ইংল্যান্ডের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান এখন পর্যন্ত বেশ ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটি মূলত এমন সব প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে, যারা রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলেছে এবং নেতিবাচক কৌশলে যেকোনোভাবে ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে।
তবে আমার বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক হয়েছে। কারণ এখন থেকে যেসব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই বাধ্য হবে। মেক্সিকো ম্যাচটি এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তারা দারুণ খেলেছে, কিন্তু নিজেদের ভুলের মূল্যও দিয়েছে।
প্রতিপক্ষের নেতিবাচক ফুটবলে লাভবান ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের আগ পর্যন্ত আমার মনে হয়নি, ইংল্যান্ড তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেখাতে পেরেছে। পরিস্থিতির দাবি মেনে দলটিকে ভিন্ন ধরনের ফুটবল খেলতে হয়েছে। তাই তাদের পারফরম্যান্স ছিল কিছুটা বিচ্ছিন্ন, মুহূর্তভিত্তিক। হয়তো সেই ফুটবল সব সময় দর্শকদের চোখে নান্দনিক লাগেনি।
কিন্তু বড় টুর্নামেন্টে শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই সাফল্য আসে না। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেভাবেই হোক জয়ের পথ খুঁজে নেওয়া। মেক্সিকো অবশ্যই ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে এবং দুর্দান্ত লড়াই করেছে। তাদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসও ছিল অসাধারণ। এর সঙ্গে ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতার মাঠে খেলার সুবিধা এবং স্বাগতিক দর্শকদের পূর্ণ সমর্থন।
তার পরও আমার কাছে মনে হয়েছে, ইংল্যান্ডের রক্ষণ ছিল দারুণ সুশৃঙ্খল আর আক্রমণে তারা ছিল নিখুঁত ও কার্যকর। প্রায় ৪০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলা যে কতটা কঠিন, তা সবাই জানে। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলটি যে সাহস, ঐক্য এবং লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। তবে একে শুধু একটি জয় হিসেবেই দেখতে হবে। এখন সামনে কোয়ার্টার ফাইনাল। তাই বিনয়ী থাকতে হবে, মনোযোগ ধরে রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না।
ইংল্যান্ড দলে যেমন কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তেমনি বেশ কিছু বড় শক্তির জায়গাও আছে। হ্যারি কেইন অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত এবং বিশ্বমানের একজন ফুটবলার। আর জুড বেলিংহাম এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। এই বিশ্বকাপেও তিনি সেটির প্রমাণ দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে তিনি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ম্যাচজয়ীদের একজন। আমি আগেও বলেছি, ইংল্যান্ড হয়তো এখন পর্যন্ত চোখ-ধাঁধানো ফুটবল খেলেনি, কিন্তু তারা ধারাবাহিকভাবে জয়ের পথ বের করেছে; আর বড় টুর্নামেন্টে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মেক্সিকোকে হারানোর ম্যাচটিই ইংল্যান্ডের সত্যিকারের টার্নিং পয়েন্ট। তবে সামনে আরো বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ নরওয়ে। সেখানে আর্লিং হালান্ডের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। সে দুর্দান্ত একজন ফিনিশার এবং শারীরিক সক্ষমতায় অনন্য।




