• ই-পেপার

সংবিধানে আসছে পরিবর্তন

চট্টগ্রাম-পার্বত্য অঞ্চলের বন্যা মোকাবেলার দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী অমিত, প্রজ্ঞাপন জারি

বাসস
চট্টগ্রাম-পার্বত্য অঞ্চলের বন্যা মোকাবেলার দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী অমিত, প্রজ্ঞাপন জারি

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলায় সাম্প্রতিক বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিমন্ত্রীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বের আওতায় তিনি বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে মজুত ত্রাণসামগ্রী এবং চলমান উদ্ধার কার্যক্রম মূল্যায়ন করবেন। 

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও পরামর্শ প্রদান করবেন।

এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন, ত্রাণসামগ্রীর পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তদারকি এবং বন্যা পরিস্থিতি ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে নিয়মিত সরকারকে অবহিত করার দায়িত্বও পালন করবেন তিনি।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো ৯০টি দেশে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপিত হয়। এরই ধারবাহিকতায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আগামীকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও প্রাইভেট চ্যানেলগুলো বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে গুরুত্ব প্রদান ও জরুরি মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ঢাকাসহ ১৮ জেলার জন্য আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকাসহ ১৮ জেলার জন্য আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৮টি জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্রবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। 

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

অর্থ ব্যয়ে বাড়ছে নজরদারি, দপ্তরে দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

অনিয়ম-দুর্নীতি, অপচয় ও দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনার লাগাম টানতে কঠোর সরকার। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যয় এবং কেনাকাটায় যাচাইবাছাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নয়ন-অনুন্নয়ন ব্যয় এবং কেনাকাটা তদারকি করতে বলা হয়েছে। গুরুতর অভিযোগ পেলে প্রকল্প পরিচালকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরম্যান্ট অ্যাক্ট কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থবিভাগ সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধু ব্যয় কমানো নয়-দুর্নীতির সুযোগ সংকুচিত করা, অপচয় বন্ধ করা এবং আর্থিক খাতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে বলে মনে করে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অতীতে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই ছাড়াই ব্যয় অনুমোদন, অতিমূল্যে পণ্য ও সেবা ক্রয়, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যয়ের আগে প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা, বাজারদর, বিকল্প ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ফলাফল মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের ব্যয়ে একাধিক স্তরে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে দুর্নীতির বড় ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য দরপত্র মূল্যায়ন, সরবরাহকারীর সক্ষমতা যাচাই, বাজারমূল্য বিশ্লেষণ এবং নির্ধারিত আর্থিক বিধি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, আর্থিক তদারকি এবং ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃচ্ছ্রসাধনের চেয়ে বড় বিষয় আর্থিক খাতের শাসনব্যবস্থা বা আর্থিক খাতের সুশাসন শক্তিশালী করা। অর্থনীতিবিদ ড. জাহির হোসেন বলেন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়বে এবং জনসাধারণের করের অর্থ আরও সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আর্থিক খাতের সংস্কার তখনই সফল হবে, যখন একই নিয়ম সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে কার্যকর হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে শুধু রাজস্ব বাড়ালেই হবে না; ব্যয় ব্যবস্থাপনাও শৃঙ্খলায় আনতে হবে। সেই লক্ষ্যেই সরকারি অর্থ ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, দুর্নীতির সুযোগ সীমিত করা এবং দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থবিভাগ মনে কওে এ উদ্যোগ কেবল সাময়িক কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি হয়ে থাকবে না; বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন সংস্কৃতির সূচনা করবে। প্রতিটি ব্যয় হবে প্রয়োজনভিত্তিক। প্রতিটি কেনাকাটা হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। এতে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারের সংস্কার কর্মসূচিও গতিশীল হবে। গত ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সীমিত করার পাশাপাশি সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন ব্যয়ে আরও কঠোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা আপাতত স্থগিত থাকবে। সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর সীমিত করা হয়েছে। পরিচালন বাজেট থেকে নতুন ভবন নির্মাণও বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব প্রকল্পের কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেগুলো বিশেষ অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য-এসব সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়; বরং অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।