• ই-পেপার

গোপনে ৫০ দুস্থ পরিবারের ভরণ-পোষণ দিতেন ম্যারাডোনা

‘ফ্রান্সের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘ফ্রান্সের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া’
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ হাইভোল্টেজ ম্যাচে ১৫ জুলাই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ফ্রান্স। শেষ আটের লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে হারিয়ে দিয়েছে স্পেন। অন্যদিকে মরক্কোর বিরুদ্ধে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। সেমিফাইনালে তাই ইউরোপের দুই দলের লড়াই নিয়ে উত্তেজনার বিরাজ করছে। এমন আবহে বড় মন্তব্য করলেন স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ইয়ামাল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ফ্রান্সেরই ভয় পাওয়া উচিত স্পেনকে। তার এই মন্তব্য নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে গোটা ফুটবলবিশ্বে।

ম্যাচশেষে স্পেনের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘সেমিফাইনালে উঠতে পেরে আমরা খুবই খুশি। আমরা যোগ্য দাবিদার শেষ চারে যাওয়ার। বাকি দলগুলির চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো খেলেছি।’

এর পরেই ইয়ামাল স্পষ্ট করে দেন এমবাপে-দেম্বেলে-ওলিসে সমৃদ্ধ ফ্রান্সকে একটুও ভয় পাচ্ছে না স্পেন। বরং ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। ১৮ বছরের এই ফুটবলার বলেন, ‘আমরা এখানে বিশ্বকাপ জিততে এসেছি। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার মতে, ফ্রান্সের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া।’

আর ইয়ামালের এই দাবি একেবারে ভিত্তিহীন নয়। তার এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। ২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। ২০২৫ সালে নেশন্স লিগেও এমবাপ্পেদের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিলেন পেদ্রি-ইয়ামালরা। ওই ইউরোতেই সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার নজির গড়েছিলেন ইয়ামাল। তাই ফ্রান্সের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে ইতিহাস পাল্টানোর।

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্পেন ও ফ্রান্স মুখোমুখি হয়েছে মাত্র একবার। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নেমেছিল দুই দল। সেবার অবশ্য ৩-১ ব্যবধানে জিতে যায় ফ্রান্স। প্রায় দুই দশক পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে তারা। তাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

আবারও ইতিহাসের পাতায় স্মৃতি মান্ধানা

ক্রীড়া ডেস্ক
আবারও ইতিহাসের পাতায় স্মৃতি মান্ধানা
আরো একটি রেকর্ড স্মৃতি মান্ধানার। ছবি : সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত আইসিসি নারীদের টেস্ট ম্যাচ খেলছে ভারত ও ইংল্যান্ড। লর্ডসে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমে রেকর্ড গড়লেন ভারতের নারী ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধানা। ভারতের হয়ে ইংলিশদের বিপক্ষে ৩০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামেন তিনি। এতেই সর্বকনিষ্ঠ নারী ক্রিকেটার হিসেবে রেকর্ডের মালিক হন এই নারী ক্রিকেটার।

২৯ বছর বয়সী এই তারকা ক্রিকেটার বিশ্বের ১২তম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ৩০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেললেন। এই মাইলস্টোন ছুঁতে পেরে গর্বিত স্মৃতি। এই মাইলস্টোন ছুঁতে পেরে গর্বিত বলে জানিয়েছেন স্মৃতি

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ন্যাট স্কাইভার ব্রান্ট টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের জার্সিতে টেস্টে অভিষেক হয় শ্রী চরণীর। প্রথম একাদশে ফেরেন জস্তিকা ভাটিয়া। ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় অ্যালিস ক্যাপসি এবং ম্যাডি ভিলিয়ার্সের। 

স্মৃতি জানান, ম্যাচের আগের দিন রাতে তিনি এই মাইলফলকের কথা জানতে পারেন। ২০১৭ সালে মেয়েদের বিশ্বকাপ ফাইনাল লর্ডসে খেলেছিলেন। এই সুযোগও একদিন আসবে, ভাবেননি। 

স্মৃতি বলেন, ‘আমি আগের দিন রাতেই ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচের কথা জানতে পেরেছি। প্লেয়ার হিসেবে সব ফরম্যাটে ম্যাচের হিসেবে রাখা যায় না। আমার মনে আছে, ২০১৭ মেয়েদের বিশ্বকাপ এই লর্ডসেই খেলেছিলাম। সেবারের বিশ্বকাপ আমার তেমন ভাল যায়নি। আমি জানতাম না ভারতের হয়ে আবার খেলার সুযোগ পাব কিনা। সেখান থেকে লর্ডসে ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি। এর থেকে বেশি কিছু চাওয়ার নেই।’ 

টি-২০ বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স ভারতের মেয়েদের। গ্রুপের গণ্ডি পার করতে পারেনি। কিন্তু সেটাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চান ভারতের সহ-অধিনায়ক। 

স্মৃতি বলেন, ‘লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কোয়ালিফাই করার সুযোগ ছিল আমাদের। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। তবে এটাই ক্রিকেট। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এক শ করি বা শূন্য, মাঠে নামলে প্রতিবারই শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। দলের ক্ষেত্রেও তেমনই। ভাল দিনের সঙ্গে খারাপ দিনও আসে। সেগুলোও গ্রহণ করে আমরা সব সময় দেশের জন্য সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ 

কয়েক দিন আগেই টি-২০ বিশ্বকাপ খেলে ভারত। সেখান থেকে অল্প দিনের মধ্যেই লাল বলের ক্রিকেটে ফোকাস। এই পরিবর্তন আনতে প্রাথমিকভাবে মাইন্ডসেটে বদল আনতে হয় হবে উল্লেখ করে স্মৃতি বলেন, ‘আমরা খুব বেশি টেস্ট খেলি না। এর আগে পারথে আমরা গোলাপি বলের টেস্ট খেলেছি। এরপর ওয়ার্মস্লেতে ফেরা দারুণ ছিল। ২০১৪ সালের পর আর আমি ওখানে যাইনি। পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে দেয়। টি-২০ ক্রিকেটে ওপেন করার পর কিছুটা মানিয়ে নিতে হয় টেস্টে। টি-২০ তে স্ট্রাইক রেটই সর্বস্ব। লাল বলের ক্রিকেটে বল দেখে খেলতে হয়। অভিধান মেনে খেলতে হয়। ক্রিজে অনেকটা সময় কাটাতে হয়।’

গতবছর ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন স্মৃতি। কিন্তু সবকিছু পেছনে ফেলে আবার বাইশ গজে নতুন কীর্তি স্থাপন করলেন বাঁ হাতি স্টাইলিশ ওপেনার।

বিশ্বকাপে গোল মিস করায় মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে গোল মিস করায় মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড
গোল মিস করার পর হতাশায় মাথায় হাত কাম্পাজের। ছবি : রয়টার্স

একটা মিস জীবনকে কতটা দুর্বিষহ করে তুলতে পারে তা যেন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন হামিন্তন কাম্পাজ। বিশ্বকাপে গোল মিস করায় যে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন তিনি। 

প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে কাম্পাজ লিখেছেন, ‘ফুটবলে কঠিন মুহূর্ত আসে। প্রিয় কলম্বিয়া, দয়া করে কখনো শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে ফেলবেন না। আমাদের মতামত ভিন্ন হতে পারে কিংবা হতাশা ও দুঃখ অনুভব করতে পারি, কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা ছড়ানো বা ভয়ে বেঁচে থাকাকে যৌক্তিকতা দেয় না।’

কাম্পাজের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই তার পাশে দাঁড়িয়েছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। হুমকিদাতাকে চিহ্নিত করে দ্রুত আহ্বানের তদন্ত জানিয়ে তারা লিখেছে, ‘দেশের হয়ে খেলার কারণে কোনো খেলোয়াড় বা তার পরিবার-পরিজনকে ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিবৃতিতে আরো লিখেছে, ‘ফুটবল হওয়া উচিত ঐক্য, সম্মান ও আশার জায়গা—কখনোই ঘৃণা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার পরিবেশ নয়। তারা সমর্থকদের অনুরোধ করেছেন যেন খেলার মাঠের হতাশা কখনো বাস্তব জীবনের সহিংসতায় রূপ না নেয়।’

অবশ্য ভ্যাঙ্কুভারে নায়ক হওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন কাম্পাজ। কিন্তু ১১৫ মিনিটে গোল মিস করে এখন ‘খলনায়ক’ কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড। অতিরিক্ত সময়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বারের ওপর দিয়ে বল মারেন তিনি। পরে সুইজারল্যান্ডের কাছে শেষ ষোলোর ম্যাচে পেনাল্টিতে ৪-৩ গোলে হেরে যায় তারা। টাইব্রেকারে নিজের শটে গোল করেও তাই কোনো লাভ হয়নি। বাড়ির টিকিট ঠিকই কাটতে হয়েছে তাদের।

কাম্পাজের এই ঘটনা অতীতকে মনে করাচ্ছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার আত্মঘাতী গোল করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছিল কলম্বিয়া। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ক্ষোভে পরে দেশে ফেরার কিছুদিন পরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাসও বিক্রি করছে ফিফা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাসও বিক্রি করছে ফিফা
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম ছবি : সংগৃহীত

চলমান বিশ্বকাপ শুরু থেকেই নানা কাণ্ডে বিতর্কিত ফিফা। চড়া মূল্যে টিকিট বিক্রির পর বিশ্বকাপ মাঠের ঘাসও বিক্রি করছে সংস্থাটি। বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ঘাস বিক্রি করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে টিকিটের বিশাল মূল্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। কেউ যা কোনো দিন শোনেনি, সেটাই এবার করতে চলেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফাইনালের মাঠের ঘাসের প্রতিটি টুকরোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ মার্কিন ডলার। 

ফিফার অনলাইন স্টোরে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ঘাসের টুকরোর মাপ ১৭.৫ × ১৭.৫ × ১৭.৫। তবে এই পরিমাপটি ইঞ্চি, সেন্টিমিটার নাকি মিলিমিটারে দেওয়া হয়েছে, সেটা স্পষ্ট করা হয়নি। এই বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। 

ফিফার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‌‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের মাঠের একটা আসল অংশের মালিক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। প্রত্যেক ঘাসের টুকরো প্রিমিয়াম অ্যাক্রিলিকের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকবে এবং একটা ইউএসবি স্মারকসহ সরবরাহ করা হবে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রীড়া আসরের স্মৃতি বহনকারী এই সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।’

এ ছাড়া ফিফা জানিয়েছে, অ্যাক্রিলিক ইউএসবিতে থাকবে সত্যতা যাচাইয়ের বিশেষ ফিল্ম। এটা একটা প্রিমিয়াম হিঞ্জড বক্সে উপস্থাপন করা হবে। সংগ্রাহক, সমর্থক এবং ফুটবল অনুরাগীদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে।

আপাতত এই সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের ঠিকানায় পাঠানো হবে। 

ফিফা আরো জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পরেই অর্ডার করা ঘাসের টুকরো পাঠানো হবে। 

উল্লেখ্য, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠের মান নিয়ে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাধিক ফুটবলার এবং কোচ। সাধারণত এনএফএলের নিউইয়র্ক জায়ান্টস এবং নিউইয়র্ক জেটস দলের ম্যাচ এই স্টেডিয়ামের কৃত্রিম টার্ফে অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের সাধারণ টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২,৯৭০ মার্কিন ডলার। পাশাপাশি খাবার এবং পানীয়সহ আতিথেয়তা প্যাকেজের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৩৪,৫০০ এবং ৩২,৫০০ মার্কিন ডলার। ফিফার গলা কাটা দামের টিকিটের পর এই অভিনব সামগ্রীর ন্যূনতম মূল্যও সাধারণের নাগালের বাইরে।