেতানো এক ইনিংস উপহার দেন মশিউর। ৩৭ বলে খেলেন ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস, যেখানে ছিল ৮টি করে চার ও ছক্কার মার। তার ব্যাটিং তাণ্ডবে ভর করে নির্ধারিত ১০ ওভারে ফরিদপুর অঞ্চল তোলে ১৩৬ রান। 

শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বোলিংয়েও দারুণ কার্যকর ছিলেন মশিউর। ২২ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ৮৬ রানেই থেমে যায় ময়মনসিংহ অঞ্চল। 

দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমকে পছন্দ মশিউরের। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রথম পছন্দ নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসন। 

ম্যাচ শেষে মশিউর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দলকে জেতাতে পেরে ভালো লাগছে। আমার বাবা-মা গ্যালারি ছিলেন। আমি খুবই খুশি। আশা করি দলকে ফাইনালে তুলতে পারব।’

ফরিদপুর জেলা দলের কোচ তানভীর আহমেদ রাজিব বলেন, ‘দারুণ ইনিংস খেলেছে মশিউর। জেলা পর্যায়েও দারুণ করেছে। আশা করি নির্বাচকরা মশিউরকে বিবেচনায় রাখবেন।’

প্রতিভার নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা হয় না। রাজবাড়ী জেলা থেকে মিরপুরের মঞ্চ পর্যন্ত আসা মশিউর সেটার আরেকটি প্রমাণ। প্রয়োজন শুধু একটা সুযোগ। সেটি করে দিয়েছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। 

এ কার্যক্রম তৃণমূলের প্রতিভাদের নিয়ে আসছে জাতীয় মঞ্চে। এতে মশিউরের মতো আরো অনেক সম্ভাবনাময় তরুণের দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা জেগেছে। 

অবসরের আভাস দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

ক্রীড়া ডেস্ক
অবসরের আভাস দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর এভাবেই কাঁদতে থাকেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ছবি : ইনস্টাগ্রাম

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনার হয়ে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে শুধু একজনই খেলেছেন—এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তবে ৩৩ বছর বয়সী এই গোলকিপার স্পেনের ১১টি শট ঠেকিয়েও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। 

হতাশ এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবার বড়সড় ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন। আর কখনো আর্জেন্টিনার হয়ে না খেলার কথা ভাবছেন মার্তিনেজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় এমন আভাস দিয়েছেন তিনি।

মার্তিনেজ লিখেছেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, আমরা আবারও বিশ্বকাপ জিতব। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, ট্রফিটা আবার আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনব এবং নতুন ইতিহাস গড়ব। কিন্তু সত্যি বলতে, এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা খুব কঠিন।’

২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী মার্তিনেজ এরপর লিখেছেন, ‘এখন অনেক কিছু নিয়ে ভাবার সময় এসেছে, কিভাবে সামনে এগিয়ে যাব। এটাই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় কি না, সেটাও ভাবতে হবে। আমি সত্যিই খুব দুঃখিত। দেশের জন্য এবং আমার সতীর্থদের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

২০২১ সালের ৩ জুন দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের (কনমেবল) বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে চিলির বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা হয়ে অভিষেক হয় মার্তিনেজের। তখন থেকেই তিনি নিজেকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

লিওনেল মেসিসহ সতীর্থদের কাছে তিনি শুধু দুর্দান্ত একজন গোলকিপারই নন, সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে পারা একজন ফুটবলার এবং দলে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান কারিগর।

আর্জেন্টিনা দল থেকে ছিটকে গেছেন মার্তিনেস | কালের কণ্ঠ