• ই-পেপার

শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে না বাংলাদেশ : বিসিবি প্রধান

বাজিতে হেরে পাল্টে গেলো নরওয়ে এয়ারের ইনস্টা প্রোফাইল পিকচার

ক্রীড়া ডেস্ক
বাজিতে হেরে পাল্টে গেলো নরওয়ে এয়ারের ইনস্টা প্রোফাইল পিকচার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় গ্যালারি থেকে মাঠ বা মাঠের বাইরে ঘটছে নানান ঘটনা। নিজ নিজ দেশের সমর্থনে নানান পাগলামিও করছে ভক্ত-সমর্থকরা। এমনই এক অভিনব ঘটনা ঘটালো দুই দেশের দুই বিমান সংস্থা। নরওয়েজিয়ান এয়ার এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কোয়ার্টারে নিজ নিজ দেশের হয়ে ধরলেন অভিনব এক বাজি। যে দেশ হারবে তারাই জয়ী দলের লোগো দিয়ে ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করবে।

গত শনিবার মায়ামিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। তাই বাজির অংশ হিসেবে নরওয়েজিয়ান এয়ার তাদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের লোগো দিয়েছে। 

ম্যাচটির আগে দুই এয়ারলাইন্সের মধ্যে মজার এই বাজি ধরা হয়েছিল। যার দেশ হারবে সে ২৪ ঘণ্টার জন্য অন্য দলের এয়ারলাইন্সের লোগো নিজেদের অফিসিয়াল প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করবে। 

এর আগে গত ৮ জুলাই নরওয়েজিয়ান এয়ার প্রথম ইনস্টাগ্রামে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকে এই লোগো পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জটি ছুড়ে দেয়। জবাবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে মন্তব্য করে, ‘এমন কোনো বাজি ধরবেন না যা আপনি জিততে পারবেন না ?’

ম্যাচ শুরুর আগেই উভয় প্রতিষ্ঠানের আইনি দল হিথ্রো এয়ারপোর্টের কাছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের হেডকোয়ার্টারে গিয়ে ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে একে অপরের লোগো ফাইল বিনিময় করে।

এটি কোনো প্রকার ফিফা স্পন্সরশিপের খরচ ছাড়াই এই দুই এয়ারলাইন্সের মধ্যকার রসাত্মক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বাজিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, কান্টাস, সুইস এবং এয়ারবাল্টিকের মতো অন্যান্য বৈশ্বিক এয়ারলাইন্সগুলোও বাজির পোস্টে কমেন্ট করে যোগ দেয় এবং প্রচারণাটিকে ভাইরাল করতে সহায়তা করে। 

বাজি হারার পর নরওয়েজিয়ান এয়ার শুধু লোগোই পরিবর্তন করেনি। পরাজয়কে উদযাপনে রূপ দিতে যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মধ্যকার ফ্লাইট রুটে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে বিমান সংস্থাটি। 

ইংল্যান্ড টেস্ট দলের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হলেন ম্যাককালাম

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ড টেস্ট দলের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হলেন ম্যাককালাম
ছবি : রয়টার্স

ইংল্যান্ড টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। চার বছর দায়িত্ব থাকার পর বরখাস্ত হলেন এই সাবেক নিউজিল্যান্ডের তারকা ওপেনার।  রবিবার (১২ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

ঠিক দুই সপ্তাহ আগেই বেন স্টোকস সবাইকে চমকে দিয়ে টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এবার ম্যাককালামের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যবনিকা ঘটল ইংল্যান্ড ক্রিকেটের বহুল আলোচিত ‘বাজবল’ অধ্যায়ের।

তবে কিউই এই কিংবদন্তি টেস্টের দায়িত্ব হারালেও ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের কোচ হিসেবে নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন।

মূলত সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট দলের টানা ব্যর্থতা এবং মাঠের বাইরের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের জের ধরেই টেস্ট দল থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকরা পুরুষ দলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নিলেও, নিজের পজিশন ধরে রাখছেন ক্রিকেট ডিরেক্টর রব কি।

বিদায়ের পর ম্যাককালাম বলেন, ‘টেস্ট দলকে কোচিং করানো আমি ভীষণ উপভোগ করেছি এবং আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত। অনেক অসাধারণ মুহূর্ত ছিল, আবার কিছু কঠিন সময়ও গেছে। অবশ্যই আমি হতাশ যে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারছি না, তবে আমি এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। এখন আমার পুরো মনোযোগ থাকবে সাদা বলের দলগুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়ার দিকে।’

ইংল্যান্ড শেষ নয়টি টেস্টের মধ্যে সাতটিতেই হেরেছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ হেরেছে ৪-১ ব্যবধানে। পরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার ছিল মরার উপর খাঁড়ার ঘা! নিউজিল্যান্ডের কাছে এই হার ছিল ইংল্যান্ডের ১৪ বছরের মধ্যে ঘরের মাঠে অন্তত তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম পরাজয়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল, স্কালোনি বলছেন—শুধুই একটি ম্যাচ

অনলাইন ডেস্ক
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল, স্কালোনি বলছেন—শুধুই একটি ম্যাচ
ছবি : রয়টার্স

সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পার হওয়ার পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ‘শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ’।

কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সমতাসূচক গোলটি করেন সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনডোয়ে।

কয়েক মিনিট পরই সুইজারল্যান্ডের জন্য বিপর্যয় নেমে আসে। অভিনয় করে ফাউল আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে ব্রিল এমবোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইসরা।

এরপর অতিরিক্ত সময়ের ১১২তম মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ অসাধারণ এক গোলে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা লটারো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটি যোগ করেন।

এবার আর্জেন্টিনার লক্ষ্য আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল, যা উত্তেজনাপূর্ণ এক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচগুলোর ইতিহাস মাঠের নানা উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার পেছনে রয়েছে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ।

১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সেনারা দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করার পর সেগুলো পুনর্দখলে সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছিল ব্রিটেন। তবে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে জয়ের পর স্কালোনি রাজনীতিকে এক পাশে সরিয়ে রাখতে চাইলেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমার বার্তা একটাই এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি।"

তিনি আরো বলেন, "এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং আমরা খুব শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলব। তাদের একজন দুর্দান্ত কোচ আছেন। এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।"

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ৪০ বছর পর।

মেক্সিকো সিটির আজতেকায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। এরপর বিশ্বকাপে দুই দল আরও দুবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৮ সালে টাইব্রেকারে জিতেছিল আর্জেন্টিনা, আর চার বছর পর ২০০২ সালে ইংল্যান্ড প্রতিশোধ নেয়।

স্কালোনি স্বীকার করেছেন, কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে কঠিন ৩-২ ব্যবধানের জয়ের পর সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তার দলকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরো ভালো খেলতে হবে।

স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জিতেছি আমাদের জয়ের প্রবল ইচ্ছার কারণে। আমরা ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিতে চাইনি। এখানে খেলার মানের চেয়ে জয়ের আকাঙ্ক্ষার বিষয়ই বেশি ছিল। আমরা এখন সেমিফাইনালে। ফুটবলে এটি একটি বিশেষ অবস্থান, যেটিকে হয়তো আমরা অনেক সময় স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। কিন্তু এখানে পৌঁছানো মোটেও সহজ নয়। খুশি হওয়ার, সন্তুষ্ট থাকার এবং রোমাঞ্চিত হওয়ার আমাদের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এখন আমরা শেষ পর্যন্ত সর্বশক্তি দিয়ে লড়ব। আমাদের শরীরের শেষ শক্তি আর শেষ ফোঁটা ঘামটুকু দিয়েও আমরা সবকিছু উজাড় করে দেব। যদি আমরা সফল হই, তাহলে দারুণ। আর যদি না-ও পারি, তবু আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব। এ নিয়ে যেন কারো কোনো সন্দেহ না থাকে।’

আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও দলকে বীরোচিত অভিবাদন সুইস সমর্থকদের

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও দলকে বীরোচিত অভিবাদন সুইস সমর্থকদের
ম্যাচের পর সুইস সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নিলেও লড়াকু পারফরম্যান্সের জন্য সুইস সমর্থকদের কাছ থেকে বীরোচিত অভিবাদন পেয়েছে সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। 

৭২ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু কোয়ার্টারে হেরে বিদায় নিতে হলো রেড ক্রসদের। এতে সেমিতে ওঠার স্বপ্নযাত্রা এখানেই থেমে গেল দলটির। খবর রয়টার্স

ইনজুরির কারণে শীর্ষ গোল স্কোরার জোহান মানজাম্বির অনুপস্থিতি এবং ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ডের পরেও দলের এমন লড়াইয়ে ভীষণ গর্বিত সমর্থকরা। 

ম্যাচের পর জেনেভা, নাইওনসহ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন শহরের রাজপথে নেমে হাজার হাজার সমর্থক জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ‘আমাদের হৃদয়ে তোমরাই বিজয়ী’ স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন। 

হতাশা সত্ত্বেও দলের প্রচেষ্টায় গর্বিত ছিলেন সমর্থকরা। খেলা দেখা শেষ করে হাজার হাজার সুইস সমর্থক পতাকা নাড়তে নাড়তে বাড়ি ফিরছিল।

ম্যাচটি যখন শেষ হয় সুইজারল্যান্ডে তখন ভোর। এ সময়  নাইওনে সুইস সমর্থক লরা কে বলেন, ‘আমাদের মনে তোমরাই জিতেছো, সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দশ বনাম এগারো।’

সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বলেন, ‘মুরাত ইয়াকিনের দল পুরো দেশকে মুগ্ধ করেছে।’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে সুইজারল্যান্ডের বিদায়ের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন দলের প্রশংসা করে বলেছেন, আজকের হতাশা সত্ত্বেও আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—দলটি একটি অসাধারণ টুর্নামেন্ট খেলেছে। এই ঐক্যবদ্ধ দলটি পুরো সুইজারল্যান্ডবাসীকে রোমাঞ্চিত করেছে।

শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে না বাংলাদেশ : বিসিবি প্রধান | কালের কণ্ঠ