• ই-পেপার

টেস্ট নয়, সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে পাকিস্তান যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা

ফাইনালের আগে কিংবদন্তি ডি মারিয়ার আবেগঘন বার্তা

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনালের আগে কিংবদন্তি ডি মারিয়ার আবেগঘন বার্তা
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি উইঙ্গার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো দলকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। 

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে ডি মারিয়া লিখেছেন, ‘আমরা আর কিছুই চাইতে পারি না। ফুটবল এবং আর্জেন্টিনার মানুষের জন্য তোমরা যা করেছ, তার জন্য সারা জীবন শুধু কৃতজ্ঞ থাকব। গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে আমরা গৌরব, আবেগ আর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো উপভোগ করছি। আর সবই সম্ভব হয়েছে তোমাদের কারণে।’

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার মাধ্যমে কোচ লিওনেল স্কালোনির দলও একটি বিশেষ কীর্তি গড়েছে। কার্লোস বিলার্দোর পর দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন কোচ হিসেবে স্কালোনি টানা দুইটি বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে তুলেছেন। বিলার্দোর অধীনে আর্জেন্টিনা ১৯৮৬ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে টানা দুইবার ফাইনাল খেলেছিল।

নিজের বার্তায় বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদেরও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ডি মারিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘এটি এমন এক প্রজন্ম, যারা জাতীয় দলের জার্সি পরার মর্যাদা বুঝেছে। বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়ানো চাপের কাছে তারা কখনো মাথা নত করেনি। আমি শুধু বলতে চাই, আরেকটি ফাইনাল উপহার দেওয়ার জন্য এবং আর্জেন্টিনার মানুষের জন্য তোমরা যা করছ, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।’

২০২১ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনা চারটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে এবং প্রতিটিতেই শিরোপা জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ এবং একই বছরের ফিনালিসিমা।

এই সাফল্যগুলোর প্রতিটিতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ডি মারিয়ার। জাতীয় দলের হয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করেছেন, পেনাল্টি আদায় করেছেন এবং শিরোপা জয়ে বড় অবদান রেখেছেন।

২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়াকে হারানোর ম্যাচটিই ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডি মারিয়ার শেষ ম্যাচ। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি দেশের হয়ে সম্ভাব্য সব বড় শিরোপা জিতে বিদায় নেন।

এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আগামী ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল। 
 

ব্যালন ডি’অর নিয়ে বড় সুখবর পেলেন মেসি

ব্যালন ডি’অর নিয়ে বড় সুখবর পেলেন মেসি
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণের আগে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য এলো বড়সড় এক সুখবর। ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিশ্বের সেরা ফুটবলারের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিততে হলে ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলার বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে মার্কিন ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেললেও নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে মেসির সম্ভাবনা পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রয়েছে। 

বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শেষ হতে বাকি আর মাত্র দুটি ম্যাচ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর রবিবারের হাইভোল্টেজ ফাইনালে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মাঠের এই উত্তাপের মধ্যেই ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঠিক এমন সময়ই আয়োজক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে পুরস্কারটি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রচলিত একটি পুরোনো ধারণা পরিষ্কার করেছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, শুরুতে ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলারদেরই দেওয়া হতো। ১৯৯৫ সালে পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক করা হলেও তখনও ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলার শর্ত বহাল ছিল। তবে ২০০৭ সাল থেকে সেই নিয়ম পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খেলা সেরা ফুটবলারকেই এই পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘ইউরোপের বাইরে খেলে কোনো ফুটবলারের ব্যালন ডি’অর জেতা বাস্তবসম্মত কি না, তা বোঝার জন্য আমরা গত ১৮টি আসর বিশ্লেষণ করেছি। ২০০৭ সালে কাকা, ২০০৮ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ২০০৯ সালে লিওনেল মেসি—তিনজনই সে বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন, যেটিকে ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা হিসেবে ধরা হয়। লুকা মদরিচ, করিম বেনজেমা, রদ্রি এবং উসমান দেম্বেলেও যখন ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, তখন সবাই ইউরোপের ক্লাবেই খেলছিলেন।’

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ইতিহাসের মাত্র একজন ফুটবলারই ইউরোপের বাইরে খেলার সময় ব্যালন ডি’অর জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছেন, তিনি হলেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর যখন ৬৭তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হয়, আর্জেন্টাইন মহাতারকা তখন ইতোমধ্যেই ইন্টার মায়ামির জার্সি গায়ে জড়াচ্ছেন। এর মাধ্যমে আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী মেসিই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে এই পুরস্কার জেতার ইতিহাস গড়েন। সবশেষে আয়োজকরা যোগ করেছে, ‘ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কিছুই অসম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে, বিশ্বের যেকোনো ফুটবলারই এই পুরস্কার জিততে পারেন।’

কর্তৃপক্ষের এই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার পর ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার তুঙ্গে উঠে এসেছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই জাদুকর চলমান বিশ্বকাপে রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। আসরে এ পর্যন্ত সাত ম্যাচে করেছেন আটটি চোখধাঁধানো গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও চারটি গোল। তার জাদুকরী নেতৃত্বেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আলবিসেলেস্তেরা। এখন ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে পারলেই নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবেন আটবারের এই বিশ্বসেরা পুরস্কারজয়ী ফুটবলার। 
 

সাকিব-তাসকিনের দলের মালিক গ্রেপ্তার

ক্রীড়া ডেস্ক
সাকিব-তাসকিনের দলের মালিক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড়সড় এক ধাক্কা খেল লঙ্কান ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট। ম্যাচ ফিক্সিং বা ম্যাচ পাতানোর মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এলপিএল-এর দল জাফনা কিংসের অন্যতম মালিককে। শ্রীলঙ্কা পুলিশের ক্রীড়া বিষয়ক অপরাধ প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিশেষ তদন্ত বিভাগ (এসআইইউ) এই অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নিয়েছে। 

পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ২০২৬ লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের জমকালো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জাফনা কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিকদের একজন বলে জানা গেছে। ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি ও ম্যাচ পাতানোর চলমান একটি তদন্তের অংশ হিসেবেই তাকে আটক করা হয়।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমনে শ্রীলঙ্কার আইন বিশ্বের অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে পরিচিত। দেশটির ‘ক্রীড়া সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ আইন’-এর আওতায় ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং কিংবা যেকোনো ধরনের অবৈধ কারসাজি করা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। এই আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধীকে চড়া জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির বিষয়ে আরো গভীর তদন্ত চলছে এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। 

ফাইনাল জিতলে এবার ট্রফি-মেডেলের পাশাপাশি মিলবে ‘চ্যাম্পিয়নস রিং’

অনলাইন ডেস্ক
ফাইনাল জিতলে এবার ট্রফি-মেডেলের পাশাপাশি মিলবে ‘চ্যাম্পিয়নস রিং’

এবারের বিশ্বকাপ থেকে ট্রফি ও মেডেলের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন দল পাচ্ছে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’। ফিফা প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ঐতিহ্যবাহী আমেরিকান সংস্কৃতির প্রচলন করেছে। ট্রফি আর স্বর্ণপদকের পাশাপাশি এবার থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক সদস্য পাবেন পারসোনালাইজড বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নস রিং’ বা আংটি।

আগামী রবিবার আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনালের বিজয়ীরাই প্রথম এ অনন্য উপহারের মালিক হবেন।

উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় খেলাধুলা। যেমন—এনবিএ, এনএফএল এবং এমএলবি চ্যাম্পিয়নদের আংটি দেওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সেই আমেরিকান সংস্কৃতির আদলে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার ফুটবল বিশ্বেও এই আভিজাত্য যুক্ত করছে ফিফা।

জানা গেছে, ট্রফি এবং পদক দেওয়ার পর বিজয়ীদের আঙুলেই পরিয়ে দেওয়া হবে এই বিশেষ রিং।

ফিফা জানিয়েছে, এই রিংয়ের মোট ২,০২৬টি ইউনিট তৈরি করা হবে। এর মধ্যে মাত্র ৩০টি আংটি পাবেন চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা। বাকি ১,৯৯৬টি আংটি অফিসিয়াল লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য হিসেবে সারা বিশ্বের ফুটবল ভক্তরা কিনতে পারবেন। আংটির একদিকে থাকবে ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফির নকশা এবং অন্য পাশে থাকবে বিজয়ী দলের লোগো। প্রতিটি আংটির সঙ্গে একটি সত্যতা যাচাইয়ের সনদ বা ‘সার্টিফিকেট অব অথেন্টিসিটি’ দেওয়া হবে।

ফাইনাল ম্যাচের পর অধিনায়ক ও কোচের হাতে প্রতীকী আংটি তুলে দেওয়া হবে, পরে কাস্টমাইজ করা মূল ৩০টি আংটি খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের এই ফাইনাল ম্যাচটি এমনিতেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, এই প্রথম দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন (কোপা আমেরিকা) এবং ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন (ইউরো) কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে।

টেস্ট নয়, সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে পাকিস্তান যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা | কালের কণ্ঠ