• ই-পেপার

ট্রেনে ঢিল ছোড়া প্রতিরোধে শ্রীমঙ্গলে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক প্রচার

বেতাগীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বেতাগীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ
সংগৃহীত ছবি

‘সবুজে সুন্দর আগামী’ গড়ার প্রত্যয়ে বরগুনার বেতাগী উপজেলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় চত্বরে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং দেশব্যাপী সবুজায়ন সম্প্রসারণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনের উৎস নয়; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার নিয়মিত পরিচর্যা করা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেতাগী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল ইসলাম পান্না। তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের মতো সংগঠনের এমন উদ্যোগ দেশব্যাপী সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরো বেগবান করবে।

বিশেষ অতিথি বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জাকির হোসাইন বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, চারা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নেছার উদ্দিন খান, মো. জলিলুর রহমান খন্দকার, বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ সিকদার, বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যাপক মো. সেকান্দার আলী মৃধা এবং মো. ওয়াদুদ মিয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতাগী প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও বসুন্ধরা শুভসংঘ বেতাগী উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ কামাল হোসেন খান। সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি স্বপন কুমার ঢালী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক মনোয়ারা বেগম, সহকারী শিক্ষক মো. আল আমিন, বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মো. ওমর ফারুক, মো. আল মামুন, সাবিনা ইয়াসমিন, আয়শা সিদ্দিকা, কমলেশ চন্দ্র শীল, মিতা রানী সরকার, মৃণাল কান্তি শীল, বশির আহমেদ, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর আব্দুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শুভসংঘের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতেই বসুন্ধরা শুভসংঘ নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

আমতলী

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

মো. আল আমিন (বাবু), আমতলী বরগুনা
বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

বরগুনার আমতলীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চাওড়া চন্দ্রা গ্রামের জলহল কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। 

এ সময় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, ভাঙা পাত্রসহ যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা আরো বলেন, জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা কিংবা ত্বকে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন না করার আহ্বানও জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম, জাকির হোসেন মৃধা, রফিকুল ইসলাম, আমিন উদ্দিন, আনোয়ার সিকদার, সোনা মিয়া, দুলাল সিকদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মো. আল আমিন বাবু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ, আমতলী উপজেলা শাখার সদস্য নাজমুল আহসান, নয়ন দাস, নাইমুর রহমান নাইম, বায়েজিদ তালুকদার ও গাজী নাসির।

আলোচনা সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। 

সভা শেষে উপস্থিত সবাই ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেন।

কালীগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের দিনব্যাপী নানা আয়োজন

বৃক্ষরোপণ, কুইজ, বয়ঃসন্ধিকাল সচেতনতা ও পুরস্কার বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক
কালীগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের দিনব্যাপী নানা আয়োজন

পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রবিবার (১৯ জুলাই) দিনব্যাপী নানা আয়োজন সম্পন্ন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ কালীগঞ্জ উপজেলা শাখা। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কুইজ প্রতিযোগিতা, বয়ঃসন্ধিকাল বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা এবং পুরস্কার ও উপহার সামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার হাড়িশ্বহর আদর্শ দাখিল মাদরাসায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা, কালীগঞ্জ উত্তর বাংলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ্ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিসবাহুল হুদা মহিলা মাদরাসা, কাকিনার পরিচালক মাহাদী হাসান, হাড়িশ্বহর আদর্শ দাখিল মাদরাসার সুপার মোজাহেরুল ইসলাম এবং সহকারী সুপার জসিম উদ্দিন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন–বসুন্ধরা শুভসংঘ কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতি বখতিয়ার খলজি, সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিনুর ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ হাসান, দপ্তর সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান, নারী বিষয়ক সম্পাদক মোছা. জেসমিন আক্তার, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিনসহ উপজেলা শাখার অন্যান্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সাধারণ জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দেয়।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন মোছা. সাদিয়া আক্তার, দ্বিতীয় স্থান নুসরাত জাহান লামিয়া, তৃতীয় স্থান মোছা. জাকিয়া সুলতানা, চতুর্থ স্থান সাহারুল ইসলাম এবং পঞ্চম স্থান মো. কামরুল ইসলাম।

এরপর নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীদের নিয়ে বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বয়ঃসন্ধিকাল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময় সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা থাকলে কিশোরীরা সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও নিরাপদভাবে নিজেদের বিকশিত করতে পারে। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী ও উপহার বিতরণ করা হয়।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পরিবেশবান্ধব জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় অতিথিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেক মানুষকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া উচিত।

সবশেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, নিয়মিত পড়াশোনা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এ ব্যতিক্রমী আয়োজন শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও ইতিবাচক সাড়া ফেলে।

লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার বন্যার্ত মানুষের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

শতাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার বন্যার্ত মানুষের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

আকস্মিক বন্যার পানি কিছুটা কমলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ। প্রকৃতির নির্মম আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বহু মানুষের স্বপ্ন আর স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। কোথাও বসতঘর তলিয়ে গেছে পানির নিচে, কোথাও ভেসে গেছে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। অনেক পরিবার এখনো দিন কাটাচ্ছে অনিশ্চয়তা আর সংকটের মধ্যে। বন্যার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, কর্মহীনতা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এমন দুর্যোগময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

মানবতার সেবায় নিরলস কাজ করে যাওয়া সংগঠনটি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।

শনিবার ও রবিবার (১৮ ও ১৯ জুলাই) দুই দিনব্যাপী এ মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল–চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, লবণ, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। প্রতিটি পরিবারের হাতে এসব ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়ে তাদের দুর্দিনে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকেরা। বন্যার ভয়াবহতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সংগ্রামরত মানুষের জন্য এই সহায়তা ছিল অনেকটাই স্বস্তির।

ত্রাণ বিতরণের সময় সাতকানিয়া বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জাভেদ বলেন, ‘সাতকানিয়ার এমন অনেক ইউনিয়ন রয়েছে, যেখানে শত শত বাড়িঘর পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও তাদের দুর্ভোগ কমেনি। অনেকের ঘরে এখনো চুলা জ্বলেনি, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে তারা চরম কষ্টে দিন পার করছেন। এমন অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যতম অঙ্গীকার। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও যেকোনো মানবিক সংকটে বসুন্ধরা শুভসংঘ অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে থাকবে।’

স্থানীয়রা জানান, বন্যার কারণে অনেক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। এমন সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের ত্রাণ সহায়তা তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তারা এই মানবিক উদ্যোগের জন্য সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।