• ই-পেপার

যে কারণে জুলাই থেকে শুরু হয় অর্থবছর

বাজেট

১০০ শতাংশ কর মওকুফ হচ্ছে যেসব খাত

অনলাইন ডেস্ক
১০০ শতাংশ কর মওকুফ হচ্ছে যেসব খাত

প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা কমাতে বেশ কিছু খাতে ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতি ও শুল্ক মওকুফের ঐতিহাসিক প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। কর মওকুফের এ বড় ঘোষণার মধ্যে রয়েছে ভোজ্য তেল উৎপাদন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথম ৫ বছর ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় দেশীয় শিল্প এবং জনকল্যাণমূলক সেবায় এই বড় ছাড়ের ঘোষণা দিতে পারেন।

বাড়তি বরাদ্দ নেই বাজেটে, তবু সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুসংবাদ পরবর্তী ৩ বছর ৫০ শতাংশ এবং তার পরের ২ বছর ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা। অর্থাৎ ভোজ্য তেল খাতে দীর্ঘ ১০ বছরের জন্য কর ছাড়ের একটি বড় সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বাজেটে।

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর হারের প্রস্তাব করা হতে পারে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব ধরনের শুল্ক ও কর ১০০ শতাংশ মওকুফ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটাতে এবং তরুণদের উৎসাহিত করতে বাজেটে প্রতিটি মোবাইল সিম কার্ডের ওপর থাকা ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণরূপে (১০০ শতাংশ) প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ আরো সাশ্রয়ী হবে।

এ ছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি এবং ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও প্রিন্টার আমদানিতেও সমুদয় শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হচ্ছে, যা প্রতিটি ডায়ালিসিসের ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা কমিয়ে দেবে।

এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য ২১ ধরনের সহায়ক যন্ত্রপাতির আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম কর ১০০ শতাংশ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

ভূমি কর্মকর্তাদের জন্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

বাসস
ভূমি কর্মকর্তাদের জন্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

ভূমি উন্নয়ন কর আদায় জোরদার করতে ভূমি উন্নয়ন কর (এলডি ট্যাক্স) সিস্টেমে জমা থাকা হোল্ডিং খোলার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে তিন পার্বত্য জেলাকে এ নির্দেশনার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেমে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার নাগরিকের হোল্ডিং খোলার আবেদন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ফলে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, কোনো সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ ছাড়া নাগরিকদের হোল্ডিং খোলার আবেদন বাতিল করা যাবে না।

আবেদন অনুমোদনযোগ্য না হলে, বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ উল্লেখ করতে হবে, যাতে আবেদনকারী নাগরিকরা সিদ্ধান্তের কারণ জানতে পারেন।

ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে, যেসব ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হোল্ডিং খোলার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য বরাদ্দ থাকছে কত?

অনলাইন ডেস্ক
বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য বরাদ্দ থাকছে কত?

দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) আংশিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা চললেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অন্য খাতের থোক বরাদ্দ ও অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাবদ সংরক্ষিত অর্থ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে।

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে—

  • ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন—১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা
  • কর্মচারীদের বেতন—৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা
  • বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাবদ—৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মূল বেতন বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত পে কমিশন যে সুপারিশ করেছিল, তা সরাসরি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।

এদিকে পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি সচিব কমিটি গঠন করেছে। কমিটি এখনো তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সচিব কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমিয়ে সংশোধিত প্রস্তাব দিতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থসংকট বড় বাধা হবে না। মন্তণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজেটে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য সংরক্ষিত অর্থও রয়েছে। প্রয়োজন হলে এসব উৎস থেকেই নতুন পে স্কেলের ব্যয় নির্বাহ করা হবে।

ফলে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ না থাকলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন আগামী জুলাই মাস থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন

মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।