• ই-পেপার

মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে হারিয়ে সেমিফাইনালে কিংস

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস, গোলশূন্য সমতায় শেষ প্রথমার্ধ

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস, গোলশূন্য সমতায় শেষ প্রথমার্ধ

ফ্রান্স ০-০ মরক্কো

মরক্কো এখন আর শুধু আফ্রিকার নয়; বিশ্ব ফুটবলেরই যে পরাশক্তি হয়ে উঠেছে, সেটাই যেন প্রমাণ করতে খেলতে নেমেছে।

যে ফ্রান্স গোল করাকে মুড়ি-মুড়কির মতো ব্যাপার বানিয়ে ফেলেছে, যে ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোল (১৪টি) করেছে, সেই তাদেরই মরক্কোর বিপক্ষে একটা গোল পেতেই ঘাম ছুটে যাচ্ছে!

বোস্টনে বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম সুবর্ণ সুযোগ ফ্রান্সই পেয়েছিল। নুসাইর মাজরাউয়ি নিজেদের বক্সে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফেলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো। 

কিন্তু ২৮ মিনিটে নেওয়া স্পট কিক থেকে ব্যর্থ হয়েছেন এমবাপ্পে। নিজের বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়ে ফরাসি অধিনায়কের শট রুখে দেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু।

এরপর আরেকটি সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন দেজিরে দুয়ে। এ দফায়ও বাধা হয়ে দাঁড়ান বুনু।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লুকাস দিনিয়ের শট বারে লেগে ফিরলে হতাশা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় ফরাসিদের।

জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে নামলেন মরক্কোর ৬ ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক
জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে নামলেন মরক্কোর ৬ ফুটবলার
মরক্কো দলের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নেমেছে ফ্রান্স ও মরক্কো। তবে এই ম্যাচে এমন ৬ জন আছেন, যারা নিজেদের জন্মভূমির বিপক্ষে খেলছেন!

মরক্কোর ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ছয় ফুটবলার। তারা হলেন রেদুয়ান হালহাল, গেসিম ইয়াসিন, সামির এল মুরাবেত, আইয়ুব বুয়াদ্দি, নিল এল আয়নাউয়ি ও ইসা দিওপ। তাদের সবার পারিবারিক শিকড় মরক্কোতে। 

আইয়ুব বুয়াদ্দি তো তিন মাস আগেও ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়ক ছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ শেষে এই তরুণ মিডফিল্ডার হয়তো ফ্রান্স জাতীয় দলের পরিকল্পনাতেও চলে আসতেন। ২০৩০ বিশ্বকাপে এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের পাশে খেলার সুযোগও হয়তো মিলতো। 

কিন্তু আইয়ুব বুয়াদ্দি বিশ্বকাপে খেলার জন্য আরো ৪ বছর অপেক্ষা করতে চাননি। তাই বাবা ও মায়ের দেশ মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন থেকে ডাক পড়তেই ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছেন।

তবে আগের প্রজন্মের অভিবাসী পরিবারের সন্তান হওয়ায় জন্মসূত্রে ফ্রান্স এবং বংশসূত্রে মরক্কো—দুই দেশের হয়েই খেলার সুযোগ ছিল তাদের।

যে দেশের বিপক্ষে খেলা, সেই দেশে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের নিয়ে মরক্কোর এটি প্রথম ম্যাচ নয়। এর আগে তারা রাউন্ড অব ৩২ পর্বে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় দেশটিতে জন্ম নেওয়া ৩ খেলোয়াড় নিয়ে। এবার ফ্রান্সের ক্ষেত্রে এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা দ্বিগুণ।

দ্বৈত নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রতিভাবান ফুটবলারদের জাতীয় দলে টানার কাজটি কয়েক বছর ধরেই করছে মরক্কো। 

এবারের আগেও ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের মধ্যে সোফিয়ান বৌফাল, রোমাঁ সাইস, মারুয়ান শামাখ, মেহদী বেনাতিয়া ও মুস্তাফা হাদজি মরক্কোর জার্সিতে খেলেছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালের ৪০ মিনিট চলছিল। গোল করতে পারেনি কোনো দলই।

Penalty
এমবাপ্পের পেনাল্টি রুখে দিয়েছেন বুনু। ছবি: ফিফা

সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার নেওয়া পেনাল্টি কিক রুখে দিয়েছেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু।

শাপুরের শেষ বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রশিদ-নবিরা

ক্রীড়া ডেস্ক
শাপুরের শেষ বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রশিদ-নবিরা
সংগৃহীত ছবি

বিরল এক রোগে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর দিল্লির এক হাসপাতালে মারা যান আফগানিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ এবং সাবেক পেস বোলার শাপুর জাদরান। একদিন পরেই ৩৯ বছরে পর্দাপন করতেন আফগানদের এ তারকা পেসার। মৃত্যুর পর তার দেহ উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কাবুলে।

প্রাক্তন সতীর্থের শেষ বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রশিদ খান-মোহাম্মদ নবিরা। এমনকি তারা কাঁধে করে বইলেন শাপুরের কফিনও।

প্রাণঘাতী ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ) রোগে আক্রান্ত হন শাপুর। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এত চেষ্টা সত্ত্বেও লাভ হয়নি। ২০১৭ সালে এক হামলার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। অজ্ঞাত আততায়ী তাকে উদ্দেশ করে গুলি চালিয়েছিল। কিন্তু অসুস্থতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে গেলেন জাদরান।

বুধবার জাদরানের দেহ পৌঁছায় কাবুলে। বিমানবন্দর থেকেই কফিন কাঁধে তুলে নেন রশিদ-নবিরা। উপস্থিত ছিলেন আফগান ক্রিকেট সংস্থার সদস্য, জাদরানের পরিবার সবাই। বিমানবন্দর থেকে তার দেহ নিয়ে যাওয়া হয় ইদগাহ মসজিদে। সেখানে অন্তত ১ হাজার মানুষ অংশ নেন শেষ বিদায়ে। মসজিদ থেকে কাঁধে করে কফিন নিয়ে সমাধিস্থল পর্যন্ত যান আফগানিস্তানের প্রথম সারির ক্রিকেটার এবং জাদরানের পরিবারের সদস্যরা। মারানজান হিলে দাফন করা হয় আফগান ক্রিকেটের অন্যতম স্থপতিকে। চোখের পানিতে চিরবিদায় জানান রশিদ-নবিরা।

২০০৯ সালে অভিষেক হয় শাপুর জাদরানের। রিফিউজি হয়ে দীর্ঘদিন পাকিস্তানে কাটিয়েছেন। সেই সময় মোহাম্মদ নবি, দৌলত জাদরানদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শুরু। ২০০৯ সালে আফগানিস্তান যখন প্রথম ওয়ানডে খেলে, সেই দলে ছিলেন শাপুর। 

আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি ওয়ানডেতে ৪৩টি উইকেট এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট পেয়েছিলেন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই থেমে গেল তার জীবন।

ব্রাজিল বা জার্মানিকে ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল বা জার্মানিকে ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম
ব্রাজিল ও জার্মানির হতাশ নারী সমর্থক। ছবি: সংগৃহীত

আর কয়েক মিনিট পরেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শুরু হতে চলেছে। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশের মনে ভর করতে পারে শূন্যতা ও হাহাকার।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম যে কোয়ার্টার ফাইনালে নেই সফলতম দুই দল ব্রাজিল ও জার্মানি! রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবার শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়েছে। জার্মানি ছিটকে গেছে রাউন্ড অব ৩২ থেকে।

এটি বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এর মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল বা হতে চলেছে ১৮টি আসরে। এর ১০টিতেই ব্রাজিল-জার্মানি দুই দলই খেলেছে।

শুধু ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে ১৪টি আসরে। এবারের আগে সেলেসাওরা ১৯৩৪, ১৯৬৬ ও ১৯৯০ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বাদ পড়েছে।

শুধু জার্মানি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ১৭ বার। এবারের আগে ডি মানশাফটরা এই পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে ১৯৩৮, ১৯৫০, ২০১৮ ও ২০২২ আসরে।  

১৯৩০, ১৯৫০, ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব ছিল না।

এবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেন, মরক্কো, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে। এই আট দলের মধ্যে প্রথম চারটি দল অতীতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শেষের চারটি দল এখনো প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায়।

বেলজিয়াম ও মরক্কো কখনো সেমিফাইনালের বেশি এগোতে পারেনি। সুইজারল্যান্ড সর্বশেষ ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। আর নরওয়ে এর আগে কখনও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারেনি।

এবারের আট দলের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে সবচেয়ে হতাশাজনক রেকর্ড ইংল্যান্ডের। তারা ১০ বার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে; কিন্তু জিতেছে মাত্র ৩ বার।

ফ্রান্স ৯ বার, আর্জেন্টিনা ৮ বার, স্পেন ৫ বার, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড ৩ বার করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। মরক্কোর জন্য এমন অভিজ্ঞতা হতে চলেছে দ্বিতীয়বার আর নরওয়ের প্রথমবার।

এবারের কোয়ার্টার ফাইনালে একটি আফ্রিকান ও একটি দক্ষিণ আমেরিকান দল। বাকি ছয়টি ইউরোপীয় দল।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। আর সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার ইউরোপের একটি দল বেশি রয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

গ্রুপ পর্বের শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে ওঠা দলগুলোর মধ্যে এখনো ছয়টি টিকে আছে। দলগুলো হলো আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। মরক্কো ও নরওয়ে নিজেদের গ্রুপে রানার্স আপ হয়েছিল।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৪টি করে গোল করেছে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। তাদের ঠিক পেছনেই আছে বেলজিয়াম (১৩ গোল)।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে হারিয়ে সেমিফাইনালে কিংস | কালের কণ্ঠ