• ই-পেপার

সিডনির লেকাম্বায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পথচারী গুরুতর আহত

সাউথ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের ৫ জনই নারায়ণগঞ্জের

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
সাউথ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের ৫ জনই নারায়ণগঞ্জের
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি সুপার শপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ছাড়া একজনের বাড়ি বক্তাবলী ইউনিয়নে এবং অপরজন মুন্সীগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন এলাকায় আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাতের প্রথম প্রহরে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে। 

আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী বলেন, নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা সবাই পরস্পরের আত্মীয়। দোকানটি আমাদের একটি পারিবারিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

তিনি আরো জানান, নিহতদের মধ্যে চারজন আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং একজন মুন্সীগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা। তাদের সবাই আত্মীয়স্বজন হওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

তবে এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো বার্তা পাইনি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ যোগাযোগ করেনি। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান তিনি বলেন, নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হামলার অভিযোগের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে।


 

বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাময়িক ভিসায় (ভিজিট ভিসা) কানাডায় যাওয়া ১৭৫ দর্শনার্থী রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম চেয়েছেন। ওই দর্শনার্থীদের মধ্যে আছেন ১০ জন বাংলাদেশিও।

‘ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা’ (আইআরসিসি)-র প্রকাশিত তথ্যের বরাতে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যে, বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৪৫টি ভিজিটর ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল। অত্যন্ত সীমিতসংখ্যক এই ভিসাধারীদের মধ্যে ১০ জনই কানাডায় পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মোট ভিসাপ্রাপ্তদের প্রায় ২২ শতাংশ বা প্রতি পাঁচজনে একজন ম্যাচ উপভোগের সুযোগকে স্থায়ীভাবে কানাডায় থেকে যাওয়ার বা অ্যাসাইলাম নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, মোট ১৭৫ জন দর্শনার্থী আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। টুর্নামেন্ট শেষে দেশটিতে থেকে যেতে চাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ঘানা, নাইজেরিয়া, সেনেগাল এবং আরো কয়েকটি দেশের নাগরিকরা রয়েছেন।

আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে কতজন ফুটবল খেলোয়াড়, কর্মকর্তা বা দলের সহায়তা প্রদানকারী কর্মী ছিলেন অভিবাসন বিভাগ তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ দর্শনার্থীদের মধ্যে ঘানার নাগরিকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক আশ্রয়ের আবেদন এসেছে; টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পর ২৫ জন ঘানার নাগরিক শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।

মিসর ও কলম্বিয়া থেকে ১৫টি করে আশ্রয়ের আবেদন এসেছে এবং সেনেগালের নাগরিকদের কাছ থেকে এসেছে ১০টি আবেদন। ইকুয়েডরের নাগরিকদের পক্ষ থেকে পাঁচটি আবেদন জমা পড়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, এমন কিছু দেশ থেকেও আশ্রয়প্রার্থীরা এসেছেন যাদের জাতীয় দল বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে ১৫ জন কেনিয়ান, ১০ জন চীনা নাগরিক, ১০ জন বাংলাদেশি ও ১০ জন নাইজেরিয়ান এবং বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তান থেকে পাঁচজন করে আবেদনকারী।

আইআরসিসি জানিয়েছে, ২০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত, ফিফা-সম্পর্কিত অস্থায়ী বসবাসের আবেদন অনুমোদিত ২৬ হাজার ১১১ জন ব্যক্তির মধ্যে ১৭৫ জন পরবর্তীতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।

কর্মকর্তারা জানান, কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আগেই সতর্ক করেছিল যে ফিফা টিকিটধারীদের কেউ যদি নিজ দেশে ফিরে না যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেন, তবে তাদের সীমান্তে আটকে দেওয়া হতে পারে; তবু শেষ পর্যন্ত এই ১৭৫ জনের অ্যাসাইলাম আবেদন আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও কানাডার স্থানীয় মহলে বড় ধরনের আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। যারা বিশ্বকাপ দেখতে এসেছিলেন, তাদের অ্যাসাইলাম আবেদনের সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি । এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্যারিসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
প্যারিসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর
সংগৃহীত ছবি

প্যারিসে ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল বাংলাদেশি প্রবাসীদের। সেই ভোগান্তি লাঘবে বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু করেছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। 

শনিবার (২৫ জুলাই) শুরু হওয়া এ উদ্যোগে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি প্রবাসী ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পন্ন করেন। তবে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সেবা আরো সহজ, দ্রুত ও প্রবাসীবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

সম্প্রতি ই-মেইলভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ দূতাবাস। নতুন এ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে সীমিতসংখ্যক স্লট উন্মুক্ত করা হলেও অনেক আবেদনকারী দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

একজন আবেদনকারী বলেন, ‘আমি গতকাল রাতে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারিনি। ওয়েবসাইটে বারবার ত্রুটি দেখাচ্ছিল।’

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ই-পাসপোর্ট আবেদনের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া এবং সাম্প্রতিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ২৫ জুলাই, ৮ ও ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর ফরাসি প্রশাসন বা প্রেফেচুরে রেসিডেন্স পারমিট-সংক্রান্ত নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে, তাদের ভোগান্তি কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে এফ এম শারহাদ শাকিল বলেন, ‘বিশেষ কনস্যুলার সেবার প্রথম দিনের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি ব্যক্তিকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিগত সময়ে যারা ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য ই-মেইল করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেসব আবেদন ও ই-মেইলের জবাবও সম্পন্ন করা হবে।’

ওয়েবসাইটে কারিগরি জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে সাময়িক কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা আইটি টিমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, যাতে সাইটটি আরো সহজ, কার্যকর ও প্রবাসীবান্ধব করা যায়।’

কনস্যুলার সেবায় জনবল সংকট রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দ্বিতীয় সচিব বলেন, ‘বৃহৎ প্রবাসী কমিউনিটির তুলনায় প্রায় সব দেশেই কনস্যুলার সেবায় জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা বিদ্যমান জনবল ও সক্ষমতা দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

শনিবারের বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরাও দূতাবাসকে সহায়তা করেন। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তারা সেবা কার্যক্রমকে আরো সুশৃঙ্খল ও দ্রুত সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখেন। দূতাবাসের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন উপস্থিত প্রবাসীরা।

সম্প্রতি ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাস বিশেষ কনস্যুলার সেবাসহ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তবে প্রবাসীদের মতে, শুধু বিশেষ কনস্যুলার সেবা নয়, দীর্ঘ মেয়াদে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরো নির্ভরযোগ্য ও ব্যবহারবান্ধব করতে হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কনস্যুলার সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
 

ড. ফয়েজ উদ্দিনের সাক্ষাৎকার

‘আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ’

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
‘আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ’

বাংলাদেশ যখন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার নতুন বাস্তবতা নিয়ে ভাবছে, তখন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে। যুক্তরাজ্যে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার, কমিউনিটি উন্নয়ন, শিক্ষা, পুলিশ-জনসম্পর্ক ও নীতিনির্ধারণে কাজ করা ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই মনে করেন, আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্থানীয় সরকারই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি। তিনি বিশ্বাস করেন, উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কালের কণ্ঠের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি নুরুল হক শিপুর সঙ্গে কথা বলেছেন।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ঘিরে আপনি কেন এত আশাবাদী?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে ওঠে শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের ওপর। উন্নত বিশ্বে নাগরিকের অধিকাংশ মৌলিক সেবা স্থানীয় সরকারই নিশ্চিত করে। বাংলাদেশেও যদি কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে জনগণের জীবনমান ও প্রশাসনিক দক্ষতা—দুই ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী পরিবর্তন সম্ভব।

কালের কণ্ঠ : যুক্তরাজ্যে আপনার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই।

ড. ফয়েজ উদ্দিন : বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে কাজ করার পর ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে আসি। এরপর বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় নীতি বাস্তবায়ন, কমিউনিটি নেতৃত্ব, বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সম্প্রীতি, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।

কালের কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কতটা কার্যকর হতে পারে?

ফয়েজ উদ্দিন এমবিই : প্রতিটি দেশের বাস্তবতা আলাদা, কিন্তু ভালো নীতির কোনো সীমান্ত নেই। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অনেক কার্যকর দিক বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রহণ করা সম্ভব। আমি মনে করি, অভিজ্ঞতা অনুকরণ নয়; বরং বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োগ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

কালের কণ্ঠ : কমিউনিটি পুলিশিং নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কী বলছে?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সময় দেখেছি, জনগণের আস্থা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা টেকসই হয় না। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূল শক্তি হচ্ছে জনগণকে অংশীদার হিসেবে দেখা। বাংলাদেশেও এই সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী করা সম্ভব।

কালের কণ্ঠ : শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আপনার কাজের ক্ষেত্র কতটা বিস্তৃত?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : নিউ হোপ গ্লোবাল এবং নিউ হোপ এডুকেশন সিআইসি-এর মাধ্যমে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছি। আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ।

কালের কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে আপনার গবেষণার মূল বক্তব্য কী?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : আমার গবেষণার মূল বিষয় হলো—প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, নাগরিক অংশগ্রহণ, ডিজিটাল সেবা এবং সুশাসন। আমি মনে করি, স্থানীয় সরকারকে যদি পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও জবাবদিহিতার কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত করা যায়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং জনসেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে নীতিগত আলোচনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু বলবেন?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে স্থানীয় সরকার আধুনিকায়ন, শিক্ষা, পুলিশ সংস্কার এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ খোঁজা।

8

কালের কণ্ঠ : আপনি দাবি করেন বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

ড. ফয়েজ উদ্দিন : হ্যাঁ, আমি সে ধরনের একটি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিলাম বলে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব বলেই আমি মনে করি।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কারে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : বিশ্বের বহু দেশ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক আধুনিকায়নে সফল হয়েছে। বাংলাদেশও যদি যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে, তাহলে নীতিনির্ধারণ আরো সমৃদ্ধ হবে।

কালের কণ্ঠ : যদি সরকার আপনাকে স্থানীয় সরকার সংস্কার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : আমি এটিকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নয়, দেশের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে দেখব। আমার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং কর্মজীবনের শিক্ষা যদি বাংলাদেশের মানুষের উপকারে আসে, সেটিই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

66

কালের কণ্ঠ : নতুন প্রজন্মের জন্য আপনার বার্তা কী?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : পৃথিবীর যেখানেই থাকুন, নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর মানসিকতা রাখতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শুধু সরকারের নয়, দেশের প্রতিটি মেধাবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে দক্ষতা, সততা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব।