• ই-পেপার

মালয়েশিয়ায় ১১৩ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

শিপন আহমদ, (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট ভবন।

বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায্য বিচার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পার্লামেন্টে আলোচনার পর এবার অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে আলোচনায় উঠে এসেছে। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের পার্লামেন্টে এমএলসি স্টিফেন লরেন্সের আলোচনার পর সম্প্রতি ফেডারেল পার্লামেন্টে এমপি জেমি চ্যাফি এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার এই দুই সংসদ সদস্যই মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জানা গেছে, এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমএলসি স্টিফেন লরেন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য ও আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের আটক থাকার বিষয়টি তার নজরে এনেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আটক থাকার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘যেকোনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।’

পরবর্তীতে ২ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে বক্তব্য দেন দেশটির বিরোধী দলীয় এমপি জেমি চ্যাফি। তিনি বলেন,‘যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, সেখানে নীরব না থেকে বিষয়টি তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেটি আমাদের দেশেই হোক কিংবা বিশ্বের অন্য যেকোনো প্রান্তে। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যরা ব্যারিস্টার সুমনের আটক থাকার বিষয়টি তার নজরে এনেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি ফেডারেল পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন।

চ্যাফি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীন, স্বচ্ছ ও ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের মৌলিক নীতিগুলো সমুন্নত রাখা প্রতিটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি অংশের উদ্যোগে বিষয়টি দেশটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসে। এরপর তা এনএসডব্লিউ পার্লামেন্ট এবং ফেডারেল পার্লামেন্টে আলোচনায় ওঠে। কমিউনিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেন।

এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টের এমএলসি স্টিফেন লরেন্স এবং ফেডারেল এমপি জেমি চ্যাফির বক্তব্যে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায্য বিচারের বিষয়টিই প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে। তারা কোনো বিচারাধীন মামলার ফলাফল বা আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করেননি। বরং বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি, আইনের শাসন ও ন্যায্য বিচারের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে পার্লামেন্টে দেওয়া এসব বক্তব্য এর বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এগুলোকে এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টের এমএলসি স্টিফেন লরেন্স এবং অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টের এমপি জেমি চ্যাফির সংসদীয় বক্তব্য, হিসাবে সরকারি পার্লামেন্টারি কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে এমন আলোচনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি অংশ এসব বিষয়কে মানবাধিকার ও ন্যায্য বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল এমপি জেমি চ্যাফি এবং এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টের এমএলসি স্টিফেন লরেন্সের বক্তব্যে মূলত মানবাধিকার, ন্যায্য বিচার এবং আইনের শাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তারা বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারির সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারির সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. মাহফুজুল হক (৪৩) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের মতে, ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকায় খাবার ডেলিভারির সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাহফুজুল হক যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ‘ডোরড্যাশ’র কর্মী ছিলেন। তিনি ফুড ডেলিভারি বা বাড়িতে বাড়িতে অনলাইন গ্রাহকদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন।

ঘটনাস্থল থেকে চালু অবস্থায় থাকা তার গাড়ি, ডোরড্যাশের-এর ডেলিভারি ব্যাগ এবং রাইফেলের ব্যবহৃত দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মুখোশধারী তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেখানকার পুলিশ।

ছয় মাসে সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছেছেন ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক
ছয় মাসে সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছেছেন ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি
সংগৃহীত ছবি

চলতি বছর সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এরমধ্যেও সমুদ্রপথে ইউরোপের দেশটিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। খবর ইনফোমাইগ্রেন্টস

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের মোট ১৪ হাজার ৬২৩ জন অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছেন বাংলাদেশ থেকে। এ সময়ে ৪ হাজার ৩১৪ জন বাংলাদেশি ইতালিতে পৌঁছেছেন, যা মোট আগত অভিবাসীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোমালিয়া (১,৭০২ জন)। এরপর রয়েছে সুদান (১,৩৭১), পাকিস্তান (১,১৮৫), আলজেরিয়া (১,১০৬), মিশর (৯৩৬), ইরিত্রিয়া (৬৬২), টিউনিশিয়া (৬২৬), মালি (৩১০), নাইজেরিয়া (২৯১), আইভরি কোস্ট (২১৬), ইথিওপিয়া (১৯৯), ইরান (১৮৩), দক্ষিণ সুদান (১৮০) এবং গিনি (১৭৯)। 

এছাড়া বিভিন্ন দেশের আরও ১ হাজার ১৬৩ জন অভিবাসী রয়েছেন, যাদের মধ্যে পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত।

চলতি বছরের একই সময়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমুদ্রপথে ইতালিতে অভিবাসীদের আগমন গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ইতালিতে পৌঁছেছিলেন ৩১ হাজার ৪৩০ জন অভিবাসী। ২০২৪ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৬৬৪ জন। চলতি বছরের একই সময়ে পৌঁছেছেন ১৪ হাজার ৬২৩ জন, যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কম।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিটি মাসেই মোট অভিবাসীর সংখ্যা আগের দুই বছরের তুলনায় কম ছিল। জানুয়ারিতে ১ হাজার ৪৫৭, ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ৫১০, মার্চে ২ হাজার ১৫০, এপ্রিলে ২ হাজার ৪৫৯, মে মাসে ৩ হাজার ৫৪ এবং জুনে ২ হাজার ৭৫৮ জন সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছেছেন।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব তথ্য ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত নথিভুক্ত সমুদ্রপথে আগমনের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে পরিসংখ্যানে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি
সংগৃহীত ছবি

লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপোলিস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের ফ্লাইট যোগে তারা বাংলাদেশে ফিরেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এদের মধ্যে বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে মানবপাচারকারীদের দ্বারা অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচ, কিছু খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ১১৩ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার | কালের কণ্ঠ