• ই-পেপার

ছয়দিন পর আজ আবার বসছে সংসদ

আর্থিকসংকটে নতুন পে স্কেলে কাটছাঁট, তিন ধাপে বাস্তবায়নের ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক
আর্থিকসংকটে নতুন পে স্কেলে কাটছাঁট, তিন ধাপে বাস্তবায়নের ভাবনা

আর্থিক সংকটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত নতুন পে স্কেলের রূপরেখা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারছে না সরকার। ফলে প্রস্তাবিত কাঠামোয় কিছু কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে নতুন পে স্কেল একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে এ বিষয়ে সচিব কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আরো অন্তত দুটি বৈঠক প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপরই সুপারিশ অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারের অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে যাচ্ছে সচিব কমিটি। যদিও এতে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে এসব সমস্যা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার সুপারিশও থাকবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর হয়েছে ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই তারিখ থেকেই বেতন-ভাতার আর্থিক সুবিধা পাবেন। তবে বাস্তব অর্থ পরিশোধ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হতে পারে।

এ বিষয়ে সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, সচিব কমিটি এখনো তাদের সুপারিশমালা জমা দেয়নি। তাদের হয়তো আরো কিছু সময় প্রয়োজন। 

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি হয়তো এক বা দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সচিব কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। প্রয়োজন হলে তিন ধাপেও বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

এদিকে নতুন অর্থবছর শুরু হলেও এখনো নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, নতুন পে স্কেল ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।

কিন্তু গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বাস্তবায়নের ধরন, বেতন কাঠামো এবং ভাতাসংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা এখন আর সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পান না।

দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার খবর কী

অনলাইন ডেস্ক
দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার খবর কী

বিশ্বের অনেক শহরের মতো রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। তবে সবশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, শহরটির বাতাসের মান জনস্বাস্থ্যের জন্য মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

আইকিউএয়ারের তথ্য থেকে জানা গেছে, সকালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার স্কোর ৮৪। এই স্কোর অনুযায়ী, বায়ুর মান মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। এ সময় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৯তম।

একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৭৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। এ ছাড়া ১৬৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, ১৬১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, ১৪০ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসার স্কোর ১৩৪।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

সৌদিতে বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
সৌদিতে বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা

সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে নিজ উদ্যোগে আটক রাখা বা শারীরিক নির্যাতন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে দূতাবাস।

সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় দূতাবাস।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত বলে সন্দেহ হলে বা কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি সেবার হটলাইন নম্বর ৯৯৯ অথবা ৯১১-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাস আরো জানায়, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও কাউকে নিজেরা আটক রাখা বা শারীরিকভাবে নির্যাতন করা সৌদি আরবের আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে স্থানীয় আইন মেনে চলা এবং এ ধরনের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

অনলাইন ডেস্ক
‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) শুধু শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবে কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী এবং ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।’

কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নিজের স্কুলজীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। বর্তমানে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মোট শিশুর মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশের চাহিদা পূরণ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এর ফলে অনেক শিশু প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশ শিশুদের জ্ঞানীয় ও সামাজিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে ‘

দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের মানবিক ও কঠিন দায়িত্ব পালনের কারণে অসংখ্য কর্মজীবী মা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন এবং শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই সততা, নিষ্ঠা, শান্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীরা একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগও সৃষ্টি করছেন।’

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), সকাল ১১টায় ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং সাড়ে ১১টায় পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।