• ই-পেপার

সালেক খোকনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নতুন বই ‘১৯৭১: রণাঙ্গনের লড়াই’

যে সুরে বাঁধা এই শহর

উদয় রহমানের গল্প ‘সুর’ নিয়ে একটি ব্যক্তিগত পাঠ-প্রতিক্রিয়া

মাহফুজ নাজিম মাপেল
যে সুরে বাঁধা এই শহর
সংগৃহীত ছবি

উদয় রহমানের ‘সুর’ গল্পটা পড়া শেষ করে হাত থেকে ফোনটা পকেটে রেখে আমি কিছুক্ষণ বসে ছিলাম। কোনো কারণ ছাড়াই কানটা খাড়া করে রেখেছিলাম, যেন ঘরের ভেতরের নিঃশব্দতাটাও এখন একটা শোনার মতো জিনিস হয়ে উঠেছে। পেশায় আমি চিত্রনির্মাতা, নির্মাণোত্তর কাজে একটা বড় অংশ কাটে শব্দ নিয়েই। শব্দ বিন্যাসের যন্ত্রের সামনে না বসলেও প্রতিটা দৃশ্যের পেছনে কোন শব্দ থাকবে, কোনটা থাকবে না এই হিসাব করতে করতেই আমার পেশাগত জীবন কেটেছে। তাই গল্পটার কেন্দ্রীয় প্রশ্নটা আমাকে অন্যভাবে আঘাত করেছে। এই যে আমরা সারাদিন যা শুনি তার একটা মূল্য আছে কি না, তার একটা দায় আছে কি না, নির্মাতা হিসেবে এই প্রশ্নটা আমার এড়ানোর কথা না, তবু কোথাও যেন এড়িয়েই যাচ্ছিলাম।

গল্পের ওস্তাদ চরিত্রটা বলেন, ‘চারশো বত্রিশ হার্টজ থেকে চারশো চল্লিশে সরে যাওয়াটা নাকি নেহাত কারিগরি সিদ্ধান্ত না। কথাটা প্রথমবার পড়ে মনে হয়েছিল, এ তো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের চেনা ছক, নেট ঘাঁটলেই এমন শত গল্প মেলে। কিন্তু গল্পটা আসলে ওই তথ্যের সত্যতা নিয়ে জেদ করে না। ওস্তাদ নিজেই বলেন, ‘সব বিশ্বাস কইরেন না, সব অবিশ্বাসও কইরেন না। গল্পের আসল জোরটা লুকানো ওই দ্বিধার মধ্যেই। প্রশ্নটা তথ্য নিয়ে না, অনুভূতি নিয়ে। আমরা কি টের পাই, কোন শব্দ আমাদের ভেতরে প্রশান্তি রেখে যায় আর কোনটা রেখে যায় শুধু একটা অকারণ তাড়া?

এই প্রশ্নটা আমার পেশার সাথে বড় নির্মমভাবে মিলে যায়। বিজ্ঞাপনের কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই শুনি, ‘হুকটা আরেকটু জোরে দেন, প্রথম তিন সেকেন্ডে থাম্ব থামাইতে হবে।’ আমরা যারা দৃশ্য আর শব্দ নিয়ে কাজ করি, আমাদের কাজের একটা অংশ আসলে মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার কারিগরি। কেউ বলবে না সরাসরি যে ‘মানুষকে অস্থির রাখো,’ কিন্তু ফলাফলটা প্রায় সেরকমই দাঁড়ায়। একটা কনটেন্ট শেষ হতে না হতেই পরেরটার জন্য তাড়া। ‘সুর’ গল্পটা আমাকে একটা আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিলো, যেটাতে নিজের পেশাগত অভ্যাসগুলো হঠাৎ অচেনা লাগতে শুরু করলো।

ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা পড়ার পরদিন আমি নিজের কানের দিকে একটু বেশিই মনোযোগ দিলাম। হর্ন, লাউডস্পিকারে চলা বিজ্ঞাপন, একটা রিকশার বেসুরা বেল, দোকানের ভেতর থেকে ভেসে আসা তিনটা আলাদা গান, একটা মোবাইলের রিংটোন আরেকটার ওপর, এই সব মিলিয়ে যে জগাখিচুড়ি শব্দস্তর সেটা আমরা এতটাই গা-সহা করে ফেলেছি যে আলাদা করে খেয়াল করাই বন্ধ করে দিয়েছি। গল্পের সুরাইয়া চরিত্রটার একটা সংলাপ মনে পড়ে বারবার, মানুষ মুখে কী ঢোকায় দশবার ভাবে কিন্তু কানে সারাদিন যা আসে তার হিসাব রাখে না। কথাটা রূপক না বরং প্রায় আক্ষরিক সত্যি মনে হলো আমার কাছে।

তবে গল্পটাকে আমি নিছক নগর-সমালোচনা হিসেবে পড়িনি। এর সবচেয়ে সাহসী অংশটা বোধহয় এইখানে যে, শব্দকে নিছক পদার্থবিজ্ঞানের কম্পাঙ্ক না রেখে গল্পটা সরাসরি আধ্যাত্মিকতার ভাষায় নিয়ে যায়, আর সেই ঝুঁকিটা নিতে দ্বিধা করে না। ওস্তাদ চরিত্রটা যখন বলেন আজানের শব্দ বুকের ভেতরের একটা রগ জাগিয়ে দেয়, সুরা ফাতিহা প্রতি নামাজে পড়ানো হয় যাতে বিপদের দিনে মাথা কাজ না করলেও শব্দটা নিজে থেকে বেরিয়ে আসে, নবজাতকের কানে প্রথম শব্দ হিসেবে আজান দেওয়া হয় যাতে তার "টিউনিং" শুরু হয় জন্মের প্রথম মুহূর্তেই। এই কথাগুলো আমার কাছে নিছক ধর্মীয় অনুষঙ্গ মনে হয়নি বরং মনে হয়েছে একটা স্থাপত্যের বর্ণনা, যেন শরীরের ভেতরে সত্যিই একটা নকশা করা আছে, আর শব্দ সেই নকশার চাবি।

গল্পের সবচেয়ে অস্বস্তিকর অংশটা হয়তো হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার প্রসঙ্গ। ওস্তাদ যখন বলেন ইঁদুরের জন্য এক সুর, মানুষের জন্য আরেক সুর, একই বাঁশি দিয়ে দুই রকম ডাকা যায় তখন গল্পটা হঠাৎ আর নিছক প্রশান্তির কথা বলে না, ক্ষমতার কথা বলে। যে শব্দ সারাতে পারে, সেই শব্দই কাউকে ডেকে নিয়ে যেতে পারে, ফেরত না এনে। এই দ্বিমুখিতা শব্দের ওষুধ আর শব্দের ফাঁদ একই উৎস থেকে আসা, বোধহয় গল্পের আধ্যাত্মিক দর্শনের মূল স্তম্ভ। পবিত্রতা আর বিপদ যেন একই কম্পনের দুই পিঠ, আর গল্পটা এই দুইয়ের মধ্যে দাগ টেনে দেয় না, দিতে চায়ও না।

সবচেয়ে বড় বাঁকটা আসে যখন ওস্তাদ কোরানের সৃষ্টিতত্ত্বের কথা বলেন, ‘কুন ফায়াকুন’, হও আর হয়ে গেল এবং ইস্রাফিলের শিঙা, যিনি সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে অনন্তকাল ধরে এক ফুঁয়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। প্রথম শব্দ দিয়ে শুরু, শেষ শব্দের অপেক্ষায় সমাপ্তি, আর মাঝখানের পুরো অস্তিত্বটাই যেন দুই নোটের মধ্যেকার একটা দীর্ঘ সুর। এই কথাগুলো বিজ্ঞান না, প্রমাণযোগ্য কোনো দাবি না কিন্তু একটা কাব্যিক সত্য বহন করে যা আমি উপেক্ষা করতে পারিনি। গল্পটা এই জায়গায় এসে বিজ্ঞান আর বিশ্বাসের মধ্যেকার সীমানাটা ইচ্ছাকৃতভাবেই ঝাপসা করে দেয়, আর পাঠক হিসেবে আমার কাছে সেই ঝাপসা হয়ে যাওয়াটাই বরং স্বস্তির মনে হয়েছে। সবকিছু মেপে ফেলার দরকার নেই, কিছু জিনিস শুধু অনুভব করার জন্যই রাখা থাকে।

গল্পটা শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান দেয় না, আর সেটাই বোধহয় এর সবচেয়ে সৎ জায়গা। ওস্তাদ অদৃশ্য হয়ে যান, রহস্যটা রহস্যই থেকে যায় আর কথক ঠিক করে ফেলেন যে তিনি অন্তত নিজের ঘরে একটা ছোট নিয়ম মেনে চলবেন, রাত বারোটার পর গান না বাজানো। একটা ব্যক্তিগত সীমানা, বিশাল কোনো দর্শনের ঘোষণা না। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে। আমরা হয়তো প্রমাণ করতে পারব না চারশো বত্রিশ বনাম চারশো চল্লিশের বিতর্কে কে ঠিক, কিন্তু প্রতিদিন নিজের কানে কী ঢালছি, সেই প্রশ্নটা তোলা কারো এখতিয়ারের বাইরে না।

লেখা শেষ করার আগে একটা স্বীকারোক্তি না দিলেই না। আজ রাতে, এই লেখাটা লিখতে লিখতে আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম বারোটা পার হয়ে গেছে। ঘরে কোনো গান বাজছে না, শুধু কি-বোর্ডের শব্দ আর জানালার বাইরে একটা কুকুরের ডাক, বহুদূর থেকে। আশ্চর্যের কথা, নিস্তব্ধতাটা এই মুহূর্তে খারাপ লাগছে না।

কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ

অনলাইন ডেস্ক
কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ

দ্রোহ, প্রেম, প্রকৃতি ও প্রার্থনার কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ শুক্রবার। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাক্ষণবাড়িয়ার মৌরাইলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মারা যান এ কবি।

ষাটের দশকে ‘লোক লোকান্তর' ও ‘কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘সোনালী কাবিন' তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির কবিদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করে। ভাটি বাংলার নদী, চরাঞ্চলের জীবন, গ্রামীণ প্রেম-বিরহ, লোকজ সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক ভাষার সৃজনশীল ব্যবহারে তার কবিতা পেয়েছে স্বতন্ত্র শিল্পরূপ।

শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন কবি। তার উলে্লখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পানকেৌড়ির রক্ত', ‘কবি ও কোলাহল' এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কাবিলের বোন'।

‎বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।

‎‎জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদ ‎তিন দিনব্যাপী স্মরণোত্সবের আয়োজন করেছে।

শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী আবদুস সাদেক

ফরিদুর রেজা সাগর

অনলাইন ডেস্ক
শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী আবদুস সাদেক

আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে বইমেলায় বের হতো একুশের সংকলন। এসব সংকলন বের করত মূলত স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা। নানান রকম সংকলন। সংকলনে বিভিন্ন ধরনের লেখা থাকত। দেশপ্রেম, একুশ, স্বাধীনতা এরকম বিষয় নিয়েই বেশি লেখা থাকত। এসব সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি সকালবেলা আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিলি করতে চেষ্টা করতাম। এই সংকলনের নির্দিষ্ট কোনো দাম ছিল না। যে যা পারে সেটাই দিতেন। সংকলনগুলো প্রকাশের জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন হতো। আর এই টাকা সংগ্রহের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপনের জন্য যেতাম। তখন এসব সংকলন বা একুশের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো একটা বরাদ্দ রাখত।

বিজ্ঞাপন সংগ্রহের সূত্র ধরেই আমার সঙ্গে জনাব আবদুস সাদেকের পরিচয়। আমাদের স্কুলবন্ধু হাবিবুর রহমান বাবলুর মামা হতেন। তিনি তখন একটা বড় কোম্পানির প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিস ছিল বগুড়ায়। গুলিস্তানে ছিল তাদের সাব অফিস। সাদেক সাহেব বসতেন গুলিস্তান অফিসে। আমি বগুড়াতেও গিয়েছি। ঢাকার অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে প্রথম আলাপ হলো। দেখেই আমি তাকে চিনে ফেললাম। কারণ পত্রিকায় মাঝেমধ্যে তার ছবি দেখতাম। তিনি যে চেয়ারে বসতেন ঠিক তার পেছনেই একটি ছবি ছিল তিনি হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম বাবলুর এই মামা কোনো সাধারণ একজন মানুষ নন।

তিনি যদিও এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সঙ্গে তিনি আমাদের হকির জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়। হকি দলের অধিনায়কও ছিলেন। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে সাদেক মামার মতো একজন সজ্জন ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের জানাশোনা ছিল। তিনি আমাদের এই একুশের সংকলনে পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন দিয়ে সাহায্য করতেন। আবার কখনো কখনো ব্যক্তিগতভাবেও তার সাহায্য পেয়েছি। তিনি যেমন খেলোয়াড় ছিলেন তেমনি ছিলেন শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী।

সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা ছিল বলেই আমরা যখনই তার কাছে যেতাম তিনি আমাদের নিরাশ করতেন না। বাবলুকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম মামার কাছে। মাঝেমধ্যে তিনি আমাদের ‘খাবার দাবার’ দোকানে আসতেন। আমাকে স্নেহ করতেন। তার সঙ্গে তখন আসতেন প্রতাপ শংকর হাজরা, রফিকুল ইসলাম কামালসহ আরও অনেকেই। আমরা জুনিয়র হওয়ার সুবাদে আদর করতেন। তারা আমাদের খেলাধুলার প্রতি জোর দিতে বলতেন। খেলাধুলা করলে শরীর ঠিক থাকে সেটাও বলতেন। সাদেক মামা লেখাপড়া করতেন আরমানিটোলা স্কুলে। তারপর তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। আমরা যে স্কুলে পড়তাম সেই স্কুলে মনির হোসেন নামে একজন শিক্ষক ছিলেন। মনির স্যারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আসতেন বিখ্যাত রেফারি ননী বসাক। তিনি প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা শবনমের বাবা। ননী বসাক এবং মনির হোসেন স্যার খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ধীরে ধীরে বাবলুর সম্পর্কটাই আমার সঙ্গে গড়ে উঠল।

আমিও আবদুস সাদেক সাহেবকে মামা ডাকা শুরু করলাম। নানান সময়ে নানান কাজে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। এর কারণ ছিল আমাদের খাবার দাবার পিঠাঘর যেহেতু গুলিস্তানে ছিল সেই সুবাদে সাদেক মামার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো আমার। খুব হাসিখুশি মানুষ ছিলেন তিনি। দেখা হলেই বলতেন স্বাস্থ্যটা ঠিক রাখো খেলাধুলা কর। বাংলাদেশে হকি স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ঢাকা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে গুলিস্তান এলাকাতে। হকি স্টেডিয়াম কিংবা হকির যে উন্নয়ন হয়েছিল তার কৃতিত্বের দাবিদারদের অন্যতম ছিলেন সাদেক মামা অর্থাৎ আবদুস সাদেক। ২০ জুন তার চলে যাওয়ার সংবাদে মনটা ভীষণ ভারী হয়ে গেল। চোখ ছলছল করে উঠল আর চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই পুরোনো স্মৃতি। মামার অফিসকক্ষ, হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবি। সাদেক মামা আপনার এই চলে যাওয়ায় আমরা ব্যথিত। দেশ একজন দক্ষ সংগঠক ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে হারাল। আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

লেখক : মিডিয়াব্যক্তিত্ব

ভিক্টর হুগোর ‘ওডস এট বেলাডেস’ উদযাপনে ঢাকায় বিশেষ আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক
ভিক্টর হুগোর ‘ওডস এট বেলাডেস’ উদযাপনে ঢাকায় বিশেষ আয়োজন
সংগৃহীত ছবি

ফরাসি সাহিত্যের অন্যতম কবি ও ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগোর ‘ওডস এট বেলাডেস’ কাব্যগ্রন্থের দুইশ বছর উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ কবিতা ও সংগীত আলেখ্য ‘বেলাড ফর লিওপলডাইন হুগো : ভিক্টর হুগো থ্রু বেঙ্গলি মিস্টিক্স’। 

আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডিতে অবস্থিত ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আলিয়ান্স ফ্রসেসের নুভেল ভ্যাগ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃটেনে দক্ষিণ এশীয় ধ্রুপদী শিল্পের শীর্ষ সংস্থা সৌধের প্রযোজনায় অনুষ্ঠিত এই গীতি-আলেখ্য গ্রন্থনা ও পরিচালনায় আছেন কবি টি এম কায়সার। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন দোতারা বাদক সাব্বির শাহ, ইতালিয়ান জ্যাজশিল্পী মার্থা, চিত্রশিল্পী তারেক আমিন, সরোদ বাদক রুম্মান। 

ভিক্টর হুগো থেকে পাঠ করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনাসিব কামাল। আলোক প্রক্ষেপণ, কবিতা ও সঙ্গীতের দৃশ্য-ভাষ্য রচনায় আছেন আলোকচিত্রী পাবলো খালেদ। 

সৌধ পরিচালক টি এম কায়সার জানান, বিশ্বের ধ্রুপদী শিল্পের প্রচার ও নতুন নতুন ভাষ্য নির্মাণে সৌধ গত ১৫ বছর থেকে বৃটেনের মূলধারার আর্ট-প্লাটফর্মে ভূমিকা রেখে চলেছে। আমরা কাফকার সাড়ম্বর সেন্টিনারি যেমন উদযাপন করেছি কাফকার সাহিত্যকর্মের নতুন প্রেক্ষিত অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে, ঠিক তেমনি এ বছর হুগো, গিন্সবার্গ বা সুকান্তকেও নতুন আলোয় দেখতে চাই অভিনব সব পরিবেশনা দিয়ে। 

তিনি আরো জানান, বৃটেনের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা ইউরোপ ভারত বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্রেও আমাদের বিচিত্র শিল্প-উপস্থাপনা মঞ্চস্থ করেছি। এই প্রক্রিয়া আরো নিয়মিত রাখতে চাই এবং আরো বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে চাই।

সালেক খোকনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নতুন বই ‘১৯৭১: রণাঙ্গনের লড়াই’ | কালের কণ্ঠ