বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায্য বিচার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পার্লামেন্টে আলোচনার পর এবার অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে আলোচনায় উঠে এসেছে। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের পার্লামেন্টে এমএলসি স্টিফেন লরেন্সের আলোচনার পর সম্প্রতি ফেডারেল পার্লামেন্টে এমপি জেমি চ্যাফি এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার এই দুই সংসদ সদস্যই মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
জানা গেছে, এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমএলসি স্টিফেন লরেন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য ও আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের আটক থাকার বিষয়টি তার নজরে এনেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আটক থাকার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘যেকোনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।’
পরবর্তীতে ২ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে বক্তব্য দেন দেশটির বিরোধী দলীয় এমপি জেমি চ্যাফি। তিনি বলেন,‘যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, সেখানে নীরব না থেকে বিষয়টি তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেটি আমাদের দেশেই হোক কিংবা বিশ্বের অন্য যেকোনো প্রান্তে। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যরা ব্যারিস্টার সুমনের আটক থাকার বিষয়টি তার নজরে এনেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি ফেডারেল পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন।
চ্যাফি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীন, স্বচ্ছ ও ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের মৌলিক নীতিগুলো সমুন্নত রাখা প্রতিটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’
অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি অংশের উদ্যোগে বিষয়টি দেশটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসে। এরপর তা এনএসডব্লিউ পার্লামেন্ট এবং ফেডারেল পার্লামেন্টে আলোচনায় ওঠে। কমিউনিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেন।
এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টের এমএলসি স্টিফেন লরেন্স এবং ফেডারেল এমপি জেমি চ্যাফির বক্তব্যে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায্য বিচারের বিষয়টিই প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে। তারা কোনো বিচারাধীন মামলার ফলাফল বা আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করেননি। বরং বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি, আইনের শাসন ও ন্যায্য বিচারের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে পার্লামেন্টে দেওয়া এসব বক্তব্য এর বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এগুলোকে এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টের এমএলসি স্টিফেন লরেন্স এবং অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টের এমপি জেমি চ্যাফির সংসদীয় বক্তব্য, হিসাবে সরকারি পার্লামেন্টারি কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে এমন আলোচনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি অংশ এসব বিষয়কে মানবাধিকার ও ন্যায্য বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল এমপি জেমি চ্যাফি এবং এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টের এমএলসি স্টিফেন লরেন্সের বক্তব্যে মূলত মানবাধিকার, ন্যায্য বিচার এবং আইনের শাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তারা বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।




