• ই-পেপার

বসুন্ধরা গ্রুপের কম্বল পেয়ে খুশি শীতার্তরা

রূপগঞ্জে এতিম শিশুদের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের মধ্যাহ্নভোজ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
রূপগঞ্জে এতিম শিশুদের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের মধ্যাহ্নভোজ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এতিম শিশুদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ রূপগঞ্জ থানা শাখা। গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর রূপগঞ্জের একটি এতিমখানায় আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে শুভসংঘের সদস্যরা এতিম শিশুদের সঙ্গে একই কাতারে বসে খাবার গ্রহণ করেন।

পাশাপাশি তাদের খোঁজখবর নেন, সময় কাটান এবং তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন সদস্যরা। এ আয়োজনে এতিমখানার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্বের অংশ। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া এবং আপন করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মিলটনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মো. আহসানুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রিমন রহমানের নেতৃত্বে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়।

এ সময় আবদুল হান্নান মিলটন বলেন, ‘এতিম শিশুদের মুখের হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে একটি মানবিক, সহমর্মিতাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। শুভসংঘ সেই মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতেই ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মো. আহসানুল হক বলেন, ‘আমরা চাই এতিম শিশুরা যেন কখনো নিজেদের একা মনে না করে। তাদের পাশে সমাজের মানুষ রয়েছে—এই অনুভূতি তৈরি করাই আমাদের এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ থানা শাখার সহসভাপতি ইয়াছিন মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক লিনা, সাংগঠনিক সম্পাদক আশ্রাফুল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওহিদ, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক সাগরিকা, সদস্য আব্দুলসহ বসুন্ধরা শুভসংঘ রূপগঞ্জ থানা শাখার অন্য সদস্যরা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন এতিমখানার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শারীরিক প্রতিবন্ধী তুহিনের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
শারীরিক প্রতিবন্ধী তুহিনের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ
ছবি: কালের কণ্ঠ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি, কিন্তু দারিদ্র্য বারবার পথ আটকে দাঁড়িয়েছে। সংসারের হাল ধরতে চাইলেও পুঁজির অভাবে ছোট্ট একটি দোকানও করতে পারছিলেন না জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক তুহিন দেওয়ান। অবশেষে তার সেই স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

বসুন্ধরা শুভসংঘের আক্কেলপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে  তুহিন দেওয়ানের জন্য মুদি দোকানের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী কিনে দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্য দিয়ে তিনি নিজের বাড়িতেই একটি ছোট দোকান পরিচালনা শুরু করবেন। এতে তার পরিবারের আয় রোজগারের নতুন একটি পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তুহিনের পক্ষে ভারী বা নিয়মিত শ্রমের কাজ করা সম্ভব হয়নি। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি কখনো ভিক্ষার পথ বেছে নেননি। নিজের পরিশ্রমে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার ইচ্ছা থেকেই একটি দোকান করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছিল না।

তুহিন দেওয়ান বলেন, একটি দোকান করার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পুঁজি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন দোকান চালিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে পারব বলে বিশ্বাস করছি। এই সহযোগিতা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ আক্কেলপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাদমান হাফিজ শুভ জানান, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলাই শুভসংঘের অন্যতম লক্ষ্য। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তুহিন দেওয়ানের জন্য ব্যবসার প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কাউকে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার চেয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। তুহিনের মতো একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের হাতে ব্যবসার পুঁজি তুলে দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মাদারীপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সাহিত্য পাঠচক্র

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মাদারীপুর
মাদারীপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সাহিত্য পাঠচক্র

তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, সাহিত্যচর্চার পরিবেশ সৃষ্টি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে মাদারীপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাণবন্ত সাহিত্য বিষয়ক পাঠচক্র। বইয়ের গুরুত্ব, পাঠাভ্যাসের প্রয়োজনীয়তা এবং মুক্তচিন্তার বিকাশ নিয়ে আলোচনা, সাহিত্য পাঠ ও মতবিনিময়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুরের এম. এম. হাফিজ মেমোরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত এই পাঠচক্রে শিক্ষার্থী, সাহিত্যপ্রেমী তরুণ, লেখক, কবি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা অংশ নেন।

জানা গেছে, পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচিত বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম পাঠ ও উপস্থাপনের পাশাপাশি সেগুলোর ভাব, ভাষা, সাহিত্যমান এবং সমাজ-বাস্তবতার নানা দিক নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। পাঠচক্রে বইপাঠের গুরুত্ব ও সাহিত্যচর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, যুক্তিনির্ভর আলোচনা এবং বইকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, শিক্ষণীয়।

কবি ও সাহিত্য বিশারদ মিলন সব্যসাচী বলেন, একটি ভালো বই কেবল জ্ঞানের দুয়ারই উন্মোচন করে না, মানুষের মনন, রুচি ও মানবিক বোধকেও সমৃদ্ধ করে। তরুণদের বইমুখী করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

শিক্ষক ও সাহিত্য গবেষক মাসুদ সুমন বলেন, বই শুধু জ্ঞানের ভাণ্ডার নয়, এটি মানুষের চিন্তা, মনন ও মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ধরনের সুন্দর ও সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

বসুন্ধরা শুভসংঘ মাদারীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের জাহিদ বলেন, একটি ভালো বই একজন মানুষের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। বই উপহার ও পাঠচক্রের মতো উদ্যোগ তরুণদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে এবং সাহিত্যপ্রেমী হিসেবে বিকশিত হতে উৎসাহিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তাই বইপাঠকে জনপ্রিয় করতে নিয়মিত এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও সাংবাদিক সুবল বিশ্বাস বলেন, বই মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। একটি পাঠকসমাজই পারে একটি আলোকিত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে। তরুণদের মধ্যে মুক্তচিন্তা, যুক্তিবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরিতে পাঠচক্র অত্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ।নিয়মিত এমন আয়োজন তরুণদের ইতিবাচক চিন্তা, জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন–বসুন্ধরা শুভসংঘ মাদারীপুর শাখার উপদেষ্টা ও কবি- ইতিহাস গবেষক সাংবাদিক সুবল বিশ্বাস, শিক্ষক ও সাহিত্য গবেষক মাসুদ সুমন, কবি ও সাহিত্য বিশারদ মিলন সব্যসাচী, শিক্ষক ও বাচিক শিল্পী শাহ আবুল খায়ের, শিক্ষক ও নাট্যকর্মী মো. মাহবুব  আলম, সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের জাহিদ, সহসভাপতি রাহাত তালুকদার, সদস্য দিদার মোল্লাসহ সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী, সাহিত্যপ্রেমী তরুণ, লেখক, কবি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।

আলীকদমে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই প্রশিক্ষণ শুরু

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
আলীকদমে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই প্রশিক্ষণ শুরু
সংগৃহীত ছবি

‎বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের আলীকদম উপজেলা শাখার উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

‎শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১ ঘটিকার সময় আলীকদম উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ প্রশিক্ষণে পার্বত্য অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নারীসহ ২০ জন অসচ্ছল নারী অংশগ্রহণ করেছেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ কর্তৃক আলীকদম উপজেলায় সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ আলীকদম উপজেলা কমিটির সভাপতি এসএম জিয়াউদ্দিন জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান রানার সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম।

‎বিশেষ অতিথি ছিলেন লামা উপজেলার বসুন্ধরা শুভসংঘ কমিটির উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠ লামা-আলীকদম প্রতিনিধি মো. তানফিজুর রহমান, লামা কমিটির উপদেষ্টা ও দ্যা ডেইলি সান পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. সাহাব উদ্দিন,বসুন্ধরা শুভ সংঘ আলীকদম উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা নুরুছাফা ভূইয়া বাবু,আলীকদম উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘ কমিটির উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কন্ঠ মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাসহ বসুন্ধরা শুভসংঘ সদস্য মো.আয়াউতুল্লাহ, মো.আরাফাত ইসলামসহ ২০-৩০ জন উপস্থিত ছিলেন।

‎সভায় বক্তারা বলেন, এই প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর প্রশিক্ষণার্থীরা স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যমে নিজ পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

‎সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া জান্নাতুল মাওয়া তিশা, উপাইনু মার্মা ও শ্যামলী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘আমরা যদি প্রশিক্ষণ শেষে একটি একটি করে সেলাই মেশিন পেলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে নিজের এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’

বসুন্ধরা গ্রুপের কম্বল পেয়ে খুশি শীতার্তরা | কালের কণ্ঠ